jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» সিলেটে আন্দোলন সংগ্রামের বীর সৈনিক আলহাজ্ব সৈয়দ আতাউর রহমানের রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত «» জনগণের সাথে পুলিশকে আরো ভাল আচরণ করতে হবে- সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিপিএম «» দেশে ফিরেছেন ৩৪ হাজার ৯শ’ ৯২ হাজী «» মাইকিং করে ৪২ মণ ওজনের সেই আলোচিত ষাঁড় ‘টাইগারকে জবাই করে গোস্ত বিক্রি «» বালাগঞ্জে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতির প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের ভাড়া কমানোর সিন্ধান্ত «» সিলেট সিটির ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৭৮৯ কোটি ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা «» সৌদীআরবে আঞ্জুমানের সমাবেশ অনুষ্ঠিত «» শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় অধ্যাপক মোজাফফরকে শেষ বিদায় «» ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ উদ্বোধন রাশিয়ায় «» সুনামগঞ্জে রিপোর্টার্স ইউনিটি’র কমিটি গঠন




কুরবানির শিক্ষা : মাজহারুল ইসলাম জয়নাল

খুশির বার্তা ও আত্মত্যাগের শিক্ষা নিয়ে বছর ঘুরে আবার ফিরে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানি। মুসলমানদেরকে ঈমানের চেতনায় উজ্জিবিত হওয়ার মহান শিক্ষা দিয়ে যায়,পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানি। কিন্তু আমরা কজনই বা কুরবানির প্রকৃত শিক্ষাকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি? আলোচ্য প্রবন্ধে কুরবানি বলতে কি বুঝায়, এবং তার শিক্ষা কি? এ বিষয় নিয়েই আলোকপাত করবো ইনশাআল্লাহ :

 

কুরবানির আভিধানিক অর্থ: আরবি ‘কুরবান’ শব্দটি উর্দু বা ফারসিতে ‘কুরবানি’ রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। যার অর্থ সান্নিধ্য, নৈকট্য। আর ‘কুরবান’ শব্দটি ‘কুরবাতুন’ শব্দ থেকে নির্গত। আরবি ‘কুরবান’ ও ‘কুরবাতুন’ উভয় শব্দের শাব্দিক অর্থ সান্নিধ্য লাভ করা, নৈকট্য লাভ করা। ইসলামী শরিয়ার পরিভাষায়, কুরবানি ঐ মাধ্যমকে বলা হয়, যার দ্বারা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন ও তার ইবাদতের জন্য হালাল কোন জন্তু যবেহ করা হয়। (মুফরাদাত লি ইমাম রাগিব; আল-কামুসূল মুহিত)
সূরা কাউছারের ২নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘‘সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশে সালাত আদায় করুন ও কুরবানি করুন।’’
সূরা আনয়ামের ১৬২নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন- ‘‘আপনি বলুন, আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ সবই বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। হাদীসে ‘উদহিয়্যা’ শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায়। এ অর্থে কুরবানির ঈদকে ‘ঈদুল আযহা’ বলা হয়। কুরবানি বলতে জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখ আসর পর্যন্ত আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে হালাল জন্তু (উট, গরু, বকরী, ভেড়া প্রভৃতি) যবেহ করা বুঝায়।

 

কুরবানির শিক্ষা : ইসলামে প্রতিটি ইবাদতের একটি মৌলিক উদ্দ্যেশ্য রয়েছে, আর তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন তথা আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া। শুধু প্রাণীকে জবেহ করলেই কুরবানি হয় না; বরং একমাত্র আল্লাহর রেজামন্দি পাওয়ার জন্যই কুরবানি হতে হবে। কোন ধরণের (রিয়া) লোক দেখানোর ইচ্ছা থাকলে আপনার কুরবানি আল্লাহর নিকট কবুল হবে না।

 

মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ) তাঁর কলিজার টুকরা প্রিয় সন্তান ইসমাঈল (আ)কে আল্লাহর রাহে কুরবানি দেয়ার সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যেভাবে ঈমানী অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মানব জাতিকে আত্মত্যাগের শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সে আদর্শ ও প্রেরণায় আমরা আমাদের জীবনকে ঈমানী আলোয় উদ্ভাসিত করব, এটাই কুরবানির মৌলিক শিক্ষা। ত্যাগ ছাড়া কখনোই কল্যাণকর কিছুই অর্জন করা যায় না। আর এই আত্মত্যাগ এর মাধ্যমেই ইব্রাহীম আ: খলিলুল্লাহ বা আল্লাহর বন্ধু উপাধি পেয়েছিলেন।মহান ত্যাগের মধ্যেই রয়েছে অফুরন্ত প্রশান্তি। কুরবানি আরও শিক্ষা দেয় যে, দুনিয়াবী সকল মিথ্যাচার, অনাচার, অবিচার, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, হানাহানি, স্বার্থপরতা, দাম্ভিকতা, অহমিকা, লোভ-লালসা, ত্যাগ করে পৃথিবীতে শান্তি ও সাম্যের পতাকা সমুন্নত রাখতে। পশু কুরবানি মূলত নিজের কু-প্রবৃত্তিকে কুরবানি করার প্রতীক। কুরবানি আমাদেরকে সকল প্রকার লোভ-লালসা, পার্থিব স্বার্থপরতা ও ইন্দ্রিয় কামনা-বাসনার জৈবিক চাহিদা হতে মুক্ত ও পবিত্র হয়ে মহান আল্লাহর প্রতি নিবেদিত বান্দা হওয়ার প্রেরণা যোগায় এবং সত্য ও হকের পক্ষে আত্মোৎসর্গ করতে অনুপ্রাণিত করে, কুরবানির সার্থকতা এখানেই। তাই পশুর গলায় ছুড়ি চালানোর সাথে সাথে যাবতীয় পাপ-পঙ্কিলতা, কুফর, শিরক, বিদআত, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, পরনিন্দা-পরচর্চা, পরশ্রীকাতরতা, সংকীর্ণতা, গর্ব-অহংকার, কৃপণতা, ও গীবতের মত পশুসুলভ যে সমস্থ আচরণ সযত্নে লালিত হচ্ছে তারও কেন্দ্রমূলে ছুরি চালাতে হবে, তাহলেই আপনার কুরবানি দেওয়া সফল। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর আনুগত্য ও খোদাভীতির দ্বিধাহীন শপথ গ্রহণ করতে হবে, তাহলেই আল্লার রাহে আপনার কুরবানি দেওয়া সার্থক হবে। মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তায়ালা আমাদের কুরবানির পশুর রক্ত, মাংস, চামড়া কোন কিছুই গ্রহণ করেন না; বরং তিনি শুধু অন্তরের আত্মত্যাগ তথা বিশুদ্ধ নিয়তকেই গ্রহণ করেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা আত্মত্যাগ (আল্লাহর রাহে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার) মহান শিক্ষা অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন। লেখক: প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট, মোবাঃ 01748-237131

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ