সোমবার, ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

শান্তিগঞ্জে এমপির ছেলে চেয়ারম্যান প্রার্থী, দলে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া

সংসদ স্থানীয় সদস্য এম এ মান্নানের ছেলে সাদাত মান্নান অভি

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নির্দেশ ছিল দলীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্য কিংবা নিকটাত্মীয়দের প্রার্থী না হওয়ার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মান্নানের ছেলে সাদাত মান্নান অভি।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে সাদাত মান্নান অভিসহ ১৩ জন প্রার্থী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন পদে লড়তে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আগামী ৫ জুন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা। তিনি বলেন, ‘শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ১৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী কাজ করছি। অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’

সুনামগঞ্জ-৩ আসন (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) থেকে এম এ মান্নান টানা চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি ২০০৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যুজনিত কারণে ২০০৫ সালের সুনামগঞ্জ-৩ আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। তিন বছর পর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জয়ী হন। তাছাড়া ২০১০ এবং ২০১৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্যও নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন। সবশেষ ২০২৪ সালের (৭ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এম এ মান্নান।

সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রীর ছেলে সাদাত মান্নান অভি শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। পূর্বে তিনি যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে তিনি দেশে ফেরেন। এখন নিজ উপজেলায় জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবা করতে চান। দীর্ঘকাল বিদেশে জীবনযাপন করে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় দলের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে অসন্তুষ্ট। অভি এতদিন অন্য দেশে ছিলেন। তিনি আবার উপজেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি। আমরা দেখছি, অনেক দিন থেকে দল করেন এমন কয় জন নির্বাচনের জন্য মাঠে আছেন। তারপরও দলের নির্দেশনা দেওয়া আছে কিন্তু সেটাও তারা মানছেন না। বড়রা যদি দলের নিয়ম না মানে তাহলে সাধারণ কর্মীরা তাদের থেকে কী শেখবে? দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করা মোটেও উচিৎ হয়নি।’

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম রাইজিংবিডি-কে বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিশ্বাস করি এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্ব মানি। শেখ হাসিনা যা বলেন, আমরা তা মনে করি আদেশ। আমি আশা করেছিলাম, এম এ মান্নানকে নেত্রী দুই বার মন্ত্রী করেছেন ও নির্বাচনের জন্য চার বার মনোনয়ন দিয়েছেন। এম এ মান্নান হয়ত সামান্য ( উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী) বিষয় ত্যাগ করবেন। কিন্তু দেখা গেল, তিনি দলীয় প্রধানের নির্দেশ অমান্য করে নিজের ছেলেকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী করেছেন।’

এ ব্যাপারে শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিতাংশু শেখর ধর সিতু রাইজিংবিডি-কে বলেন, ‘উনাকে (সাদাত মান্নান অভি) জনগণ চাচ্ছে, উনি চেয়ারম্যান হলে এলাকার উন্নয়ন হবে, এরজন্য জনগণের চাপে তিনি নির্বাচনে আসছেন। বর্তমানে তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি পদে আছেন।’

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে বা সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি থেকে নির্দেশনা আসলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবো। কারণ আমাদের আগে দলের নির্দেশ মানতে হবে।’

রোববার (১৩ মে) বিকালে সাদাত মান্নান অভির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুই ঘণ্টা পরে এ ব্যাপারে কথা বলবেন। কিন্তু দুই ঘণ্টা পর থেকে পর দিন দুপুর পর্যন্ত একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে, সাদাত মান্নান অভির সঙ্গে ভোটে লড়তে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বুরহান উদ্দিন দোলন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ রুকনুজ্জামান রুকন, উপজেলা যুব জমিয়তের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর খাঁন, মোশাররফ হোসেন জাকির, শ্রমিকলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দোলন রানী তালুকদার, মোছা. রফিকা মহির, খাইরুন নেছা, নাজমা আক্তার ও জেসমিন আক্তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, চতুর্থ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মনোনয়ন ফরম দাখিল করার শেষ দিন ৩টি পদে ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই করা হয়েছে ১২ মে। মনোনয়ন ফরম প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৯ মে। প্রতীক বরাদ্দ ২০ মে এবং ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৫ জুন।

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :

সংশ্লিষ্ট সংবাদ