jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৮ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» ১৮ জুন জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন «» ওসমানীনগরে তালামীযের ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত «» সামাজিক সংগঠন ইয়ূথ-স্টাফ সিলেটের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত «» বিশ্বনাথে দিনমজুর পরিবারের উপর হামলা, আহত ৩ «» বিশ্বনাথে আ’লীগের ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বেই দেশ হয়েছে ক্ষুধা-দারিদ্র, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ও মাদকমুক্ত- শফিক চৌধুরী «» জগন্নাথপুরে তালামীযের অভিষেক ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত «» ছাত্র মজলিস প্রচলিত কোন সংগঠনের নাম নয় বরং একটি আদর্শিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- সাইফুর রহমান খোকন «» ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মিলনমেলা : ঐতিহ্যবাহী বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের কর্মকান্ড সর্বমহলে প্রসংশিত- শফিকুর রহমান চৌধুরী «» নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্বনাথের যুবকের আদালতে মামলা «» জ্যৈষ্ঠ মাসে নাইওরি আসে




বিএনপির প্রাধান্য সাংগঠনিক পুনর্গঠনে

ডেস্ক রিপোর্ট :: সাংগঠনিক পুনর্গঠনকেই প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক মহলের জনমত জোরদারে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সকল পর্যায় থেকে দাবি উঠেছে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের। শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, জনসমর্থন ও সংগঠন থাকলেও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যদিয়ে সে সমর্থনকে সক্রিয় শক্তিতে রূপান্তর করতে পারেনি বিএনপি। ফলে মিলছে না জনসমর্থনের সুফল। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাই সাংগঠনিক পুনর্গঠনেই প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি। ইতিমধ্যে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়েছে দুইটি অঙ্গসংগঠন ও একটি সহযোগী সংগঠনের।

তবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়াটি শুরু হয় দলের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির মাধ্যমে।

নির্বাচনের পর পরই পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে নতুন কমিটি। ডাকসু নির্বাচনের পর ছাত্রদল এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ও বিএনপির জেলা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। বিশেষ করে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দলের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।দুইদিন আগে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার কারণে বিলুপ্ত করা হয়েছে বিএনপির নীলফামারী জেলা কমিটি। অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের পাশাপাশি ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে কাজ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। বিশেষ করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের ব্যাপারে নতুন করে ভাবা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চায় বিএনপি। সেই সঙ্গে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরিধি সম্প্রসারণের। কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও ফ্রন্টের অন্যান্য দলের মনোনীত প্রার্থীরা। জামায়াত ইস্যুতে অস্বস্তিসহ নানা ইস্যুতে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যদিয়ে গঠিত হয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু নির্বাচনের পর গণশুনানির মাধ্যমে নতুন করে দৃঢ়তা পেয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এই প্লাটফরম। গণশুনানিতে প্রার্থীরা এ প্লাটফরমের পরিধি সম্প্রসারণ, বিভাগীয় পর্যায়ে গণশুনানি ও জেলা সফরের প্রস্তাব দিয়েছিল। এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও পরামর্শগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বিএনপি। পরামর্শগুলো নিয়ে নেতারা অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও করেছেন।জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ঐক্যফ্রন্টের কমিটি গঠন ও বিভাগীয় পর্যায়ে শুনানির ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্তও হয়েছে।

এ ছাড়া একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে একটি বিস্তারিত পর্যালোচনার কাজ করছে দলটি। এদিকে রোববার বিশেষ আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলাপ করেছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সূত্র জানায়, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট সার্বিক পরিস্থিতি, তৃণমূল নেতাদের প্রস্তাবনা ও সরকারের পদক্ষেপের বিষয়গুলো খালেদা জিয়াকে অবহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব। সার্বিক বিষয়ে খালেদা জিয়ার পরামর্শ ও নির্দেশেই সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন তিনি। রোববার সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে। এদিকে নেতাকর্মীদের জোরালো দাবি থাকলেও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে হুট করে কড়া কোনো কর্মসূচি দেবে না বিএনপি। বিএনপির নীতি-নির্ধারক ফোরাম ও দায়িত্বশীল নেতারা এমন মনোভাবের কথা জানিয়েছেন।

এদিকে সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রথম অঙ্গসংগঠন হিসেবে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কৃষকদলের। দীর্ঘ ২১ বছর আগে গঠিত কমিটির শীর্ষ নেতারা মৃত্যুবরণের পর দীর্ঘ এক যুুগ ধরে ভারপ্রাপ্তের নেতৃত্বে সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছিল। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ১৬ই মে কৃষক দলের কমিটি হয়েছিল। সংগঠনটির দ্বিতীয় সহ-সভাপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন একদশকের বেশি সময় ধরে। অবশেষে দুই দশকের বেশি পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে গঠন করা হয়েছে ১৫৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি।

বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু পেয়েছেন আহ্বায়কের দায়িত্ব। সদস্য সচিব হয়েছেন এগ্রিকালচারিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া অন্য অঙ্গসংগঠনটি হচ্ছে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল। পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে ১৩ই ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয়েছে ১৫৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি। নতুন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাব ও আবদুর রহিম। অঙ্গসংগঠনের পাশাপাশি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সহযোগী সংগঠনগুলোর। তারই অংশ হিসেবে অন্যতম পেশাজীবী সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ১৬১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে সম্প্রতি। নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ডা. ওবায়দুল কবির খান। পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া প্রতিটি আহ্বায়ক কমিটিকে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এর মধ্যেই সম্মেলন ও কাউন্সিল করে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কৃষকের মাঠ, শ্রমিকের কারখানা ও শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস- এই তিন ক্ষেত্রকে বলা হয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সূতিকাগার। বিএনপি নেতারা বলছেন, সময়ের বিবর্তনে কৃষির প্রভাব আর নেই নেতৃত্ব বিকাশে। মুক্তবাজার অর্থনীতির ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে সংকুচিত হয়ে গেছে শ্রমিক রাজনীতির ক্ষেত্র। এখন ছাত্ররাজনীতিই হচ্ছে নেতৃত্ব বিকাশের মূল এবং একমাত্র ক্ষেত্র। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কমিটি গঠনে বিলম্ব ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এখন ক্যাম্পাস ছাড়া হয়ে পড়েছে ছাত্রদলের রাজনীতি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, নিয়মিত কমিটি গঠন না হওয়া ও কোটারি মনোভাবের কারণে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বয়সের ব্যবধান তৈরি হয়েছে ১২ থেকে ১৮ বছরের। বাংলাদেশে রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ছাত্ররাজনীতিকে গতিশীল করার ব্যাপারে নানামহল থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিটি উঠে এসেছে মতামত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তিন দশক পর। কিন্তু ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রথমে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল ছাত্রদলে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির তরফে এর জোরালো বিরোধিতা এসেছিল। তাদের আশঙ্কা, নিয়মিত শিক্ষার্থীরা ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে আলোচনায় চলে এলে ভবিষ্যতে ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বয়সসীমা কমিয়ে আনা হতে পারে।

ফলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে তাদের নেতৃত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা। তবে তারা ক্যাম্পাসে সহাবস্থান না থাকাসহ দৃশ্যমান কিছু বিষয়টি তাদের যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিল। অবশেষে ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে তিনি ছাত্রনেতাদের কড়া বার্তা দেন। পরে ডাকসু নির্বাচনে প্যানেল ঘোষণা করেছে ছাত্রদল। প্রথমে অনাগ্রহী থাকলেও প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ছাত্রনেতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডাকসু নির্বাচনের পর নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে ছাত্রদলের। নতুন কমিটিতে বয়সসীমা নামিয়ে আনা হতে পারে। কারণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়মিত শিক্ষার্থীদের হাতে সংগঠনটির নেতৃত্ব তুলে দিয়ে ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে ফেরাতে চায়। তবে ডাকসু নির্বাচনে ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় কমিটির মাঝারি সারির নেতাদের সাংগঠনিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের পর দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে বিএনপির সকল পর্যায়ে। বিশেষ করে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা বলা হলেও সে আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি এবং কর্মসূচি নিয়ে নীতিনির্ধারক ফোরাম প্রশ্নের মুখে পড়েন। প্রশ্নটি খোলামেলাভাবে সামনে আসে ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানির দিন। সারা দেশ থেকে আসা প্রার্থীরা এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণার জোর দাবি জানান। বেশিরভাগ নেতার মুখের এ দাবিটি শেষ পর্যন্ত গণশুনানি অনুষ্ঠানের একটি দাবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে অবিলম্বে নিঃশর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। তবে এখনই আন্দোলন কর্মসূচির দিকে যাওয়ার পক্ষে নয় বিএনপির নীতিনির্ধারক ফোরাম।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও ফ্রন্টের সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করতে চান তারা। ফলে এখনই রাজপথের উত্তাপ সৃষ্টিকারী কোনো কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে না বিএনপি। তবে চূড়ান্ত আন্দোলনের একটি প্রেক্ষাপট তৈরির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ ও জনমত সৃষ্টিকারী কর্মসূচির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিকে জোরদার করে তোলা ও এগিয়ে নেয়া হবে। বিশেষ করে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সরকারের কারচুপির কৌশল সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে নতুন নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের নতুন কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ