শনিবার, ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

জগন্নাথপুরে শীতের মৌসুমে সবজির দাম লাগামহীন : প্রশাসন নিরব। 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জগন্নাথপুরে শীতের মৌসুমে সবজি বাজারে দিগুণ বেড়েছে মৌসুমের সবজির দাম। শীত অনুযায়ী সবজির দাম কমে; কিন্তু এবার শীতের ভরা মৌসুমেও সুনামঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরশহর ও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে সবজির দাম লাগামহীন।

ফলে বিপাকে পড়ে ‘সীমিত’ বাজার করছেন মধ্য আয়ের মানুষেরা।এই বিষয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে নিম্ন আয়ের অনেক ক্রেতা কোনোভাবেই দিনাতিপাত করছেন। যেন নুন আনতে পান্তা ফুরায়। জগন্নাথপুর উপজেলার খুচরা সবজি বিক্রেতারা জানান, হেমন্তের শেষ দিকে এসে হঠাৎ বৃষ্টিপাতের কারণে সবজি বাজারে প্রভাব পড়েছে। এমতাবস্থায় প্রতিদিন শাক-সবজি সিলেট অঞ্চল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী হচ্ছে। তবে বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

জগন্নাথপুর উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র জগন্নাথপুর বাজার ঘুরে দেখে গেছে,বাজারে সবজির মধ্যে নতুন আলুর ছড়াছড়ি থাকলেও দাম কমছে না। ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে নতুন আলু আর পুরাতন আলু ৬৫ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৩০-৪০ টাকা , শিম প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকা, কদু লাউ প্রতি পিস ৮০-১০০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা, গাঁজর প্রতি কেজি ১২০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লাল শাক প্রতি আঁটি ১৫-২০ টাকা, বাঁধা কপি প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকা, ফুলকপি প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিস ১০০-১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া উপজেলার কলকলিয়া বাজার, রানীগঞ্জ বাজার, রসুলগঞ্জ বাজার, ভবের বাজার, সৈয়দপুর বাজার ঘুরে দেখা যায় একই দৃশ্য।

এমতাবস্থায় প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার বিত্তশালীরা কমবেশি বাজার করতে পারলেও বিপাকে পড়েছেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। পরিবারের প্রতিদিনের দু’ বেলা খাবার জোগান দিতেই হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।

জগন্নাথপুর বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা সজল রায় জানান, ব্যবসার পরিধি সীমিত থাকায় স্থানীয় আড়ৎদারের কাছ থেকে ক্রয় করে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে থাকি। তবে বিকিকিনি ভালো থাকলে মাঝেমধ্যে সিলেটের চালিবন্দর, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ গিয়ে কাঁচামাল ক্রয় করি।

সবজি ব্যবসায়ী আকাসুন হক বলেন, সম্প্রতি সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এমতাবস্থায় সবজির সংকট থাকায় প্রতিদিন সিলেট অঞ্চলের অধিকাংশ সবজি রাজধানী ঢাকায় চলে যায়। তাই আমরা বেশি মূল্যে জগন্নাথপুর বাজারে আড়ৎদার ছাড়া ও সিলেটের চালিবন্দর, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ ও বাহুবল থেকে সবজি ক্রয় করছি।

সবজি ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, শীত মৌসুমে বাজারে সবজির চাহিদা প্রচুর থাকলে সবজি সংকট রয়েছে। তাই দিনদিন বাড়তি দামে আড়ৎদারদের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করছি।

জগন্নাথপুর বাজারের সবজি আড়ৎদার সেলন ভান্ডারি জানান, হেমন্তের শেষের দিকে বৃষ্টিতের কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শাক- সবজির দাম বাড়ছে। এমতাবস্থায় প্রতিদিন সিলেট অঞ্চলের সবজি রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে চলে যাচ্ছে। তাই স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। তবে স্থানীয়ভাবে কিছু সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে এগুলো বাজারে চলে এলে আশা করা যায় দাম কিছুটা নেমে আসবে৷

তবে ভরা মৌসুমে সবজির দাম চড়া থাকায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। ক্রেতাদের দাবি এই ভরা মৌসুমে সবজি বাজারেও সিন্ডিকেট কাজ করছে। তাই বাজার মনিটরিং করে ক্রেতাদের ক্ষয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার দাবি জানান তারা।

জগন্নাথপুর বাজারের আয়ুবের্দিক চিকিৎসক ডাঃ শাহীন আলম বলেন, সবজির ভরা মৌসুমে দিনদিন দাম বেড়েই চলছে। সম্ভবত এর পেছনে সিন্ডিকেট কলকাঠি নাড়ছে। এমতাবস্থায় আমরা মধ্যবিত্তরা অসহায়। তাই বাজার মনিটরিং করে ক্রেতাদের ক্ষয়ক্ষমতায় নিয়ে আসা আবশ্যক।

জগন্নাথপুর পৌর শহরের ৬ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা বাবুল দাশ বলেন, অতীতে শীত মৌসুমে সবজির দাম কমে কিন্তু এ বছর দিনদিন বাড়ছে। তাই মধ্য ও নিম্ম আয়ের ক্রেতাদের ক্ষয়ক্ষমতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন,অচিরেই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ