jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» বিশ্বনাথে মসজিদ নির্মাণে পুলিশি বাঁধা, উত্তেজনা! «» বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে যুবককে পুলিশে সোপর্দ «» কাতিয়া ইসলামী সমাজ কল্যান সংস্থার উদ্যোগে দক্ষ ও যোগ্য কর্মী গড়ার লক্ষে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত «» জগন্নাথপুরে গাঁজা সহ গ্রেফতার ১ «» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে পঞ্চগ্রাম উলামা পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন «» জগন্নাথপুরে রিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের «» জগন্নাথপুরে সরকারি গাছ কাটা নিয়ে নির্দোষ দাবি যুবলীগ নেতার «» আসছে বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি «» ছাতকে খেলাফত মজলিসের প্রতিবাদ সভায় কাশ্মিরে মুসলমানদের ওপর ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধ করে ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিন «» উলামা মাশায়েখ দ্বীনদার বুদ্ধিজীবি ও দেশ প্রেমিকদের একযোগে কাজ করার আহবান- মুহাম্মদ মুনতাসির অালী




নবীগঞ্জে কৃষকের তালিকায় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও প্রবাসিরা

মো. সরওয়ার শিকদার :: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সরকার কর্তৃক সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও চাল ক্রয়ে চলছে ব্যাপক অনিয়ম,দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি। উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর ও কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের ঠেলাঠেলিতে হচ্ছে এ অনিয়ম। দায়ভার এড়িয়ে একে অপরের প্রতি দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্থ প্রকৃত কৃষক কার কাছে গেলে ন্যায্য অধিকার পাবেন জানা নেই গ্রামের সহজ সরল কৃষকদের।

 

আবার দেখা গেছে অনেক গ্রামকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। একই পরিবারের ৫জন থেকে ৭ জনকে  কৃষক হিসাবে দেখানো হয়েছে। চেয়ারম্যান মেম্বারসহ তাদের আত্বীয় স্বজন বেশী রয়েছেন তালিকায়। কৃষি পেশায় নেই এমন ব্যক্তিদের তালিকা ভরপুর করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে প্রবাসীদের নামও। পেশায় কৃষক না হলেও কৃষক সেজে টনপ্রতি ৩হাজার টাকা করে উৎকোচ দিচ্ছেন খাদ্য কর্মকর্তাকে। এনিয়ে কৃষকের তালিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে উপজেলার সর্বত্র।

 

মাসখানেক ধরে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হলেও ৫৩৮ মেট্রিক টন এর মধ্যে নেয়া হয়েছে মাত্র ১৭০ মেট্রিক টন। টন প্রতি খাদ্য গোদামের কর্মকর্তাকে চাহিদা মতো টাকা না দেয়ায় এবং নানা অজুহাতের কারণ দেখিয়ে কৃষকদের ধান ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আবার অনেক কৃষকের ধান গোদাম এলাকায় দিনের পর দিন মাপ ঝুকের অজুহাত দেখিয়ে রাখা হচ্ছে। সিন্ডিকট ও প্রভাবশালী নেতার মাধ্যমে করা হচ্ছে ক্রয়। এতে করে কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চরম ক্ষোভ ও হতাশ দেখা দিয়েছে কৃষককের মনে। পাশাপাশি কৃষক ধানের দাম পাওয়ার জন্য সরকারের উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে। একই পরিবারে ৫-৭ জনের নাম এবং চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের নিজ নাম,গ্রাম ও আত্মীয় স্বজনদের প্রধান্য দিয়েই তৈরি করা হয় তালিকা।

 

এনিয়ে নবীগঞ্জে সুশীল সমাজের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সরেজমিনে উপস্থিত হলে দায়ভার নিতে চাচ্ছেন না কেউই। কর্মকর্তারা একে অপরকে দোষারূপ করছেন। ধান সংগ্রহ অভিযানের শুরু থেকেই প্রভাবশালীদের কবজায় চলে যায় ধান সংগ্রহ অভিযান। ওই সব নেতা ও ব্যবসায়ীরা রাতারাতি হয়ে উঠেছেন কৃষক। তারা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে সরকারি গুদামে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তাই সরকারের ধান কেনায় কৃষক নয়, জনপ্রতিনিধি ও নেতারাই বেশি লাভবান হচ্ছেন। অনেকেই মনে করেন, ধান-চাল সংগ্রহ নীতিমালা পরিবর্তন না হলে সরকারের এ সহায়তা কৃষকের কাছে পৌঁছাবে না। ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের পূর্বে একটি পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নে পৃথক কৃষকদের নামের তালিকায় তৈরি করা হয়েছে।

 

এ বছর ধান চাষ করে শ্রমিক সংকটে বিপাকে পড়েন কৃষকরা। ফসলী জমিতে পানি ও ধানের মূল্য কম হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। অনেকেই তার ফসলী জমিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে এর প্রতিবাদ ও করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমান সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ধানের দরপতন ঠেকাতে ২৬ মে থেকে সরকার নির্ধারিত প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা দরে ধান-চাল কেনার কার্যক্রম শুরু হয়। চলবে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার বোরো মৌসুুমে সাড়ে ১২ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহ করা হবে। ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর পর নবীগঞ্জের একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে কৃষকদের কাছে থেকে ধান সংগ্রহের কাজ শুরু হয় । এর পুর্বে প্রকৃত কৃষকদের নাম না রেখে প্রভাবশালী নেতা, ব্যবসায়ী, ইউপি সদস্য, ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের জোগসাজশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নবীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলা ১৩টি ইউনিয়নে একটি করে আলাদা আলাদা তালিকা করা হয়। এ তালিকায় বেশির ভাগই লোকই কৃষক নয়।

 

জানা গেছে, বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। নেতারা ইউপি সদস্যসহ সঙ্ঘবদ্ধভাবে সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে ওই দামে ধান কিনছেন। সেই ধান সরকারি গুদামে সরবরাহ করে তারা প্রতি মণে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

 

নবীগঞ্জ খাদ্য গোদাম অফিস সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা মিলে ৫৩৮ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহের কথা রয়েছে। তবে ভাল মানের ধান হতে হবে। যাচাই বাচাই ধানের মান ভাল না হলে কেনা যাবে না। এখন পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭০ মেট্রিক টন। তাদের কথা অনুযায়ী এখন ও আর ৩৬৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের কাজ বাকি রয়েছে।

 

শিবলু মিয়া নামে এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ধান সংগ্রহে অনিয়ম দুর্নীতি কেন? তিনি এক সপ্তাহ ধরে ধান নিয়ে আসলেও তার ধান অজুহাতে গ্রহন করা হচ্ছে না। আবার প্রভাবশালীরা বিভিন্ন মাধ্যমে সাথে সাথে দিয়ে যাচ্ছে।
তালিকাভুক্ত কৃষক কামাল মিয়া জানান, খাদ্য কর্মকর্তার কথা অনুযায়ী গত এক সাপ্তাহ যাবত আমার ধান খাদ্য গোদামে পড়ে রয়েছে,কিন্তু মাপ-ঝুক করা হচ্ছেনা এবং আমার ধান নেয়া হচ্ছেনা।

 

আনছার মিয়া নামে এক কৃষক জানান, কৃষি কর্মকর্তা ও মেম্বারকে টাকা না দেওয়ায় আমিসহ ৩জনের নাম তালিকায় অন্তভুক্ত করা হয়নি। ফলে আমরা এখন ধান বিক্রি করতে পারছিনা। সরকার কার জন্য ধানের দাম বাড়াইলো।

 

এ ব্যাপারে জানতে খাদ্য গুদাম ইনচার্জ আহসান হাবিব বলেন, আমাদের কোন দুর্নীতি হচ্ছে না, আমরা কৃষকের তালিকা মোতাবেক ধান নিচ্ছি, কোন অনিয়ম হলে কৃষি অফিস করেছে, তাদের তালিকায় যদি কোন কৃষক বাদ পড়ে আমাদের কিছু করার নেই, আবার কোন অকৃষক যদি তালিকায় ডুকে আমাদের কিছু করার নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমরা কারো কাছ থেকে টাকা নেই নাই। যারা এসব অভিযোগ করেছে সেটা সঠিক নয়।

 

নবীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গৌরি পদ বলেন, নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারাই এব্যাপারে ভাল বলতে পারবেন। কারন তাদের মাধ্যমেই এ তালিকা করা হয়েছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কৃষক আসলে সেই ধান সংগ্রহ করি আবার অনেকে ধান রেখে চলে যান।

 

এব্যাপারে জানতে চাইলে নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, এ কে এম মাকসুদুল আলম বলেন,আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান,মেম্বারদের সহযোগীতায় এই কৃষকদের তালিকা তৈরি করেছি। তালিকায় কোনো অনিময় দুর্নীতি হয়ে থাকলে আমরা খতিয়ে দেখবো।

 

এব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ধান-চাল সংগ্রহ কমিটির আহবায়ক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে, কৃষকের তালিকায় যদি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিজের নাম এবং আত্মীয়স্বজনের নাম দেয়া হয় অবশ্যই আমরা এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

নবীগঞ্জ ধান-চাল সংগ্রহ কমিটির উপদেষ্টা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম বলেন, যদি তালিকায় কোনো প্রবাসীদের নাম দেয়া হয় এবং জনপ্রতিনিধিদের নাম পাওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ