jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৪ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» ছাতক দক্ষিণ ছৈলা আফজালাবাদ ইউনিয়নে তালামীযের কাউন্সিল সম্পন্ন «» জগন্নাথপুরে আল্লামা ইমাদ উদ্দিন ভূট্টো (রহঃ) স্মৃতি পরিষদের আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্টিত «» জগন্নাথপুরে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৯ «» সিলেট নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ «» পাগলা মসজিদের দানের বাক্স থেকে ১ কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা পাওয়া গেছে «» কাউন্সিল ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে বিএনপি «» সবার জন্য কাজ করবো- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা «» জগন্নাথপুর পৌর শহরে আবারো জন ভোগান্তি «» জগন্নাথপুরে মীরপুর ইউনিয়নে প্রবাসীদের অর্থায়নে মহিলা মাদ্রাসার শুভ উদ্বোধন «» জগন্নাথপুরের ড. সফি অাহমদ সড়ক দুর্ঘটনায় অাহত


কোরআনের আলোকে মুমীনের গুণাবলি

সফল মুমিনের নিজস্ব পরিচয় আছে। স্বকীয়তা আছে। আছে গুণাবলি। আল্লাহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে সফল মুমিনের বিবরণ তুলে ধরেছেন।

 

কোথাও সফল মুমিনের পরিচয় দিয়েছেন এক কথায়,

قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى

তরজমা : ‘যে তার আত্মাকে পবিত্র করেছে, সে সফলকাম হয়েছে’ (সূরা আ‘লা:১৪)

কোথাও আবার দীর্ঘ বর্ণনায় নানা গুণাবলি উল্লেখ করেছেন। এরূপ একটি স্থান হলো সূরা মুমিনুনের প্রথম দিকের কতগুলো আয়াত। এসব আয়াতে একজন সফল মুমিনের সম্পূর্ণ গুণাগুণ উল্লেখ করেছেন। আরো স্পষ্ট করে বলা যা, এসব আয়াতে আল্লাহ সফল ও সার্থক মুমিনের পরিচয় তুলে ধরেছেন।

এ আয়াতগুলো দ্বারা বিচার করা যাবে কে সফল কে সফল নয়। আয়াতের শুরুতেই আল্লাহ বলে দিয়েছেন قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ তরজমা : ‘মুমিনরা সফলকাম হয়ে গেছে’।

এখানে قَدْ أَفْلَحَ ‘হয়ে গেছে’ অতীত ক্রিয়া ব্যবহার করেছেন, অতীতকালীন ক্রিয়া ব্যবহার কতটুকু সঙ্গত হয়েছে। অথচ এখনো তারা ওইসব গুণাবলির অধিকারী হয়নি। ব্যাখ্যাকারকেরা বলেন, সামনের গুণাবলির অধিকারী হলে অবশ্যই সব মানুষ সফল কম হবে। সেই নিশ্চয়তার দিকে লক্ষ্য করে আল্লাহ অতীতকালীন শব্দ প্রয়োগ করেছেন। সার কথা- যদি কোনো মানুষ নিন্মোক্ত গুণাবলির অধিকারী হতে পারে; তাহলে সে মানুষ অবশ্য সফল মুমিনে পরিণত হবে। সেই নিশ্চয়তার দিকে লক্ষ্য করেই আল্লাহ অতীতকালীন শব্দ প্রয়োগ করেছেন। ভবিষ্যতে নিশ্চিত বাস্তবায়িত এমন সব ক্রিয়ার ক্ষেত্রে অতীকালীন শব্দ প্রয়োগ আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রসিদ্ধ রীতি। আয়াতগুলোতে সাতটি গুণাগুণ পাওয়া যায়।

প্রথম গুণ: الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ

তরজমা : ‘তারা তাদের নামাজে বিনয় নম্রতা অবলম্বন করেছে’ (সূরাতুল মুমিনুন)।

প্রথম গুণ নামাজ সম্পর্কিত। নামাজে খুশু-খুজু অবলম্বন করা। এর এক অর্থ হলো নামাজে স্থিরমানতা, নড়াচাড়া না কারা ইত্যাদি। নামাজে নড়াচড়া করা মাকরুহাতের অন্তর্ভুক্ত। কেউ কেউ আবার এ অর্থও নিয়েছেন যে, নামাজে কাপড় বা শরীর নিয়ে খেলা না করা, ইচ্ছাপূর্বক নাড়া না দেয়া। বিনয় ও নম্র হওয়ার আরো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় হাদিস শরিফে। প্রখ্যাত ব্যাখ্যাকার মুজাহিদ বলেন, দৃষ্টি নত রাখা ও আওয়াজকে ক্ষীণ করার নাম খুশু। নামাজে বিনয় ও নম্র হওয়ার গুরুত্ব সীমাহীন। কেননা রাসূলল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নামাজি ব্যক্তি যতক্ষণ অন্য কিছুতে ভ্রুক্ষেপ না করে ততক্ষণ আল্লাহ তার দিকে দৃষ্টি রাখেন’।

দ্বিতীয় গুণ: وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ

তরজমা : ‘তারা নিজেদেরকে অনর্থ কাজ থেকে বিরত রাখে’ (সুরাতুল মুমিনুন)।

অনর্থ কাজ বাস্তবেও ভদ্রতার পরিপন্থী। আরবি শব্দ ‘লাগব’- এর অর্থ হলো উপকারবিহীন কাজ করা। যে কাজে কোনো সওয়াব বা উপকার নেই। একবার জনৈক সাহাবি দেখলেন একজন বালক অনর্থ কঙ্কর নিক্ষেপ করছে। সাহাবি তাকে নিষেধ করলেন। সে শোনেনি। অতপর সাহাবি রাগান্বিত হয়ে বললেন; ‘আল্লাহর কসম যদি তুমি এ অনর্থ কাজ হতে বিরত না হও, আমি তোমার জানাজায় উপস্থিত হবো না’। ওলামায়ে কেরাম বলেন, অনর্থ কাজ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। কখনো কখনো তা আলমকে নষ্ট করে দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, মানুষ যখন তার অনর্থ কাজ ছেড়ে দেয় তখন তার ইসলাম পূর্ণ হয়ে যায়। এ কারণে আয়াতে তা কামেল মুমিনের গুণ বলে উল্লেখ রয়েছে।

তৃতীয় গুণ: وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ

তরজমা : ‘তারা নিয়মিত জাকাত আদায় করে’ (সূরাতুল মুমিনুন, আয়াত নং ০৪ )।

জাকাত ইসলামের বুনিয়াদি বিষয়। সামর্থ্যবান ব্যক্তি যদি জাকাত আদায় না করে তাহলে তার ইসলাম পূর্ণ হবে না। জাকাতের শাব্দিক অর্থ শুদ্ধিকরণ, পবিত্রকরণ ইত্যাদি। পরিভাষায় কিছু শর্তের মাধ্যমে সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ দান করা। আলোচ্য আয়াতে শরিয়তের জাকাত উদ্দেশ্য হতে পারে। কোরআনুল কারিমেও জাকাতের তাগিদ এসেছে বারংবার। এসেছে জাকাতের দীর্ঘ বিবরণ। জাকাত আদায় করার দ্বারা মালের পবিত্রতা রক্ষা পায়, মালের নাপাকি দূর হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে মালের মালিকের আত্মশুদ্ধি হাসিল হয়। জাকাত আদায় না করার ক্ষেত্রে রয়েছে ভয়াবহ সতর্কবাণী। হাদিসে উল্লেখ আছে; যে ব্যক্তি কার্পণ্য করে অথবা দুনিয়ার মোহে পড়ে জাকাত আদায় না করে, কাল কিয়ামতের দিন ওই মালকে সাপ বানিয়ে তার গলায় পেচিয়ে দেয়া হবে। সেই সাপ তাকে দংশন করবে আর বলবে, ‘আমি তোমার গচ্ছিত মাল’ (বুখারি)

চতুর্থ গুণ: وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ

তরজমা : ‘তারা নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে’ (সূরাতুল মুমিনুন, আয়াত নং ০৭)।

মানুষের পাপের বিশাল অংশ লজ্জাস্থানের দ্বারা হয়। অধিকাংশ পাপের মূল্য উপাদান লজ্জাস্থান। কামভাব চরিতার্থ করার জন্য প্রয়োজন পড়ে লজ্জাস্থানের। তাই মহান আল্লাহ সফল মুমিনের একটি গুণ নির্ধারণ করেছেন ‘লজ্জাস্থান’ হেফাজত করা। এ ছাড়া রাসূল (সা.) থেকে সাহল ইবনে সাদ বর্ণনা করেন; রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কাছে তার দু‘চোয়ালের মধ্যাঅংশ (জিহ্বা) এবং দু‘রানের মধ্যাংশ লজ্জাস্থান হেফাজতের ওয়াদা দেবে, আমি তার জান্নাতের জিম্মাদার হবে।

পঞ্চম গুণ: وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ

তরজমা : ‘তারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুশিয়ার থাকে’ (সূরাতুল মুমিনুন, আয়াত নং ০৮)।

আমানত রক্ষা করা মুমিনের জন্য ফরজ। আমানতের শাব্দিক অর্থ নিরাপদ ও হেফাজত করা। এর দ্বারা বুঝা যায় বান্দার কাছে গচ্ছিত সব বিষয়ে সে আমানতদার। চাই তা হক্কুল্লাহ বা ইবাদুল্লাহ হোক। আল্লাহর হক বান্দার কছে সব আদেশ নিষেধ ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ। বান্দা যদি ফরজ ও ওয়াজিবাত পালন না করে তাহলে সে আল্লাহর দেয়া আমানত রক্ষা করল না। এমনভাবে যদি কারো গচ্ছিত মালের ব্যাপারে খিয়ানত করে। তা হলে সে আমানত রক্ষা করল না। হাদিস শরিফে আছে, যার আমানতদারি নেই তার ঈমান নেই। আরো আছে কাল কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার আমানত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। এ ছাড়া রাসূলুল্লাহ (সা.) মুনাফিকের তিনটি আলামতের কথা বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো আমানত রক্ষা না করা।

ষষ্ঠ গুণ: وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ

তরজমা : ‘তারা অঙ্গীকার রক্ষা করে’ (সূরাতুল মুমিনুন, আয়াত নং ০৮)।

অঙ্গীকার বলতে প্রথমত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে বুঝায়, যা কোনো ব্যাপারে উভয়পক্ষ ওয়াজিব করে নেয়। এরূপ অঙ্গীকার আদায় করা ফরজ। না করলে কবিরাহ গুনাহ হবে। দ্বিতীয়ত অঙ্গীকার ওয়াদাকে বলা হয়। অর্থাৎ কাউকে কিছু দেওয়া না দেওয়ার ওয়াদা করা বা কিছু করে দেয়ার ওয়াদা করা। এটা পালন করাও শরিয়ত ব্যক্তির ওপর জরুরি করেছে; যা ওয়াজিব। হাদিস শরিফে এসেছে ওয়াদা এক প্রকার ঋণ। আর তা আদায় করা জরুরি। সুতরাং ওয়াদা পালন করাও ওয়াজিব।

সপ্তম গুণ: وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ

তরজমা : ‘তারা তাদের নামাজে যত্নবান হয়’ (সূরাতুল মুমিনুন, আয়াত নং ০৯ )।

নামাজে যত্নবান হওয়া মুমিনের গুণ। নামাজে যত্নবান হওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নামাজকে তারা মোস্তাহাব সময়ে আদায় করে। ফরজিয়্যাত ও ওয়াজিবাত আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে সুন্নত মোস্তাহাবসহ আদায় করে। চিন্তা করলে দেখা যাবে, উল্লিখিত গুণের মধ্যে যাবতীয় প্রকার আল্লাহর হক ও বান্দার হকের সঙ্গে অপরাপর বিধানাবলি প্রবিষ্ট হয়ে গেছে।

এখানে শুধুমাত্র একটি সূরার গুণাবলি উল্লেখ করা হয়েছে। এই সূরা ব্যতীতও আরো বহুস্থানে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুমিনদের গুণাবলির কথা উল্লেখ করেছেন। সব খানে একজাতীয় গুণাবলি নয়। ভিন্ন স্থানে ভিন্ন গুণাবলি ও কোয়ালিটি বর্ণনা করেছেন। তবে সবগুলোর মর্মকথা এক ও অভিন্ন। যেমন সূরাতুর রা’আদে আছে, সূরাতুশ শুয়ারা ও সূরাতুশ শুরায়। মুমিনদের গুণাবলির অন্যতম একটি গুণাবলি হলো ধৈর্য। এটা এখানে উল্লেখ করা হয়নি। উল্লিখিত বিষয়গুলো ওপর আমল করলে বাকী সব গুণ এসে যাবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ