jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৬ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :




সম্পদের পবিত্রতা অর্জনে যাকাত প্রদান অত্যাবশ্যক

মোঃ মিজানুর রহমান মিজান :: 

ইসলামের পাঁচটি মূলস্তম্ভের একটি হলো যাকাত। প্রতিবছর সম্পদশালী মুমিন মুসলমানগণ গরীব, দুঃখী ও অভাবী মানুষের মধ্যে যাকাত প্রদানের দ্বারা মহান আল্লাহর প্রিয় পাত্র হওয়ার চেষ্টা করে থাকেন।

যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা বা বৃদ্ধি পাওয়া। শরীয়তের পরিভাষায় নিজের অর্জিত সম্পদ থেকে একটি অংশ কম সৌভাগ্যবান অভাবীদের মধ্যে প্রদান করা এবং এ থেকে কোন প্রকার মুনাফা হতে নিজেকে নিরাপদ রাখাকে যাকাত বলে।
যাকাত আদায়ের দ্বারা যাকাত দাতার সম্পদ পবিত্রতা লাভ করে এবং যাকাত দাতার অন্তর কৃপনতা থেকে রেহাই পায় বলেই এর নাম যাকাত।

 

আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনের যত স্থানে নামাযের কথা বলেছেন তত স্থানে যাকাত আদায়ের কথা বলেছেন। ঈমান ও নামাযের ন্যায় যাকাত ও ইসলামের একটি মৌলিক বিধান।

হযরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসুল (সা.) ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যাকাতকে তৃতীয় স্তম্ভ বলে ঘোষনা করেছেন। এর দ্বারা যাকাতের গুরুত্ব সম্পর্কে সহজে উপলব্ধি করা যায়। (মেশকাত-১২)।
এভাবে আরো অনেক হাদীস দ্বারা যাকাত ফরয হওয়া ও তা আদায়ের লাভ ও গুরুত্বের প্রমান পাওয়া যায়।

 

যাকাত দেয়ার জন্যে একজন মুমিন মুসলমানকে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে। নিসাব বলতে বোঝায় ন্যূনতম যে পরিমাণ ধন-সম্পদ থাকলে যাকাত আদায় করা ফরয। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের হিসাব অনুসারে, এই পরিমাণ হচ্ছে ৭.৫ তোলা স্বর্ণ কিংবা ৫২.৫ তোলা রৌপ্য অথবা সমপরিমাণ অর্থ।

যে ব্যক্তি এক বছর যাবত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকেন, তাকে মোট অর্থের শতকরা ২.৫% হারে যাকাত পরিশোধ করতে হবে। অধিক সওয়াবের আশায় বেশিরভাগ মুসলমানই যাকাত আদায়ের জন্যে পবিত্র রমজান মাসকে বেছে নেন।

 

যাকাত বান্দাকে মহান আল্লাহপাকের সান্নিধ্যে আসতে সহায়তা করে। ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে যাকাত প্রদান করা অত্যন্ত জরুরী। শুধুমাত্র আল্লাহপাকের সান্নিধ্য লাভই নয়, একে অপরের প্রতি সহানুভূতি বৃদ্ধি ও সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ গঠনে যাকাত অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সুতরাং হালাল পন্থায় উপার্জিত সম্পদের পবিত্রতা অর্জনে যাকাত আদায় অত্যাবশ্যক।

লেখকঃ শিক্ষক ও কলামিষ্ট, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ