jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৮ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» ১৮ জুন জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন «» ওসমানীনগরে তালামীযের ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত «» সামাজিক সংগঠন ইয়ূথ-স্টাফ সিলেটের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত «» বিশ্বনাথে দিনমজুর পরিবারের উপর হামলা, আহত ৩ «» বিশ্বনাথে আ’লীগের ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বেই দেশ হয়েছে ক্ষুধা-দারিদ্র, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ও মাদকমুক্ত- শফিক চৌধুরী «» জগন্নাথপুরে তালামীযের অভিষেক ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত «» ছাত্র মজলিস প্রচলিত কোন সংগঠনের নাম নয় বরং একটি আদর্শিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- সাইফুর রহমান খোকন «» ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মিলনমেলা : ঐতিহ্যবাহী বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের কর্মকান্ড সর্বমহলে প্রসংশিত- শফিকুর রহমান চৌধুরী «» নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্বনাথের যুবকের আদালতে মামলা «» জ্যৈষ্ঠ মাসে নাইওরি আসে




মাদ্রাসা শিক্ষা : প্রাসঙ্গিক কিছু কথা :: অধ্যক্ষ সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ

মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব। স্রষ্টার উপাসনার তরেই মানুষের সৃষ্টি। বিশ্বনবী মুহাম্মদ (স.) এর আবির্ভাব নিশ্চয়ই বিশ্ববাসীর জন্যে আল্লাহপাকের এক মহান অনুগ্রহ। তিনি আল্লাহপ্রদত্ত ঐশী শিক্ষার আলোকে আরবের নিরব জাতি-গোষ্ঠিকে জাগিয়ে তুললেন। মহানবী (স.) নববির আলোকে ইলমে দ্বীন তথা ঐশী শিক্ষাকে মানব শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা উল্লেখ করে আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষনা করেলন, “বলুন! যারা জানে এবং যারা জানে না তাঁরা কি সমান হতে পারে?” ইসলামের প্রথম পাঠশালা ‘তুর পর্বতের হেরা নামক গুহায়; জিবরাইল কর্তৃক “ইক্বরা” পাঠের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা ও এর দাওয়াতি ক্রমধারার পত্তন ঘটে। পরবর্তীতে কালক্রমে পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়ে বর্তমান অবস্থায় এসে পৌছেছে। এরপর ইসলামের দাওয়াতি কার্যক্রম যতদূর এগিয়ে চলছিল, মাদ্রাসা শিক্ষা বিকাশও ততো দ্রুত গতিতে বিস্তার লাভ করে। নবুওয়াতের দশম হিজরীতে মদীনার কিছু লোক জামারায়ে আকাবায় ইসলাম গ্রহণ করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন, কিছুদিন পর মদিনার নও মুসলিমগণ ধর্মীয় শিক্ষক চেয়ে মহানবীর দরবারে আবেদন করলে তিনি সাহাবী মাসআব বিন উমায়ের (রা.) কে শিক্ষক বানিয়ে পাঠালেন। তিনি আসআদ বিন যুরারা (রা.) এর বাড়িতে অবস্থান করে ইসলাম ও শরীয়তের মাসাইল শিক্ষা দিতে থাকলেন। এটাকে মদীনায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম মাদারাসা হিসেবে ধরা যায়। ইতিহাসের পাতায় মাদ্রাসা শিক্ষা দ্বীন প্রচারের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু এটিই। ইসলামের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ লাভ করে জীবনে আমূল পরিবর্তন সাধন করে সোনার মানুষে পরিণত হওয়ার জন্যে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে ভীড় জমিয়েছিলেন অনেক জ্ঞানান্বেষী সাহাবী। এদের থাকা খাওয়ার জন্য মসজিদে নববির এক কোণে গড়ে উঠেছিল ছোট একটি কুঠির। আরবিতে একে বলা হয় ‘সুফ্ফা’। এরপর ইসলামের বিজয়ের সাথে সাথে স্থানে স্থানে মসজিদভিত্তিক ‘মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্র’ স্থাপিত হয়। হিজরী চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকে। বর্তমান পদ্ধতির মাদরাসা শিার সূচনা হয় ৪০১ হিজরী মোতাবেক ১০৩১ খ্রিস্টাব্দ থেকে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)এর বিদায় হজ্বের সময় প্রায় সোয়া লক্ষ সাহাবীকে সম্ভোধন করে যে ভাষণ প্রদান করেছিলেন, তা হলো-তাঁরা যেন ইসলামের মহান আহ্বান নিয়ে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ঐ নির্দেশ পেয়ে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ইসলামের দাওয়াত নিয়ে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েন। ইতিহাস স্বাক্ষী যে, ঐ সোয়া লক্ষ সাহাবীর এক-দশমাংশের সমাধিও আরব ভূখ-ে পাওয়া যায়না। এই প্রচারকগণই দেশে দেশে ইসলামের বাণী পৌছিয়ে দেন এবং সর্বত্র ইসলামী শাসনের উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরী করে দেন। উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের সূচনা করেন উমাইয়া সেনাপতি মুহাম্মদ বিন ক্বাসিম (৯৩-৯৬)। অতঃপর সুলতান মাহমুদ গজনবী, সুলতান মুহাম্মদ ঘোরী ও সুলতান কুতুবুদ্দীন আইবেক। অবশেষে সুলতান আলাউদ্দীন শাহ খলজী এর সময়ে সমগ্র ভারত উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।

 

খ্রিস্টিয় ত্রয়োদশ শতকের প্রথম দিকে এ দেশে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার গোড়াপত্তন হয়। এরপর এখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি বঙ্গদেশ জয় করে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মাদরাসা স্থাপন করেন। ১২৭৮ খ্রিস্টাব্দে শরফ উদ্দিন আবু তাঁয়ামা বঙ্গদেশের রাজধানী সোনারগাঁয়ে একটি উচ্চমানের মাদরাসা স্থাপন করেন। এভাবে মোগল শাসনামলে দিল্লির নিজামিয়া মাদারাসা, রহিমিয়া মাদরাসাসহ হাজার হাজার মাদরাসা এ উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। কেবল বঙ্গপ্রদেশেই তখন আশি হাজার মাদরাসা ছিল। সুলতানগণ এসব মাদরাসা পরিচালনার জন্যে জমিজমা বরাদ্দ করে দিতেন। বরাদ্দকৃত এ সম্পদের ওপর ভিত্তি করেই মাদরাসাসমূহ পরিচালিত হত। পরবর্তীতে কালক্রমে মুসলিম সাম্রাজ্যে ভাঙ্গন সৃষ্ঠি হয়। মুসলিম শাসনের এই ধারাবাহিকতা মোঘল শাসকদের পতন পর্যন্ত (১৮৫৮ খ্রি.)অব্যাহত ছিল। প্রায় ৭০০ বছর মুসলমানদের শাসন চলে। শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল এমন ব্যাপক যে, সকল নগর-বন্দরে গড়ে উঠেছিল মাদ্রাসা ষিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসা বানাতে কেউ কুন্ঠাবোধ করত না। মাদ্রাসা সমূহে কুরআন-হাদিস শিক্ষার পাশা-পাশি কারিগড়ি প্রশিক্ষনও দেওয়া হতো। তখনকার বাদশাহগণ ইসলামি শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতেন। তখন কওমি-সরকারি বলে কোনো পার্থক্য ছিলনা।

 

দখলদার ব্রিটিশ বেনিয়ারা বানিজ্যের নামে ভারতে প্রবেশ করে ১৬শ শতাব্দীর গোড়ারদিকে। নবাব সিরাজুদ্দৌলা ১৭৫৭ সালে পলাশীর অ¤্রকাননে ভাগ্য বিপর্যয়ের পর ভারত বর্ষে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহ. (১৭০৩-১৭৬২খ্র.) এর বিপ্লবী চিন্থা ধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতবর্ষে উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা হয়। দেহলভী রহ. এর চিন্থা-চেতনায় অনুপ্রানিত হয়ে তাঁর হাতে গড়া ্িবপ্লবী নেতা শায়খুল হিন্দ শাহ আব্দুল অযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহ. (১৭৪৬-১৮২৩খ্রি.) এর ‘ঐতিহাসিক ফতওয়া’ আমীরুল মুজাহিদীন সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ রহ. ‘মুজাহিদ আন্দোলন’ (১২০৩-১৮৩১খ্রি.), হযরত নানুতবী ও হযরত গাঙ্গুহীর ‘দেওবন্দ আন্দোলন’ (১৮৩১-১৯১৯ খ্রি.), হযরত শায়খুল হিন্দের ‘রেশমী আন্দোলন’ (১৯০৮-১৯২০ খ্রি.), শায়খুল ইসলাম মাদানীর ‘স্বাধীনতা আন্দোলন’ (১৯২০-১৯৪৭ খ্রি.) নামে দেশ ও জাতিকে রক্ষার উদ্দেশ্যে, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব পূনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আলেম-উলামাদের নেতৃত্বে ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েন। আন্দোলন ও সংগ্রাম চলাকালীন সময়ে প্রায় ১৪ হাজার উলামাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হয়। এতে ইসলামি ঐতিহ্যের বিচরণকেন্দ্র মাদ্রাসা সমূহকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। জাতির এ সংকটময় মুহুর্তে উলামায়ে কেরামগণ সংগ্রামের পরিবর্তে ভিন্নপথ অবলম্বন করেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা হয়।

 

শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ.’র সুযোগ্য উত্তরসূরী আল্লামা কাসিম নানুতবী রহ.যোগ্যতাসম্পন্ন ও আদর্শ ব্যক্তি গঠনের লক্ষ্যে ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই উদ্দোগ বাস্তবায়িত হয় শায়খুল হিন্ত আল্লমা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহ.’ মাধ্যমে। হক্কানী উলামায়ে কেরামের অব্যাহত দীর্ঘ ১শত ১৭ বছরের সংগ্রাম ও আন্দোলনের ফলে মানবতার শত্রু ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ বেনিয়ারা এ দেশ থেকে পাত্তড়ি গোটাতে বাধ্য হয়।

 

উপমহাদেশের মুসলিম উম্মাহর সুস্থ চিন্থাধারার বিকাশ, ইসলামি শিক্ষা প্রচার-প্রসারের তথা ইসলামের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাড়ানোর ক্ষেত্রে দারুল ঊলুম দেওবন্দ’র ও তার অনুসারী কওমী মাদ্রাসা সমূহ’র অবদান অনস্বীকার্য। ইসলামের দাওয়াত, শিা ও মূল্যবোধের পুর্ণজাগরণকল্পে করমী মাদ্রাসার বিস্ময়কর অবদান গুরুত্বের দাবীদার। বিশ্বের প্রায় সকল রাষ্ট্রসমূহে এই ধারার মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে সেখান থেকে ইসলামের শিক্ষা, ওয়াজ-নসিহত, সেমিনার-সেম্পোজিয়াম ইত্যাদির মাধ্যমে সাধারণদের ইসলামের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, খানকাহ ভিত্তিক দীক্ষাদান ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব গঠনের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী যে তাবলিগ জামাতের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তথা ইসলামের যে পূর্নজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে তা এই কওমি মাদ্রাসারই অবদান। এই অবদান ধরে রাখা এখন সময়ের দাবী।

 

বিশ্বের মুসলিম অধ্যুষিত দেশ সমূহে ইসলামী শিক্ষা ক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। যদিও প্রায় ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে কওমি মাদরাসা শিক্ষা তথা ধর্মীয়শিক্ষার প্রচার ও প্রদানকারী এ শিক্ষা ব্যবস্থার জাতীয়ভাবে সনদের স্বীকৃতি নেই। না হওয়ার কারণ কী? সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কী একবার ভেবে চিন্থা করে দেখা উচিৎ নয় যে, এরা কী কিছু হলেও অর্জন করছে না। এদের মাধ্যমে কী সমাজে কোনোই উপকার হচ্ছেনা। অথচ এ জাতীয় হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এর সাথে জড়িত লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং তাদের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বাস্তব সত্য হলো যে, কওমি মাদ্রাসায় অধ্যয়নকারী শিক্ষার্র্থী ও ফারেগিনদের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে উপমহাদেশের ক্রান্তিকালে বিভিন্ন সংকটময় মুহুর্ত মোকাবেলায় বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করছে। সমাজে রয়েছে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের যথেষ্ট প্রভাব। অথচ সময়ের চাহিদানুযায়ী অতি পুরাতন সেলেবাসের শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে বর্তমান প্রতিযোগিতার জগতে সৃজনশীন শিক্ষার্থীদের চাহিদা মিটানো কী সম্ভব?

 

বিশ্ব যখন হাতের মুটোতে, জাতি যখন ছুটে চলেছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে, চষে বেড়াচ্ছে মহাশুণ্যে, মেধাসম্পন্ন একজন শিক্ষার্থী যখন প্লানেট নিয়ে গবেষণা করে। অন্যদিকে শিক্ষার্থী নামক আরেক ছাত্রকে যদি সেই পুরাতন সেলেবাসের শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শিক্ষা পরিচালনা করা হয়। তাহলে কী সম্ভব পরবর্তী প্রজন্মকে কওমি শিক্ষাধারায় ধরে রাখতে। আমাদের সামনে কী প্রতিয়মান হয় না আজ থেকে ৫ বছর পূর্বে যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল সাত বা আটশত আজ সেই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা পাঁচশত। এর কারণ কী তল্লাশী করে বের করার প্রয়োজন নেই। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বড় অংশ আজ চলে যাচ্ছে ভিন্নধারার প্রতিষ্ঠানে। যেখান থেকে শিক্ষার্জন করে পরবর্তীতে মাদ্রাসা শিক্ষাধারা থেকে সরে গিয়ে দূর থেকে দূরান্তরে চলে যাচ্ছে। এর জন্য দায়ী কে? একসময় তো শিক্ষকগণ দুই ধারায় শিক্ষার্জন নিষেধ করলে দেখা যেত শক্ষার্থীরা শিক্ষককে খুশী রাখতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নিরব ভাবে শিক্ষার্জনে ব্যস্ত থাকত। এখন এর বিপরীতে আমরা কী দেখতে পাই? একবার কী অভিভাবকগণ এবিষয়কে নিয়ে ফিক্র করেন? দরাকার কী নেই? আমার মনে হয় দায়িত্বশীলগণ ্একটু সচেতন হওেয়ার প্রয়োজন।

 

বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে সময়ের চাহিদানুযায়ী স্বীকৃত পন্থায় কওমিধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে সুবিন্যাস্থ করা একান্ত প্রয়োজন। আমরা জানি ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রেরণা যোগায় মানুষকে। তার মানে তো এই নয় যে, ইতিহাস ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে থাকতে হবে। ঐতিহ্যের খুঁজে সময় ব্যয় মানে পিছনের দিকে যাত্রা করা। ইতহিাস-ঐতিহ্যের আবাসস্থল হলো অতীত। ইতিহাসকে লালন করতে হয় মনের কোঠায় কিন্তু যাত্রা করতে হয় সামনের দিকে। তাই আগামী প্রজন্ম’র ভবিষ্যতের সার্বিক দিক বিবেচনা করে মাদ্রাসা শিক্ষার সেলেবাস পূর্ণাঙ্গ রূপে সংস্কার পূর্বক আকাবীরদের সুযোগ্য উত্তরসূরী বিনির্মানে জাতীয় নেতৃবৃন্দ সঠিক সিদ্ভান্ত গ্রহনে সজাগ দৃষ্টি কামনা করছি।

 

লেখক: অধ্যক্ষ সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর,  মোবা: 01712- 035592

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ