শনিবার, ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কানাডার ‘এপ্রোভাল’ পেয়েও ভিসা নিয়ে শঙ্কা

কানাডার ভিজিটর ভিসার জন্য সপরিবারে আবেদন করেছিলেন সিলেট নগরীর মেজরটিলার আবুল কাশেম। গত ৫ ডিসেম্বর তার ভিসা এপ্রোভালের ইমেইল এসেছে। ৩০ দিনের মধ্যে তাকে ‘ভিএফএস গ্লোবাল’র যে কোন সেন্টারে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। আর এই সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট জমা দিতে না পারলে তার এপ্রোভাল বাতিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ কানাডা ভ্রমণের সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করতে হবে তাকে। কিন্তু গতকাল ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবুল কাশেম দেশের কোন ভিএফএস সেন্টারে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার তারিখ কনফার্ম করতে পারেননি।

এই অবস্থা শুধু আবুল কাশেমের নয়। সিলেটের কয়েক শ’ আবেদনকারীর অবস্থা একই। ‘এপ্রোভাল’ পাওয়ার পরও কেবলমাত্র ভিএফএস’র তারিখ না পাওয়ায় কানাডার ভিসা প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে। একইভাবে অনেক আবেদনকারী অনলাইলে ভিসা আবেদন করার পর বায়োমেট্রিকের জন্য ভিএফএস গ্লোবালের তারিখ পাচ্ছেন না। আবেদনের ৩০ দিনের মধ্যে বায়োমেট্রিক দিতে না পারলে আবেদন ও ফি দুটোই বাতিল হয়ে যাবে। তাই অনেকে বাধ্য হয়ে দেশের বাইরে গিয়ে পাসপোর্ট জমা ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

জানা গেছে, গেল বছরের শেষের দিক থেকে কানাডার ভিজিটর ভিসা নীতি অনেকটা শিথিল করা হয়। ভ্রমণকারীদের স্বাগত জানায় কানাডা। তাই অনেকে সপরিবারে আবেদন করে পেয়ে যান কানাডার ভিজিটর ভিসা। প্রথম থেকেই এই সুযোগ নিয়ে আসছিলেন সিলেটের লোকজন। গেল এক বছরে সিলেটের কয়েক হাজার লোক পেয়েছেন কানাডার ভিজিটর ভিসা। এর মধ্যে অনেকে পাড়ি জমিয়েছেন কানাডায়। এদের মধ্যে কেউ কেউ কানাডায় গিয়ে সেদেশের সরকারের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে আবেদন করেছেন। চেষ্টা করছেন সপরিবারে কানাডায় স্থায়ী হওয়ার। সচেতন মহল মনে করছেন কানাডায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার খুবই ছোট। যারা ভিজিটর ভিসা নিয়ে কানাডায় স্থায়ী হওয়ার আবেদন করেছন, তারা স্থায়ী হতে পারলে ভবিষ্যতে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে।

ভিজিটর ভিসা নীতি শিথিল হওয়ায় এবং অনেকের ভিসা হওয়ায় সিলেটে এখন চলছে কানাডা যাওয়ার উৎসব। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই আলোচনায় ‘কানাডার ভিসা’। ভিসা আবেদনের জন্য প্রতিদিনই আগ্রহীরা ভিড় করছেন বিভিন্ন এজেন্সিতে। শুধুমাত্র সিলেট নগরীতেই শতাধিক প্রতিষ্ঠান কানাডার ভিসা আবেদন প্রসেসিং করছে। প্রতিদিনই এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করে অনেকেই স্বপ্নের ভিসার দেখা পাচ্ছেন। দিন দিন আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়ায় বাড়ছে বিড়ম্বনাও। আগে যেখানে অনলাইনে আবেদনের ৩-৪ দিন পরই মিলতো বায়োমেট্রিকের তারিখ। ভিএফএস সিলেট সেন্টারে গিয়ে কোন ধরণের ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই আবেদনকারীরা বায়োমেট্রিক দিয়ে আসতে পেরেছেন। একইভাবে ভিসা এপ্রোভালের ইমেইল আসলে সপ্তাহ দিনের মধ্যেই মিলতো পাসপোর্ট জমা দেয়ার তারিখ। কিন্তু আবেদনকারী বেড়ে যাওয়ায় এখন না মিলছে বায়োমেট্রিকের, না মিলছে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার তারিখ। গেল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ভিএফএস’র সার্ভার প্রায়ই ডাউন হচ্ছে। সার্ভার সচল থাকলেও সিলেট সেন্টারে বায়োমেট্রিক কিংবা পাসপোর্ট জমা দেওয়ার তারিখ পাচ্ছেন না। সিলেটে না পেরে অনেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ভিএফএস সেন্টারে যাচ্ছেন। কিন্তু গেল দু’সপ্তাহ ধরে দেশের কোন সেন্টারেই বায়োমেট্রিক কিংবা পাসপোর্ট জমা দিতে পারছেন না কেউই। মাঝে মধ্যে কিছু সময়ের জন্য সার্ভার সচল হলে কেউ কেউ ‘ডেট’ নিতে সক্ষম হচ্ছেন। তবে বেশিরভাগ আবেদনকারী ঝুলে আছেন ভিএফএস’র তারিখের জন্য।
এদিকে, দেশে পাসপোর্ট জমা দিতে না পেরে অনেকে এখন বাইরে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, দুবাই ও সৌদিআরব গিয়ে ভিএফএস সেন্টারে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে।

নগরীর মজুমদারী এলাকার সালেহ আহমদ শান্ত জানান, তিনি ‘এপ্রোভাল’ পাওয়ার পর ১০ দিন চলে গেছে। কিন্তু এখনো দেশের কোন ভিএফএস সেন্টারে ‘ডেট’ পাননি। তাই নেপালে গিয়ে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ট্রাভেলভিউ এর সহকারী ব্যবস্থাপক সালাহ উদ্দিন আহমদ জানান, প্রতিদিনই তাদের প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ‘ভিসা এপ্রোভাল লেটার’ আসছে। কিন্তু পাসপোর্ট জমা দেওয়ার তারিখ মিলছে না। এছাড়া যারা নতুন আবেদন করছেন তারাও বায়োমেট্রিকের তারিখ পাচ্ছেন না। এনিয়ে পুরো ভজঘট অবস্থা বিরাজ করছে। ভিএফএস সেন্টারগুলো প্রতিদিন যে সংখ্যক বায়োমেট্রিক ও পাসপোর্ট গ্রহণ করছে তার সংখ্যা না বাড়ালে অনেকের আবেদন ও এপ্রোভাল বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অনলাইন ডেস্ক :

সংশ্লিষ্ট সংবাদ