jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ২৩শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» অবশেষে বিশ্বনাথ পৌরসভা অনুমোদন «» বিশ্বনাথ উপজেলা ‘পৌরসভা’য় উন্নীত হওয়ায় আ’লীগের মিষ্টি বিতরণ «» বিশ্বনাথে জমিয়তের মানববন্ধনে জনতার ঢল «» সিলেটে জমিয়তে সমাবেশে নবী প্রেমিক শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে- শায়খ জিয়া উদ্দিন «» দোয়ারায় মোবাইল কোটে জব্ধকৃত পাথর চুরি করে বিক্রির দায় ২ জন আটক অতপর জরিমানা করে মুক্তি «» বিশ্বনাথে তাওহীদি জনতার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত «» জগন্নাথপুরে অাওয়ামীলীগের সম্মেলন সফলের লক্ষে সৈয়দপুরে গণ-মিছিল অনুষ্ঠিত «» ছাতকে এমপি মানিকের মাতার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত «» ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের ডাক «» হেফাজতে ইসলামের সংবাদ সম্মেলনে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কর্মসূচি ঘোষণা




জনগনের উপকারে অাসছেনা দিরাই উপজেলার জগদল ২০ শষ্যা হাসপাতাল

রেজাউল করিম রেজা :: উদ্বোধনের ৬ বছরেও সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এখনো চালু হয়নি। ৭ দফা চিঠি চালাচালির পরও জনবল পদসৃজনের প্রস্তাব আজো আমলেই নেয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর কারণে দিরাইসহ ৩ উপজেলার অন্তত: ৪০ গ্রামের লোকজন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপকারে আসছে না ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক ভবনগুলো। প্রহরী না থাকায় মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটছে।

 

 

অথচ জনবল নিয়োগ দিয়ে সেবা অব্যাহত রাখতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জীবদ্দশায় একাধিকবার ডি.ও লেটারও দেন। স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. দেবপদ রায় জানিয়েছেন, যোগদানের পরই বিষয়টি জেনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি। এজন্যে পুনরায় চিঠি পাঠানো হচ্ছে। হাসপাতালটি চালুর জন্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

 

৬ বছরেও চালু হয়নিস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাওয়া জগদল ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এর ফাইলপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন মন্ত্রী জাতীয় নেতা (বর্তমানে প্রয়াত) সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকার ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এতে উপস্থিত ছিলেন।

 

উদ্বোধন উপলক্ষে দিরাই উপজেলা হাসপাতালের কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে দু এক দিন সেবা দেয়া হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। উদ্বোধন হলেও চালু করা হয়নি হাসপাতালের অন্তঃ বিভাগ ও বহিঃ বিভাগ। এরপর একে একে ৬ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু এখনো চালু হয়নি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হাওরপারের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত এই হাসপাতাল।

 

 

৬ কোটি টাকার ভবন তালাবদ্ধহাসপাতাল চালু না হওয়ার ব্যাপারে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর বেশ তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিল্লুর রহমান চৌধুরী হাসপাতালটির পদ সৃজনের লক্ষ্যে কাগজপত্র-তথ্যসহ প্রস্তাব প্রেরণের জন্যে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জনকে পত্র দেন।

 

 

একই বছরের ২৪ এপ্রিল তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হাসপাতালে নতুন পদ সৃজনসহ পদাস্থল ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য পদে জনবল নিয়োগ প্রসঙ্গে’ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিকট ডি.ও লেটার দেন। একই বিষয়ে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রস্তাব প্রেরণের জন্যে ১১ সেপ্টেম্বর উপসচিব জিল্লুর রহমান চৌধুরী পুনরায় আরেকটি পত্র দেন। সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জনের নিকট দেয়া পত্রের প্রেক্ষিতে একটি প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়।
এতে ৪ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট ও ১ জন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ১ জন সহকারী সার্জন, ১ জন মেডিকেল টেকনেশিয়ান (ল্যাব), ১ জন ফার্মাসিস্ট ও ৭ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, ১ জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ১ জন ল্যাব এটেন্ডেন্ট, ২ জন ওয়ার্ড বয়, ১ জন এম,এল,এস,এস, ২ জন আয়া, ১ জন কুক-মশালচী, ১ জন সিকিউরিটি গার্ড ও ১ জন সুইপারের পদ সৃজনের প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়, এতে বছরে আর্থিক ব্যয় হবে ১ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ৪শ ৩৫ টাকা।

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিবের নিকট প্রেরিত পত্রে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু আজো এই প্রস্তাব আমলেই নেয়নি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। পদ সৃজন না হওয়ায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনগুলোও তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।
সুরঞ্জিতের ডিও লেটার ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিকট দেয়া ডি.ও লেটারে সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত উল্লেখ করেন, ‘দিরাই-শাল্লা উপজেলার অধিকাংশ মানুষই হতদরিদ্র। স্বাভাবিক কারণেই এ অঞ্চলে পুষ্টিহীনতাজনিত জলবাহিত রোগ বালাইসহ বিভিন্ন জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে।

 

এলাকার হতদরিদ্র মানুষের পক্ষে অর্থ ব্যয় করে সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রায়শই সাধারণ রোগেও মানুষের অনাকাক্সিক্ষত অকালমৃত্যু ঘটে।

 

তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্থাপিত ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। হাতের নাগালে হওয়ায় এলাকার হতদরিদ্র মানুষ তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করছে।
এর ফলে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে।’ তিনি পদ সৃজন করে জনবল নিয়োগ করে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ জানান।
ক্ষোভের শেষ নেইদিরাই উপজেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরবর্তী জগদলে নির্মিত হাসপাতালটিতে দিরাই, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার অন্তত: ৪০ টি গ্রামের লোকজন স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারতেন। চারদিকে হাওর বেষ্টিত এলাকাটি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অনুন্নত। হাসপাতাল ভবনটির পলেস্টার খসে পড়ছে। গ্রীলে ধরেছে মরিচা। প্রহরী না থাকায় মালামাল চুরি হচ্ছে। এর ফলে দিনকে দিন স্থানীয় লোকজনের মাঝেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

 

 

স্থানীয় জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিবলী আহমেদ বেগ বলেন, জগদল হাসপাতাল চালু না হওয়ায় এলাকার লোকজনের মাঝে ক্ষোভের শেষ নেই। হাসপাতাল চালু হলে হাওর বেষ্টিত গ্রামের লোকজন সহজেই উন্নত সেবা পেতেন। আমাদের নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হাওরাঞ্চলের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যেই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু আজো চালু না হওয়াটা দুঃখজনক। তিনি অবিলম্বে হাসপাতালটি চালুর দাবী জানান।

 

 

কর্মকর্তাদের বক্তব্যদিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, জনবল কাঠামো তৈরি না হওয়ায় হাসপাতালটি চালু করা যাচ্ছে না। বার বার আবেদনের পরেও মন্ত্রণালয় এখনো জনবল অনুমোদন দেয়নি। তিনি জানান, প্রহরী না থাকায় মালামাল ও চুরি হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

 

 

স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. দেবপদ রায় বলেন, যোগদানের পর বিষয়টি জেনে হতাশ হয়েছি। এভাবে কেন এত দামী ভবন পড়ে থাকবে। হাসপাতাল চালু করা দরকার। এতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে। লোকজন উপকৃত হবেন। হাসপাতাল চালুর জন্যে আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহে যোগাযোগ শুরু করেছি

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ