jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» সিলেটে আন্দোলন সংগ্রামের বীর সৈনিক আলহাজ্ব সৈয়দ আতাউর রহমানের রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত «» জনগণের সাথে পুলিশকে আরো ভাল আচরণ করতে হবে- সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিপিএম «» দেশে ফিরেছেন ৩৪ হাজার ৯শ’ ৯২ হাজী «» মাইকিং করে ৪২ মণ ওজনের সেই আলোচিত ষাঁড় ‘টাইগারকে জবাই করে গোস্ত বিক্রি «» বালাগঞ্জে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতির প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের ভাড়া কমানোর সিন্ধান্ত «» সিলেট সিটির ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৭৮৯ কোটি ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা «» সৌদীআরবে আঞ্জুমানের সমাবেশ অনুষ্ঠিত «» শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় অধ্যাপক মোজাফফরকে শেষ বিদায় «» ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ উদ্বোধন রাশিয়ায় «» সুনামগঞ্জে রিপোর্টার্স ইউনিটি’র কমিটি গঠন




আমি কেমন বাংলাদেশ চাই? : সৈয়দ মবনু

অন্ধ মানুষ শুধু তার সামন দেখতে পায় না। মূর্খ মানুষ কোন কিছু দেখে না। কোন মানুষ যদি তার জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য না জানে তবে সে হয়তো পাগল, নয়তো মূর্খ। আমি আমাকে প্রশ্ন করি; তুমি কি চাও? মাঝেমধ্যে মনে হয়,

 

‘আমি চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা চাই
চাই মাথার উপরের বিশাল নীল আকাশ
আর পৃথিবীর সকল জমি
চাই নদী-নালা-খাল-বিল-সমুদ্র
পাহাড়-জঙ্গল আর খানিজ সম্পদ। (আমি কি চাই?)।

 

কবিতায় আমি চাইলাম, পৃথিবী এবং পৃথিবীর সবকিছু। আবার কখনও কখনও মনে হয়,

‘সবকিছু লাতি দিয়ে ফেলে দেবো
যদি তুমি বলো; শুধু আমাকে চাও।’ (প্রাগুক্ত)

এই তুমি’তে মা, মাটি, মানুষ কিংবা প্রিয়া যেকোন কিছু হতে পারে। প্রত্যেকে নিজের মতো করে ভাবেন, আমি কিছু বলবো না। তবে আমি নিজের জীবন দিয়ে অনুভব করেছি মানুষের চাওয়া ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাস্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়ে থাকে। এই লেখা লিখতে গিয়ে আমি আমাকে প্রশ্ন করলাম, ‘তুমি’র ব্যাখ্যা? উত্তর হলো, এখানে তুমি মানে সোনার বাংলাদেশ।

 

প্রশ্ন হলো, আমি কেমন বাংলাদেশ চাই? উত্তর খুবই সরল; আমি এমন একটা বাংলাদেশ চাই যেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন আমার বাপ-চাচা ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশ-বিদেশে বসে। আমি চাই; আমার এবং গোটাদেশের প্রত্যেক মানুষ এবং প্রতিটি ইঞ্চির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্ব। আমার চাওয়া শ্লোগান, বক্তব্য আর পোশাকে নয়, আমি অনুভব করি হৃদয়ের বিশ্বাসে। আমি বিশ্বাস করি কর্মে। আমি চাই; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের প্রতিটি মানুষ হোক জ্ঞানী, বুদ্ধিমান, কর্মট আর প্রেমিক। মানুষের মধ্যে আবেগ থাকলে আমার আপত্তি নেই, তবে তা হতে হবে জ্ঞান, বুদ্ধি এবং কর্মের সমন্বয়ে। আমি মনে করি না যে, এদেশের সব মানুষ সর্বক্ষেত্রে শিক্ষিত হওয়া জরুরী। আমি মনে করি প্রতিটি মানুষ স্ব স্ব ক্ষেত্রে শিক্ষিত হতে হবে। এই স্ব স্ব ক্ষেত্র মানে কি? মানে হলো, যে যেকাজ করতে উৎসাহী সে এই কাজকে পূর্ণাঙ্গরূপে শিখবেন। অবশ্যই জাতীয় শিক্ষানীতি শুধু কর্মচারী তৈরির উদ্দেশ্যে হবে না, তা হবে জ্ঞান অর্জনের জন্য, বুদ্ধিকে শানিত করার জন্য, কর্মে দক্ষতার জন্য এবং আবেগ ও আসক্তিমুক্ত প্রেম সৃষ্টির জন্য।

 

আমি চাই এদেশের ছেলে-মেয়ে সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা হোক মৌলিক বিষয়ের উপর সমান এবং বাধ্যতামূলক। মাধ্যমিক শিক্ষা হোক বিষয় ভিত্তিক। প্রাথমিক শিক্ষায় উত্তীর্ণের পর সেখানে প্রত্যেককে তাদের নিজেদের প্রতিভা এবং চাহিদা অনুসারে ভাগ করা হোক অভিভাবক এবং শিক্ষকদের পরামর্শের ভিত্তিতে। নারী-পুরুষ সবার জন্য দশমশ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা হোক বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে কেউ অবহেলা করলে তাকে এবং তার অভিভাবককে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শাস্তির বিধান করা হোক। গরীবদের জন্য সরকারী এবং বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা হোক ফ্রি কিংবা প্রত্যেক অভিভাবকের আয়ের উপর ভিত্তি করে ফিস নির্ধারণ করা হোক। শিক্ষা এবং চিকিৎসা এই দুই ক্ষেত্রে ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রিত করা হোক রাষ্ট্রীয়ভাবে। মেধা কিংবা যোগ্যতা শুধু পরীক্ষার পেপার দেখে নির্ণয় না করে বরং সারা বছরের কর্ম থেকে সংগ্রহ করা হোক। শিক্ষায় শুধু তাথ্যিকতাকে গুরুত্ব না দিয়ে তাত্ত্বিক বিষয়েও লক্ষ্য রাখা হোক। ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা বিকাশের জন্য তাদের পঞ্চ-ইন্দ্রিয়কে জাগিয়ে তোলার চেষ্টায় শিক্ষক এবং অভিভাবকদেরকে সচেতন করা হোক। শুধু বই পড়ে যে জ্ঞান অর্জিত হয় না তা দেশের সকল শ্রেণীর মানুষকে বুঝিয়ে দেয়া হোক। তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হোক; কীভাবে এই ইন্দ্রিয়গুলোর মাধ্যমে পরিবেশ এবং বই থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ‘আত্মায়’ নিয়ে মিশিয়ে জ্ঞান তৈরি করতে হয়। এরপর জ্ঞানকে কলম ও মুখ দিয়ে বিতরণের জন্য কিছু জ্ঞানী মানুষকে প্রস্তুত করা হোক।

 

আমি চাই সবাই অনুভব করুক; শুধু জ্ঞান দিয়ে হবে না, সাথে বুদ্ধিও থাকতে হবে। জ্ঞানের সাথে বুদ্ধির সমন্বয় না হলে জ্ঞান যে অকার্যকর থেকে যায় তা সবার অনুভবে আসা খুবই জরুরী। অনেক মানুষ জ্ঞান অর্জন করেও জীবনে ব্যর্থ থেকে যায় বুদ্ধির সমন্বয় করতে না পেরে। সবাইকে বুঝতে হবে, জ্ঞান ও বুদ্ধির সমন্বয় হলেই মানুষের কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়। দূর হয় বেকারত্ব।

 

অতঃপর আমি চাই এদেশের প্রতিটি মানুষ জ্ঞান-বুদ্ধি এবং কর্মের সমন্বয়ে প্রেমিক হোক। প্রতিটি মানুষে অন্তরে প্রেম জাগুক দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি এবং তার আত্মীয়-স্বজন-পরিবারের প্রতি। দয়ার আলোকে বিনির্মাণ হোক এদেশের মাটি, মানুষ, প্রকৃতি এবং পশু-পাখি। মানুষ অনুভব করুক স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের পূর্ণাঙ্গ স্বাদ।

লেখক: কবি ও গবেষক, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ