jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১২ই রজব, ১৪৪০ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :




বালাগঞ্জে রাত পোহালেই নির্বাচন, কে হচ্ছেন উপজেলার অবিভাবক

আবুল কাশেম অফিক :: আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নের ৮০ হাজার ৬শ’ ৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে।
উপজেলার বাজার কেন্দ্রিক নির্বাচনী হাওয়া বিরাজ করলেও সাধারন ভোটারদের মাঝে ভোট নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই। তবে শেষ মুহুর্তে এসে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কে হচ্ছেন বিজয়ী এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত লড়াই হবে দুইজনের মধ্যে। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত “নৌকা” প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর, “ঘোড়া” প্রতীকে নিয়ে উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দাল মিয়া। আনারস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী। জাতীয় পার্টির নেতা আব্দুর রহিম।
তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন করায় ইতিমধ্যে আব্দাল মিয়া ও গোলাম রব্বানীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

এদিকে, এবারের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট ও
বিএনপি না থাকলেও চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দুই বিএনপি নেতা প্রার্থী থাকায়
অনেকেই মনে করছেন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান মফুর। উপজেলা আওয়ামী লীগের ভেতরে লবিং-গ্রুপিং দ্বন্দ্ব থাকলেও বিগত সংসদ নির্বাচনের মতো নৌকা’র প্রার্থীর পক্ষে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছেন সেভাবেই মোস্তাকুর রহমান মফুরের বিজয়ের লক্ষ্যে দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

অন্যদিকে তিনভাগে বিভক্ত উপজেলা
বিএনপির নেতাকর্মীরা,বড় একটি অংশ আব্দাল মিয়ার সঙ্গে এবং একটি অংশ
মুহাম্মদ গোলাম রব্বানীর সঙ্গে রয়েছেন। উপজেলা বিএনপি সভাপতি, সহ-সভাপতি নেতৃত্বাধীন বেশকিছু নেতাকর্মীরা হাইকমান্ডের অনুসরণে নিরবতা পালন করছেন। তবে বিএনপির এমন দ্বিধাবিভক্তিতার মধ্যেও গতকাল ও আগেরদিন উপজেলা বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আব্দাল মিয়াকে নিয়ে শোডাউন করতে দেখা যায়। এতে ঘোরার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

 

উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত, খেলাফত, জমিয়ত সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো প্রার্থী না থাকায় তাদের নিরব ভোট যে বাক্সে পড়বে সেখানে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

এছাড়া নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হচ্ছেন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী (টিউবওয়েল) মোঃ সামস উদ্দিন সামস (চশমা) নেতা সুজিত চন্দ গুপ্ত বাচ্ছু (বাল্ব) শেখ নুরে আলম (মাইক) সৈয়দ মোস্তাক আহমদ (তালা)। এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. কুলসুমা বেগম (পদ্মফুল) সেবু আক্তার মনি (ফুটবল) ও সুক্তি রানী দাস (কলস)। মাঠের অবস্থায় মনে হচ্ছে চেয়ারম্যান পদে মোস্তাকুর রহমান মফুর (নৌকা) আব্দাল মিয়া (ঘোড়া) দুজনের মধ্যে মূলত লড়াই হবে।
মহিলা ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান এর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্বাচন কতটুকু অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে এ নিয়ে ভোটার,জনসাধারণ,প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে আশঙ্কা কাজ করছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ