jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» সিলেটে আন্দোলন সংগ্রামের বীর সৈনিক আলহাজ্ব সৈয়দ আতাউর রহমানের রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত «» জনগণের সাথে পুলিশকে আরো ভাল আচরণ করতে হবে- সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিপিএম «» দেশে ফিরেছেন ৩৪ হাজার ৯শ’ ৯২ হাজী «» মাইকিং করে ৪২ মণ ওজনের সেই আলোচিত ষাঁড় ‘টাইগারকে জবাই করে গোস্ত বিক্রি «» বালাগঞ্জে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতির প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের ভাড়া কমানোর সিন্ধান্ত «» সিলেট সিটির ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৭৮৯ কোটি ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা «» সৌদীআরবে আঞ্জুমানের সমাবেশ অনুষ্ঠিত «» শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় অধ্যাপক মোজাফফরকে শেষ বিদায় «» ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ উদ্বোধন রাশিয়ায় «» সুনামগঞ্জে রিপোর্টার্স ইউনিটি’র কমিটি গঠন




বালাগঞ্জে বন্যার অতীত রেকর্ড ভঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের ফলে বালাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পশ্চিম গৌরীপুর, পুর্ব পৈলনপুর, পূর্ব গৌরীপুর, দেওয়ান বাজার, বোয়ালজুড়, বালাগঞ্জ ইউনিয়নের ৯৫ ভাগ বসত বাড়ীতে পানি প্রবেশ করেছে। কুশিয়ারী নদী সহ কাশীপুর নদী, বড়ভাগা নদী, পানিতে পরিপূর্ন। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ। বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এর অনেক অফিস ভবনের পানি প্রবেশ করেছে। বালাগঞ্জ বাজারে ৭টি পয়েন্ট এ পানি। ২/৩ ফুট পানি অতিক্রম করে বালাগঞ্জে বাজার সড়কে রিকশা ও গাড়ী চলাচল করছে। বালাগঞ্জ বাজারের অনেক দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। গোটা উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেক। বালাগঞ্জ উপজেলার ৭টি স্থানে কুশিয়ারা ডাইকের উপর দিয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

 

উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে পূর্ব গৌরীপুর, পশ্চিম গৌরীপুর, বালাগঞ্জ, বোয়ালজোড়, দেওয়ানবাজার সহ সর্বত্র বন্যা কবলিত হয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। বালাগঞ্জ বাজারে জিনিসপত্রের দাম বুদ্ধি পেয়েছে। বালাগঞ্জ-তাজপুর সড়কের ২টি স্থানে পানি প্রবেশ করায় গাড়ী চলাচল করছে ঝুঁকিপূর্ণভাবে। যে কোন সময় সিলেট এর সঙ্গে উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। উপজেলার গ্রামঞ্চলে মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশী। অনেকের ঘরে খাবার নেই। উপজেলার প্রায় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, মোঃ মোস্তাকুর রহমান মফুর জানান আমরা বন্যা মোকাবেলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে তিনি জানান ৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুস সাকিব জানান এ পর্যন্ত ৪টন চাউল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল সহ কর্মস্থলে থাকার জন্য বলা হয়েছে। এদিকে অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন ওসমানীনগর উপজেলায় প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। গত কদিন এক টানা বৃষ্টির কারনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। ওসমানীনগরের সাদীপুর, বুরুঙ্গা, উমরপুর, পশ্চিম পৈলনপুর, তাজপুর, গোয়ালাবাজার সহ উপজেলা প্রকল্প অফিসের তথ্য অনুযায়ী সবকটি ইউনিয়নে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ পানি হয়ে পড়ায়, ইতি মধ্যে বন্যা কবলিত সাদীপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে ৪ টন চাল ও শুকনা খাবার বিতরন করা হয়েছে।

 

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী সোমবার ও কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে মারাত্মক ঝুকির মধ্যে রয়েছে কুশিয়ারা ডাইক। ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ হাজার বালি ভর্তি বস্তা ফেলা হলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুজ্জামান সরকার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ।

 

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালির বস্তা ফেলা হয়েছে। উপজেলা হেকোয়াটারে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং বন্যার্তদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিমও গঠন কার হয়েছে। এ যাবত ৪ টন ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ