jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ২১শে শাবান, ১৪৪০ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» বালাগঞ্জে খেলাফত মজলিসের মিসবাহকে সভাপতি ও অফিককে সেক্রেটারি নির্বাচিত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন «» জগন্নাথপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণে ধর্ষক গ্রেফতার «» হবিগঞ্জে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন «» ড. রেজা কিবরিয়া হচ্ছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক «» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদ «» বালাগঞ্জে ছাত্রদল নেতা জাকারিয়াকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান «» একজন মোকাব্বির খান ও বিএনপির সংসদে যোগদান : মুক্তাদীর অাহমদ মুক্তা «» জগন্নাথপুরে পলাতক আসামি গ্রেফতার «» জগন্নাথপুরে বিএনপি নেতা মঞ্জুর কবিরীর মৃত্যুতে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত «» সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ : নতুন কমিটি গঠনের দাবি




অহঙ্কার নিজের জন্য পতন ডেকে আনে

হাফিজ মাওলানা সৈয়দ রেজওয়ান অাহমদ ::

 

পৃথিবীর প্রথম গুনাহ হলো অহঙ্কার। যা সংঘটিত হয়েছিল ইবলিশ কর্তৃক। শয়তান সর্বপ্রথম অহঙ্কারের মাধ্যমেই গুনাহর খাতায় নাম লিখিয়েছিল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, আদমকে সেজদা করো। সবাই সেজদা করল। কেবল ইবলিশ করল না। সে অস্বীকার ও অহঙ্কার করল। সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।’ (আল কুরআন) অন্যত্র বলা হয়েছে, ইবলিশ বলল ‘আমি তাঁর চেয়ে উত্তম, আপনি আমাকে আগুন থেকে এবং তাঁকে (আদমকে) মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।’ (আল কুরআন)অর্থাৎ তার মধ্যে অহঙ্কার বেঁধে উঠেছিল। ফলে সে আল্লাহর আদেশকে অমান্য করল। বাস্তবে যুগে যুগে এসব তাগুতের অনুসারীরাই কেউ ক্ষমতার দাপটে, কেউ ধন-দৌলতের আধিক্যে ছিল। এদের মধ্যে ফিরাউন ও কারুন অন্যতম। আল্লাহ তায়ালা এসব অহঙ্কারীকে ধ্বংস করে দেন।

কুরআন ও হাদিসের অসংখ্য জায়গায় গর্ব-অহঙ্কারের ভয়াবহ পরিণাম ও পরিণতির কথা বিবৃত হয়েছে এবং অত্যন্ত কঠিন ভাষায় হারাম ও নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। একে কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া বলা যায়, অহঙ্কার শুধু একটি কবিরা গুনাহই নয়, বরং এটি অনেক কবিরা গুনাহের জন্মদাতা। কারণ এটি মানুষকে সত্য উপলব্ধিতে বাধা দেয় এবং তাদের অন্ধকারের যাত্রী বানায়।

 

অহঙ্কার গোপন ও প্রকাশ্য দুই ধরনের হয়ে থাকে। গোপন অহঙ্কার মনে সৃষ্টি হয় আর প্রকাশ্য অহঙ্কার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা প্রকাশ পায়। গোপন অহঙ্কারী নিজেকে অন্য সব অহঙ্কারীর চেয়েও নিজেকে বড় মনে করে। এটা তার ধারণায় বদ্বমূল হয়, অবশেষে এটি তার বিশ্বাসে পরিণত হয়। ফলে নিজেকে খুব সম্মানিত মনে করে এবং একসময় তা তার বাস্তব চরিত্রে প্রকাশ পেতে শুরু করে। গোপন অহঙ্কার সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে, তাদের কাছে আসা যুক্তি প্রমাণ ছাড়া আল্লাহর নিদর্শনগুলোর ব্যাপারে ঝগড়া করছে তাদের অন্তর অহঙ্কারে ভরা। কিন্তু তারা যে বড়ত্বের অহঙ্কার করে তারা তার ধারেও ঘেঁষতে পারবে না।’ (আল কুরআন) প্রকাশ্য অহঙ্কারের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অহঙ্কারবশত তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং জমিনে গর্বসহকারে পদচারণা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না। চাল-চলনে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো এবং কণ্ঠস্বর নিচু করো।’ (আল কুরআন) ‘পৃথিবীতে দাম্ভিকতাসহকারে চলো না। নিশ্চয়ই তুমি পদাঘাতে ভূপৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না। এ সবের মধ্যে যেগুলো মন্দ কাজ, সেগুলো তোমার রবের কাছে অপছন্দনীয়।’ (আল কুরআন)

 

গর্ব-অহঙ্কার মূলত আল্লাহর অধিকার। মানুষ গর্ব-অহঙ্কার করা মানে আল্লাহর অধিকারে ভাগ বসানো। এ অধিকারে মানুষ অহঙ্কার করার সুযোগ নেই। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে মানুষই সবচেয়ে দুর্বল প্রাণী। মনে রাখার প্রয়োজন, তাকে তার পিতার পৃষ্ঠদেশ থেকে নেমে আসা সামান্য এক ফোঁটা পানি থেকে বা সামান্য একটি শুক্রকীট থেকে তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং তার অহঙ্কার করার কোনো অধিকার নেই। আশরাফুল মাখলুকাত বলে আল্লাহ তায়ালা দয়া করে সমস্ত সৃষ্টিকে তার অধীন করে দিয়েছেন এবং তাকে সৃষ্টির সেরা মর্যাদা দিয়েছেন বটে। তথাপি সব সৃষ্টির কাছে সে সামান্যই একটি দুর্বল প্রাণী। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অহঙ্কার আমার পোশাক। এ পোশাক যে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে চেষ্টা করে, তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।’ (সহিহ মুসলিম)
অহঙ্কারীর বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্যতম হলো : সে নিজে যা পছন্দ করে, অন্যকে তা পছন্দ করতে দেয় না। সাধারণত সে হিংসা-বিদ্বেষপরায়ণ হয়। কোনো উপদেশকারীর উপদেশ গ্রহণ করতে পারে না। বরং উল্টো তার ঠাট্টা-বিদ্রুপে স্বীকার হয়। মানুষের সাথে কথা বলা ও চলার সময় হিংসা-বিদ্বেষ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও গর্ব-অহঙ্কারের ভাব প্রকাশ করে। নেতৃত্বের কথা বা আদেশের কোনো পরোয়া বা ভ্রুক্ষেপই করে না। মনে হয় এগুলো তার জন্য প্রযোজ্য নয় বা সে তার চেয়েও বেশি বা আরো ভালো জানে। অন্যের কথা শোনার চেয়ে সে-ই শুধু বলতে চায়। প্রথমে কথা বলা, নেতৃত্ব ও মান-সম্মান না পেলে অসন্তুষ্ট হয়।

অহঙ্কারীরা শিক্ষা গ্রহণ করুন : বংশ কোনো মর্যাদার প্রতীক নয়, বরং তাকওয়া সব মর্যাদার প্রতীক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক সম্মানিত, তোমাদের মধ্যে যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।’ (আল কুরআন) ধনী কারুনের সাথে আল্লাহর আচরণ থেকে শিক্ষা নেবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি তাকেসহ তার ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা দিয়ে দিয়েছি। আল্লাহর মোকাবেলায় তাকে সাহায্য করার জন্য আর কেউ এগিয়ে আসেনি এবং সে বিজয়ীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।’ (আল কুরআন) অহঙ্কারী শাসক, মন্ত্রী ও দলের প্রধানদের উচিত ফিরাউন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। আল্লাহ এ ক্ষমতাধর অহঙ্কারী শাসককে সমুদ্রে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। আলেম, জ্ঞানী ও বুজুর্গদের ইসরাইলের বালআম-বাউরসহ অন্য আলেমদের পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

 

সর্বোপরি অহঙ্কার থেকে বাঁচতে হলে নিয়মিত কুরআন ও হাদিস বুঝে পড়তে হবে। বিশেষ করে অহঙ্কারবিরোধী এবং অহঙ্কারীর শাস্তি সম্পর্কিত আয়াত ও রাসূল সা:-এর হাদিসগুলো বারবার পড়তে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের পৃথিবীর প্রথম গুনাহ ও ইবলিশের প্রথম অপরাধের হোতা অহঙ্কার থেকে রক্ষা করুন।

 

লেখক: অধ্যক্ষ, সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ