jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১২ই রজব, ১৪৪০ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :




সিলেটে এসে জয়ের স্বাদ পেলো খুলনা টাইটানস

রফিকুল ইসলাম কামাল, স্টেডিয়াম থেকে :: চার ম্যাচের চারটিতেই হার। বিপিএলের ঢাকা পর্বের এই দুঃস্মৃতি নিয়ে সিলেটে আসে খুলনা টাইটানস। তাদের মনাকাশে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর শপথের তারকারাজি। সেই শপথই এবারের বিপিএলে জয় নাম অমৃতের স্বাদ দিয়েছে খুলনাকে। রাজশাহী কিংসকে ২৫ রানে হারিয়ে আসরের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেলা দেড়টায় শুরু হয় বিপিএলের সিলেট পর্বের প্রথম ম্যাচ। ১৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার গ্যালারিতে হাজারখানেক দর্শকের সামনে নিরুত্তাপ ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৮ রান তুলে খুলনা টাইটানস। স্বল্পরানের এ স্কোর টপকাতে একটু দেখেশুনে উইকেটে পড়ে থাকলেই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলতে পারতো রাজশাহী কিংস। কিন্তু ব্যাটসম্যানের আসা-যাওয়ার মিছিলে খেই হারিয়ে বসে মেহেদি হাসান মিরাজের দল, গুটিয়ে যায় ১০৩ রানে।

১২৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই, রানের খাতা খোলার আগেই জুনায়েদ খানের বলে তাইজুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন লরি ইভানস। বিপিএলের এবারের আসরে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ মুমিনুল হক নিজেকে ফিরে পাননি সিলেটে এসেও। ১১ বলে ৭ রান করে খুলনার দলনায়ক মাহমুদউল্লাহর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরেন মুমিনুল।

 

উইকেটে এসে হাত খুলে খেলছিলেন রাজশাহীর দলনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ; নিজের খেলা প্রথম বলেই জুনায়েদকে থার্ড ম্যান দিয়ে ছয় হাঁকিয়েছিলেন। পরে জুনায়েদ আর ডেভিড ভিসের বলে দুটি চারে রাজশাহীর রানের চাকায় গতি আনেন তিনি। তবে থিতু হয়েও ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে তাইজুলের বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে আরিফুলের হাকে ক্যাচ দেন মিরাজ (১৬ বলে ২৩)। একই ওভারে এক বল পর সৌম্য সরকারকে ফিরিয়ে দেন বাঁহতি স্পিনার তাইজুল। ব্রাথওয়েটের হাতে লং অনে ক্যাচ হওয়ার আগে সৌম্য করেন ৪ বলে ২ রান।

 

৩২ রানে ৪ উইকেট হারানো রাজশাহী পথ ফিরে পায়নি আর। দলের ৪৭ রানে ফিরে যান জাকির হাসান। মাহমুদউল্লাহর বলে ডিপ স্কয়ারলেগে ব্রাথওয়েটের ক্যাচে পরিণত হন জাকির হাসান (১২ বলে ৭)। নিজের তৃতীয় ওভারে রায়ান টেন ডাশকাটেকে ফিরিয়ে দেন তাইজুল। উইকেটের পেছনে জহুরুলকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ডাশকাটে (১৩ বলে ১৩)।

 

স্কোরবোর্ডে যখন ৭২ রান, তখন ব্রাথওয়েটের তৃতীয় ক্যাচের শিকার হন ইয়ংকার। জুনায়েদের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুলটস বলে ক্যাচ দেন ২৪ বলে ১৫ রান করা ইয়ংকার। শেষদিকে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন আরাফাত সানি আর কামরুল ইসলাম রাব্বি। জুনায়েদ খানের করা ইনিংসের শেষ ওভারে রাব্বি (৯ বলে ১৩) রান আউট আর সানি (১৩ বলে ১৫) ক্যাচ দেন ব্রাথওয়েটের হাতে। জয় থেকে ২৫ রান দূরে থাকতেই, ১০৩ রানে শেষ হয় রাজশাহীর ইনিংস। প্রথম জয়ের উল্লাসে মাতে খুলনা।

 

তাইজুল আর মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত বোলিংয়ের যেন কোনো জবাব ছিল না রাজশাহী কিংসের ব্যাটসম্যানদের কাছে। ৪ ওভারে ১০ রান দিয়ে তাইজুলের শিকার ৩ উইকেট, সমান ওভারে ১২ রান দিয়ে মাহমুদউল্লাহ নিয়েছে ২টি উইকেট। ৩ ওভার ৫ বলে ২৬ রান দিয়ে জুনায়েদের শিকার ৩ উইকেট, কিছুটা খরুচে ভিসের ঝুলিতে গেছে একটি উইকেট। দারুণ বোলিংয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার ওঠেছে তাইজুলের হাতে।

 

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামে খুলনা টাইটানস। ইসুরু উদানার করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে চার বলের মধ্যে এক চার আর এক ছয়ে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন জহুরুল ইসলাম অমি। কিন্তু পঞ্চম বলেই থার্ডম্যানে আরাফাত সানির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান জহুরুল (৬ বলে ১৩)। আগের চার ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও ভালো শুরু করেছিলেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। মিরাজের বলে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কাও হাঁকিয়েছিলেন। এক ওভার বাদে মিরাজের বলেই চার হাঁকানোর পর এক বল পরেই লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে ফিরে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান (১৪ বলে ১৪)।

 

কামরুল ইসলাম রাব্বিকে এক ওভারে দুইবার বাউন্ডারি দেখিয়ে ডেভিড মালানের শুরুটাও ভালোই ছিল। কিন্তু থিতু হতে পারেননি তিনিও। ইনিংসের অষ্টম আর মিরাজের তৃতীয় ওভারে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন মালান (২১ বলে ১৫)। দুই ওভার পরে আরাফাত সানির বলে ইয়ংকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান টাইটানসের দলনায়ক মাহমুদউল্লাহ (১৩ বলে ৯)।

 

ইনিংসের ত্রয়োদশ আর সানির শেষ ওভারে রাজশাহী কিংসের জোড়া আঘাত। প্রথম বলে রান আউট হয়ে ফিরেন নাজমুল হোসেন শান্ত (১০ বলে ১১), পঞ্চম বলে সানির আর্ম বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে কাটা পড়েন কার্লোস ব্রাথওয়েট (১২ বলে ৮)।

 

পরের পাঁচ ওভার উইকেটে যাওয়া-আসার মিছিল থামলেও রানের চাকা বাড়েনি খুলনা টাইটানসের। ইনিংস শেষের আগের ওভারে লং অফে উদানার বলে মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় ডেভিড ভিসের ১২ বলে ১৩ রানের ইনিংস। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন ইনিংসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আরিফুল হক (২৭ বলে ২৬)। ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৮ রানে শেষ হয় খুলনা টাইটানসের ইনিংস।

 

দারুণ বোলিংয়ে চার ওভারে ২১ রানে মিরাজ ২টি, চার ওভারে ২৫ রানে সানি ২টি ও চার ওভারে ২১ রানে মোস্তাফিজ একটি উইকেট তুলে নেন। চার ওভারে ৩৬ রান দিলেও ইসুরু উদানা উইকেট নিয়েছেন ২টি। উইকেট না পেলেও ভালো বোলিং করেন রাব্বি, তিন ওভারে দেন ১৬ রান।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

খুলনা টাইটানস- ১২৮/৯। জহুরুল ১৩, জুনায়েদ সিদ্দিকী ১৪, মালান ১৫, মাহমুদউল্লাহ ৯, নাজমুল হোসেন শান্ত ১১, ব্রাথওয়েট ৮, আরিফুল হক ২৬, ডেভিড ভিসে ১৩, তাইজুল ০, শরিফুল ২*, জুনায়েদ খান ১*। রাব্বি ০/১৬, উদানা ২/৩৬, মিরাজ ২/২১, মোস্তাফিজ ১/২১, সানি ২/২৫।

 

রাজশাহী কিংস-১০৩/১০। মুমিনুল ৭, ইভানস ০, মিরাজ ২৩, সৌম্য ২, ডাশকাটে ১৩, জাকির ৭, ইয়ংকার ১৫, উদানা ৬, সানি ১৫, রাব্বি ১৩, মোস্তাফিজ )*। জুনায়েদ খান ২/২৬, ভিসে ১/২৮, তাইজুল ৩/১০, মাহমুদউল্লাহ ২/১২, মালান ০/২১, শরিফুল ০/৪।

ফলাফল: খুলনা টাইটানস ২৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তাইজুল ইসলাম।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ