jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ২২শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» বাংলাদেশে এখন বিশ্বের আধুনিক আইটি সিস্টেম রয়েছে: জয় «» সিলেটে নবীনদের শুভাগমনে মদন মোহন কলেজে ছাত্রলীগের মিছিল «» আত্মীয় বা দলের নেতা কেউ ছাড় পাবে না: শেখ হাসিনা «» যুবলীগ থেকে ওমর ফারুক আউট, তাপস ইন «» জগন্নাথপুরে ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষে উভয় পক্ষে আহত ১৫ «» সৈয়দপুরে ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনের জন্মদিন পালিত হয়েছে «» দোয়ারায় ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনের জন্মদিন পালিত হয়েছে «» সিলেটে ছাত্র জমিয়তের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত «» জগন্নাথপুরে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচার) আলোচনা সভা ও লিফলেট বিতরণ «» আল্লাহ ও রাসুল (স.)কে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে সাধারণ মুসুল্লিদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত ১, শতাধিক আহত




দিরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করুণ দশা

সামছুল ইসলাম সরদার :: প্রধান কর্তা থাকেন সিলেটে, চিকিৎসকরা দিনের অধিকাংশ সময় বাসায় ব্যস্ত থাকেন প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে। দিরাই উপজেলার ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র আশা-ভরসা দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমন দশা দীর্ঘদিন ধরে। ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে সমস্যার যেন শেষ নেই।
বিদ্যুৎ না থাকলে মোবাইলের আলো জ্বেলেই জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীর সেবা দেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাতের বেলা বিদুৎ চলে গেলে এক ধরনের ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয় হাসপাতালে। এমন অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরে।
জানা যায়, দুই বছর আগে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদারের প্রচেষ্টায় জেনারেটরের ব্যবস্থা হলেও অধিকাংশ সময় ডিজেল না থাকার অজুহাতে বন্ধ রাখা হয় জেনারেটর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসের অধিকাংশ সময়ই সিলেট অথবা সুনামগঞ্জে অবস্থান করেন। জরুরি মিটিং ছাড়া তিনি দিরাই আসেন না। প্রধান কর্তার নিয়মিত অনুপস্থিতিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।
প্রায় ৩ বছর আগে প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের চেষ্টায় ৩০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনো মানসম্মত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন উপজেলাবাসী। লোকবল সংকট নিরসনের বিষয়টি ‘উদ্যোগের’ মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা অধিকাংশ রোগী বিনাচিকিৎসায় বাড়ি ফিরছেন।
এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। রোগীদের মাঝে দেওয়া খাদ্যসামগ্রী অল্প ও নি¤œমানের বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোগীদের সাথে আলাপকালে তারা অভিযোগ করে বলেন, নতুন ভবনের দামি উন্নতমানের ফার্নিচার ও কারুকাজ দেখতে অনেকেই আসেন কিন্তু আমাদের জন্য সুন্দর জায়গা হয়নি। আমরা বারান্দায় শুয়ে আছি। সামান্য অসুস্থ হলেই ডাক্তাররা সিলেট প্রেরণ করেন। ৫০ শয্যা হওয়ায় আমরা মনে করেছিলাম কিছু হলেও চিকিৎসা সেবা পাব। নতুন ভবন উদ্বোধন হলেও চালু না হওয়ায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত আমরা। ইচ্ছে থাকলে যে পাঁচ-ছয় জন এমবিবিএস ডাক্তার রয়েছেন তাঁদের দিয়ে চালু করা যেতো নতুন ভবনটি। ডাক্তার সাহেবরা প্রাইভেট চিকিৎসা নিয়া ব্যস্ত। একটি অ্যাম্বুলেন্স রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খোলা আকাশের নিচে বিনষ্ট হচ্ছে আরেকটি নামে মাত্র আছে।
দিরাইয়ের বাসিন্দা সুনামগঞ্জ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট সহিদুল হাসমত খোকন বলেন, গত কয়েকদিন আগে রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আমার ভাগ্নিকে দিরাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার নাজিয়া ইসলামকে জরুরি বিভাগে আনা যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে আমার ভাগ্নিকে সুননামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। দিনের বেলাও ডাক্তাররা প্রাইভেট রোগী দেখতে ব্যস্ত থাকেন। জরুরি বিভাগে রোগীরা অপেক্ষা করে বসে থাকতে হয়।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস বলেন, লোকবলের স্বল্পতার জন্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাবে নতুন ভবনটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ চলছে। খুব শীঘ্রই ৫০ শয্যা হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ