jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» আল্লামা শায়খ যিয়া উদ্দিনের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে লিখিত জীবনী স্মারকের মোড়ক উন্মোচন ৮ আগস্ট «» রাজনৈতিক সংকট এখন রাজনৈতিক শূন্যতায় পরিনত হয়েছে- মাওলানা ইসহাক «» বিশ্বনাথে এইচএসসিতে দুই বোনের জিপিএ-৫ লাভ «» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে শতাধিক পরিবারে আল হান্নান ইসলামী সমাজ কল্যাণ সংস্থার ত্রাণ বিতরন «» মৌলভীবাজারে সিজারে টানা হেচড়ায় নবজাতকের গলা কেটে মৃত্যু «» প্রিতমের গোল্ডের জিপিএ-৫ লাভ «» জগন্নাথপুরে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পানিবন্দি অসহায় মানুষের কাছ থেকে কিস্তি আদায় করছে এনজিও সংস্থা আশা «» বিশ্বনাথে সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ «» ছাতকে নদী থেকে লাশ উদ্ধার  «» ওসমানীনগরে ৩২টি প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ




বৃদ্ধাশ্রম নয় নিজ আবাসস্থলই হোক মা-বাবার শেষ আশ্রয়স্থল

মোঃ মিজানুর রহমান মিজান ::

 

বৃদ্ধাশ্রম বলতে সাধারণতঃ বৃদ্ধদের আবাসস্থলকে বুঝালেও এখন এ সংজ্ঞা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমান সময়ে বৃদ্ধ পিতা-মাতার জন্য পরিবার পরিজন থেকে আলাদা আবাস বা আশ্রয়স্থলের নাম বৃদ্ধাশ্রম। বৃদ্ধাশ্রমের উৎপত্তি হয়েছিল মূলত গরিব-দুস্থ, সহায়-সম্বলহীন, সন্তানহারা বৃদ্ধদের শেষ জীবনে বিশেষ সেবা প্রদান করার জন্য।
বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বৃদ্ধাশ্রমের যাত্রা শুরু হলেও আজকে তার ঠিক উল্টো দিকটাই দেখা যায়। এখন বৃদ্ধাশ্রমের যেই ছবিটি আমাদের চোখে পড়ে তা হলো, একসময়ে যে মানুষগুলো ছাড়া এক মুহুর্ত থাকা সম্ভব ছিলনা,যাদের মুখে খাবার তুলে না দিলে সেদিন আর খাওয়া হতো না। যে মা নিজের সব দুঃখ-কষ্ট বুকে চেপে সন্তানের হাসিমাখা মুখ দেখার জন্য ব্যাকুল থাকতেন, নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়াতে উদগ্রীব থাকতেন, নিজে না ঘুমিয়ে সন্তানকে ঘুম পাড়াতেন, সন্তান অসুস্থ হলে সারারাত শিয়রে বসে থাকতেন, যে বাবা নিজের অসুস্থতার কথা না ভেবে কেবল তার সন্তানদের কথা চিন্তা করে ভোরেই নেমে পড়তেন খাবারের সন্ধানে, সেই বাবা-মায়ের শেষ বয়সের ঠিকানা আজ বৃদ্ধাশ্রমে।কিছুদিন আগেও এমনটা ছিল না। দিনদিন বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে ক্রমেই ভিড় জমছে। কিন্তু কেন? এর উত্তরটা অতি সাধারণ, আমরা উন্নত হচ্ছি, আমরা শিক্ষিত হচ্ছি, আমরা সভ্য হচ্ছি। আমরা ভুলে যাচ্ছি আমাদের অতীতকে, আমরা ভুলে যাচ্ছি আমাদের শেকড়কে।
যারা বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে পরিবারের বোঝা মনে করে বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে রেখেছেন তারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে তারাতো বৃদ্ধ ছিলেন না, তাদেরও একসময় ভরা যৌবন ছিল। তারা তো পরিবারের বোঝা ছিলেন না। বরং আমরা সন্তানরাই তো তাদের বোঝা ছিলাম কিন্তু তারা তো কখনো আমাদেরকে বোঝা মনে করেননি। আমাদেরকে বড় করে তোলার জন্য তাদের বিন্দু পরিমাণ কোন কমতি ছিলনা। কত যত্ন করে বুকে আগলিয়ে তারা আমাদেরকে লালন-পালন করেছেন।
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না আমরাও একসময় শিশু ছিলাম। বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবা শিশুদের মতো হয়ে যান। তারা শিশুসুলভ আচরণ করেন। তারা যেমন করে শৈশব থেকে শুরু করে অগণিত ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করে আমাদেরকে মানুষ করেছেন, আমাদেরও কর্তব্য সেই বৃদ্ধ পিতা মাতাকে জীবনের শেষ সময়টুকুতে বৃদ্ধাশ্রম নামক কারাগারে না রেখে নিজের কাছেই রাখা। অতএব বৃদ্ধাশ্রম নয় নিজ আবাসস্থলই হোক মা-বাবার শেষ আশ্রয়স্থল। লেখকঃ শিক্ষক ও কলামিষ্ট, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ