jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» বিশ্বনাথে মসজিদ নির্মাণে পুলিশি বাঁধা, উত্তেজনা! «» বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে যুবককে পুলিশে সোপর্দ «» কাতিয়া ইসলামী সমাজ কল্যান সংস্থার উদ্যোগে দক্ষ ও যোগ্য কর্মী গড়ার লক্ষে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত «» জগন্নাথপুরে গাঁজা সহ গ্রেফতার ১ «» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে পঞ্চগ্রাম উলামা পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন «» জগন্নাথপুরে রিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের «» জগন্নাথপুরে সরকারি গাছ কাটা নিয়ে নির্দোষ দাবি যুবলীগ নেতার «» আসছে বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি «» ছাতকে খেলাফত মজলিসের প্রতিবাদ সভায় কাশ্মিরে মুসলমানদের ওপর ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধ করে ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিন «» উলামা মাশায়েখ দ্বীনদার বুদ্ধিজীবি ও দেশ প্রেমিকদের একযোগে কাজ করার আহবান- মুহাম্মদ মুনতাসির অালী




চাঁদ দেখা বিষয়ক মৌলিক সমস্যা এবং এর স্থায়ী সমাধানের পথ : সৈয়দ মবনু

চাঁদ দেখা বিষয়ক সমস্যা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখা বিষয়ক মাসআলায় বিতর্ক প্রায়ই হয়। পাকিস্তানে এই বিতর্কে মুফতি রশিদ আহমদ লুধিয়ানভী (র.) এবং মুফতি শফি (র.) একেবারে বিপরীতমুখি ছিলেন। বৃটেন এবং বাংলাদেশে এ বিষয়ক আলেমদের বিভিন্ন আলোচনা এবং বিতর্কে আমাকে থাকার সুযোগ হয়েছে। এবিতর্কের অনেক কিতাব পড়ার সুযোগও আমার হয়েছে। অবশেষে আমি একটা বিষয় অনুভব করেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত চাঁদ বিষয়ক পুরাতন নীতির আলোকে ইজতিহাদ করে আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্প্রদায় রাষ্ট্রীয়ভাবে এই বিষয়টির একটা মৌলিক আইনগত কাঠামো তৈরি করতে পারবে না ততক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান স্থায়ীভাবে সম্ভব নয়।ইসলামে চাঁদ দেখার যে বিধান তৈরি রয়েছে তা ভেঙে সরকার কিংবা চাঁদ দেখা কমিটির কিছু করতে হলে অনেক সমস্যা এবং সমালোচনার মুখোমুৃখি হতে হয়, তাই ওদের পক্ষে রিক্স নেওয়া সম্ভব হয় না। যারা প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে নেই তাদের পক্ষে যেকোন কথা বলা যত সহজ, যারা দায়িত্বে থাকেন তাদের পক্ষে কথা বলা তত সহজ নয়। একটি গোষ্ঠি ইচ্ছে করলে যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু যারা অসংখ্য গোষ্ঠির বা গোটা জাতির প্রতিনিধিত্ব করে তাদের পক্ষে যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সবার কথা বিবেচনায় রাখতে হয়। ভারত, বৃটেন, সৌদি আরব কিংবা বিশ্বের যেখাইেন চাঁদ দেখা হোক না কেন সেটা মানতে হলে আমাদের দেশের উলামারা সংঘবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। নতুবা বিশৃঙ্খলা আরও বৃদ্ধি পেয়ে নতুন ফিতনা তৈরি হবে। এখানে চিন্তাগতভাবে সকল গ্রুপকে মোটামোটি একটা ঐক্যে পৌঁছতে হবে, নতুবা নতুন বিদ্রোহ তৈরি হবে। ইসলামী আইনের কিতাবগুলোতে মতামতের যে ভিন্নতা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় একটি ফকিহ গ্রুপকে জাতীয়ভাবে তৈরি করে অতঃপর সিদ্ধান্তে যেতে হবে, নতুবা অবস্থা আরও খারাপ হবে। শুধূ আবেগে কথা বললে হবে না। স্মরণ রাখতে হবে, চাঁদ দেখার বিষয়টি মাসআলাগত, আবেগের বিষয় নয়। মাসআলার সার-সংক্ষেপ আমরা একটু নীচে দেখতে পারি;
চাঁদ দেখার বিষয়ে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, আমি হযরত রাসুল (স.) কে বলতে শোনেছি, তোমরা রমজানের চাঁদ দেখলে রোজা রাখ এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখলে ইফতার কর। আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় তবে ত্রিশদিন পূর্ণ করো। ( সহীহ বোখারী, হাদিস নং ১১২৫)। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রয়েছে, নবী করিম (স.) বলেছেন, তোমরা রমজানের চাঁদ না দেখে রোজা রেখ না। আবার চাঁদ না দেখে ইফতার করো না। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় তবে ত্রিশদিন পূর্ণ করো। (সহীহ বোখারী, হাদিস নং ১১২৭)। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিস, হযরত রাসুল (স.) বলেন, ‘চাঁদ দেখে রোজা রাখবে এবং চাঁদ দেখে রোজা শেষ করবে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় যদি চাঁদ তোমাদের দৃষ্টিগোচর না হয় তবে শাবান মাসকে ত্রিশদিন পূর্ণ করবে। (মুসলিম শরিফ)।

 

এই হাদিসগুলোর ভাষায় দৃষ্টি দিলে স্পষ্ট হয় এগুলো ছিলো নির্দেশমূলক। আর হাদিসের নির্দেশমূলক স্পষ্ট বিধানগুলো মুসলমানদের জন্য মেনে চলা ওয়াজিব। ওয়াজিব ভঙ্গ করলে ফরজ ভঙ্গের মতোই পাপ হয়। তাই ইসলামের আইন বিশেষজ্ঞরা শাবান মাসের উনত্রিশ তারিখ সন্ধ্যাবেলা রমজানের চাঁদ তালাশ করা এবং রমজানের উনত্রিশ তারিখ শাওয়ালের চাঁদ তালাশ করা ওয়াজিব বলেছেন। যদি শাবানের উনত্রিশ তারিখ চাঁদ দেখা যায় তবে পরদিন রোজা রাখতে হবে, আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় তবে শাবানকে ত্রিশদিন পূর্ণ করে রোজা রাখতে হবে। তেমনিভাবে যদি রমজানের উনত্রিশ তারিখ চাঁদ দেখা যায় তবে পরদিন রোজা ভেঙে ঈদ করতে হবে, আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় তবে রমজানকে ত্রিশদিন পূর্ণ করে ঈদ করতে হবে। এই হলো চাঁদ সম্পর্কিত ইসলামের মৌলিক আইন বা মাসআলা।

 

ইসলাম যখন মক্কা-মদিনা থেকে বেরিয়ে বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করলো তখন দেখা দিলো এই মাসআলায় বিভিন্ন মতানৈক্য বা ইখতিলাফ। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা খিলাফত যখন ভেঙে যায় তখন মাসআলাটা আরও জঠিল হয়ে যায়। আবার যখন ইউরোপ, আমেরিকা, আরব, আফ্রিকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা জীবন সংগ্রামের তাকিদে গিয়ে জামায়েত হতে শুরু করেন তখন এই মাসআলা হয়ে যায় আরও জঠিল। প্রত্যেক দেশের প্রবাসীদের ইচ্ছে থাকে তার দেশের আত্মীয়-স্বজনের সাথে মিলিয়ে ঈদ উদযাপন করার। বৃটেনে আমি দেখেছি, এক সময় এমন ছিলো, পাকিস্তানিরা ঈদ করতেন পাকিস্তানের সাথে মিলিয়ে, বাঙালীরা ঈদ করতেন বাংলাদেশের সাথে মিলিয়ে আর আরবীরা ঈদ করতেন আরবের সাথে মিলিয়ে। কেউ কেউ আফ্রিকাকেও অনুনরণ করতেন। অতঃপর যখন ধীরে ধীরে দেশ-কেন্দ্রিক চিন্তা হ্রাস পেতে থাকে তখন অনেকে মক্কা শরিফের সাথে মিলিয়ে ঈদ এবং রোজা রাখতে শুরু করেন। এবিষয়ে বৃটেনে অসংখ্য সেমিনার-মিটিং হয়েছে, অনেকগুলোতে আমি নিজেও উপস্থিত থেকেছি। যারা সৌদির সাথে মিলিয়ে ঈদ ও রোজা রাখার পক্ষে তারা একটা যুক্তি ধীরে ধীরে বৃটেনের তরুণ মুসলমানদের কাছে উপস্থাপন করলেন যে, বৃটেন থেকে সৌদি আরবের দূরত্ব মাত্র তিন ঘন্টার, বাংলাদেশের দূরত্ব ছয় ঘন্টার, পাকিস্তান-ভারতের দূরত্ব তেমনি চার-পাঁচ ঘন্টার তাই সৌদি আরব অর্থাৎ মক্কা-মদিনাকে অনুসরণ করা যুক্তিযুক্ত এবং মাসআলাগত সঠিক। অবশেষে এই মতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে।

 

বাংলাদেশে চাঁদ নিয়ে সমস্যা ছিলো না আমাদের ছোটবেলায়। কারণ তখন সৌদি আরব কিংবা বৃটেনের সাথে এত দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হতো না। এমন কি ভারত কিংবা পাকিস্তানের সাথেও যোগাযোগ সম্ভব হতো না। যখন মোবাইল-স্যাটেলাইটের যুগ আসে তখন সমস্যাটা শুরু হয়। আবার যখন ফেসবুকের যুগ আসে তখন ভিন্নজন ভিন্ন মত নিজের মতো করে প্রকাশ করতে থাকলে সমস্যা আরও জঠিল আকার ধারণ করে। এই সমস্যা তাদের বক্তব্যেই জটিল হয় যাদের চাঁদ দেখা বিষয়ে মৌলিক মাসআলার বিভিন্ন মতামতের সমন্বয় করা সম্ভব হয় না। চাঁদ দেখার হাদিস থেকে মাসআলা যখন স্থানীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয় তখন প্রত্যেকে নিজেদের অবস্থান অনুযায়ি উপস্থাপন করেছেন। তখন ছিলো না আন্তর্জাতিক যোগাযোগ পদ্ধতি। এখন আন্তর্জাতিক যোগাযোগ পদ্ধতি হয়েছে, তবে মাসআলার মৌলিক সমন্বয় সম্ভব হচ্ছে না পৃথিবীর অনেক বড় বড় মুফতি এবং আলেম-উলামা ইজতেহাদের পথ বন্ধ বলে ধারণা করে থাকেন। এই ধারণায় পরিবর্তন সম্ভব না হলে চাঁদ দেখার মাসআলায় পরিবর্তন সম্ভব নয়। স্মরণ রাখতে হবে, ঈদ শুধু উৎসব নয়, ঈদ একটি মৌলিক ইবাদতও। তা ছাড়া রোজা তো ইসলামের মৌলিক ফরজের অন্যতম একটি। এখানে সোয়াব- গোনাহের ব্যাপার রয়েছে, রয়েছে হালাল-হারামের বিষয়। এই বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে দায়িত্বশীলদের অনেক ভাবতে হয়। তাই সাধারণ মানুষ যে যাই মন্তব্য করুক, আলেম ও জ্ঞানীদের মন্তব্য করার পূর্বে একটু হাদিস এবং ফিকাহের কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ