jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» ছাতকের মন্ডলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের বিদায় সংর্বধনা «» গোয়াইনঘাটে জুয়া খেলার দায়ে ৯ জন আটক মাদক উদ্ধার «» ছাতকে সিএনজি পিকআপ সংঘর্ষে চালক নিহত «» জগন্নাথপুরে পেঁয়াজের কেজি ২০০ : সাধারণ ক্রেতারা দিশেহারা «» ছাতকে দলিল জালিয়াতি মামলায় ৪ বছরের কারাদণ্ড «» ১৭ নভেম্বর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা শুরু «» সিলেটে শ্রমিক নেতা আলা উদ্দিন সওদাগরের মৃত্যুতে মিজান চৌধুরীর শোক «» গোয়াইনঘাটে গুচ্ছগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিএসসি পরিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন «» আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে- নুরুল ইসলাম নাহিদ «» বিশ্বনাথে চাঁদাবাজীর মামলায় মাদ্রাসা সুপার হোমাইদী কারাগারে




মানুষ গড়ার এক কারিগর মাওলানা শাহ সৈয়দ আশিক হোসেন

আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক থেকে :: ইক্বরা’ অর্থাৎ হলো ’পড়’শব্দ দিয়েই পবিত্র হেরা গুহায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)এর মাধ্যমে অবতীর্ণ বিশ্ব মানবতার মুক্তি সনদ পবিত্র কোরআন পাকের শুভ সুচনা হয়। এ ’পড়’ শব্দের মধ্যে বিশ্বজগতের আর্থ সামাজিক, রাজনীতিক আতœীক নৈতিক সহ সকল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে। পৃথিবীর যাত্রা শুরু থেকে আজ পযর্ন্ত যতো সভ্যতার উথান, বিকাশ এবং পতন ঘটেছে। ’পড়’শব্দকে কেন্দ্র করেই তার আর্বিভাব ঘটে। আজও শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। একা একা শিক্ষা অর্জন করা যায় না। এ জন্য শিক্ষক ও প্রদর্শকের প্রয়োজন। যুগে যুগে যোগ্য শিক্ষকগনের গুরুত্ব পুন্য ওমুল্যবান ভুমিকার ফলেই গড়ে উঠেছে সভ্যতা, মাঝে ঠিকে আছে মানবতা। শিক্ষার জন্য যোগ্য, সুদক্ষ ও অভিঞ্জ শিক্ষকের ভুমিকা  অপরিহার্য। সুদক্ষ যোগ্য শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ গড়ার আসল কারিগড়। একজন আলোকিত শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর এ কথার ব্যাখা করতে যত গুনের প্রয়োজন রয়েছে, এ সকল যাবতীয় গুনেরই সমাবেশ ঘটেছিল তাঁর জীবনে।
তিনি হচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীর প্রিয় শিক্ষক শ্রদ্ধাভাজন শাহ সৈয়দ আশিক হোসেন। তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিখন শেখানোর কৌশল, কাজের প্রতি আন্তরিকতা পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে প্রকৃত অর্থেই একজন মহান শিক্ষাগুরুর আসনে অধিষ্টিত করেছে। শিশুরা স্বভাবতই শিক্ষক অনুকরন প্রিয়, এক্ষেত্রে একটা শিশু প্রথম অনুকরন করে সে মা-বাবা এবং  অনুসরনের আদর্শ হয়ে থাকেন তার শিক্ষক। একজন শিক্ষক যত বেশী অনুসরনের যোগ্য হবেন ততই তিনি হবে একজন সফল মানুষ গড়ার কারিগর।
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাঞ্জাজি ইউনিয়নের শাহ-সাহেবের গাও গ্রামে সৈয়দ বংশে তিনি জন্ম গ্রহন করেন। ছোট বেলায় তাঁর নিজ গ্রামে কান্দিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লেখাপড়া শুরু করেন। ৫মশ্রেনী পাশ করে ও সিলেট জেলার মেধা-তালিকায় টেল্টেপুল বৃত্তি লাভ করেন। বিশ্বনাথ উপজেলার আলোকিত বিদ্যাপিঠ সৎপুর আলিয়া মাদ্রাসা (কামিল) কৃতিত্বে দাখিল পাশ করেন। পরে আলিম, ফাজিল ও কামিল পাশ করেছেন আলোকিত বিদ্যাপিঠ সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে। পরে থেকে বিএ পাশ করেন সিলেট মদনমোহন কলেজ থেকে।
১৯৮৮ সালে ৬ মার্চ তিনি লেখাপড়া অবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক হিসেবে তাঁর চাকুরী হয়। প্রথম তিনি নিজগ্রামে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এ বিদ্যালয় তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রমোশন পেয়ে ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যোগদান করেন। ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বদলী হয়ে একই বছর তার নিজ গ্রামের বিদ্যালয় যোগদান করেন। পরে একটানা প্রায় ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করা পর পাশ্ববতী জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। সেখানে প্রায় ৫ বছর কাজ করার পর তাঁকে ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যোগদান করেন। অদ্যবধি সেখানে কর্মরত আছেন।
মেধাবী, সাহসি আর দৃঢ়চেতা মনের মানুষ মাওলানা শাহ সৈয়দ আশিক হোসেন। তিনি একজন মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে বিশ্বনাথ উপজেলার  প্রথম সারির কয়েকজন শিক্ষকদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ঞ্জানের সন্ধানে নিরন্তর ছিল যাঁর পথচলা। শিক্ষার পাশাপাশি সুফিবাদ বিষয়ক অনুসন্ধান করে চলাফিরা করে যাচ্ছেন। তাঁর পিতা ছিলেন ও বিশ্বনাথের একজন আলোকিত শিক্ষক।
আলোকিত শিক্ষকের পুত্র আলোকিত সন্তান  সৈয়দ বাড়ির আলোকিত মানুষ। এলাকার সকল শ্রেনীর মানুষের কাছে স্যার বলে সবাই ডাকে। তার  প্রতিদিনের ব্যবহার, হাসি –রহস্য, সহায়তা, স্নেহের বাক্য, অসহায়ের প্রতি দয়া প্রদর্শন, নম্রতা, সৌজন্যতাই মনুষ্যত্ব বিকশিত করে তোলে।
মাওলানা শাহ  সৈয়দ আশিক হোসেন একজন ব্যতিক্রম ধর্মী প্রধান শিক্ষক। শিক্ষক হিসেবে তার সাফল্য বিস্ময়কর। হাজার হাজার ছাত্রের স্মৃতিতে মাওলানা  শাহ সৈয়দ আশিক হোসেন কঠোর অধ্যবসায়ী সৎ একনিষ্ট পুরুষ হিসেবে চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে। একজন শিক্ষক হিসেবে সামাজিক কর্তব্য রয়েছে সে ব্যাপারে তিনি অতিশয় সজাত ছিলেন। এ ক্ষেত্রেই তিনি জীবন সাধক, জীবন রসিক। উচ্চ-নিচ-মুখ শিক্ষিত সর্ব শ্রেনীর মানুষের সাথে মিশতেন নির্বিচারে। কোন প্রকার উল্লাসিকতা তাঁর চরিত্রে ছিল না। ঞ্জানীর বিনয়ে তিনি ছিলেন মহিমান্বিত। ইসলাম ধর্মে অটল বিশ্বাস তাঁকে এক প্রচন্ড আতœবিশ্বাস ও মানসিক শান্তি দিয়েছিল। জীবনের নানা কষ্টের দিনে তিনি আল্লাহতা’লার উপর নিশ্চিত নির্ভরতার মধ্যদিয়ে স্বস্তি ও মনোবল খুঁজেছেন। তিনি ছিলেন একান্ত মানব প্রেমিক, তাই সকল গোত্রের লোককে ভালবাসতেন।নীতি প্রশ্নে দেশ ও মাটির প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন। বিভিন্ন চক্রের কাছ থেকে নানা ধরনের হুমকি দামকি এসেছে, বিপদ এসেছে, অর্থেও প্রলোভন  এসেছে কিন্তু  ভেঙ্গে পড়েনি বা নীতি বিচ্যুত হয়নি। তিনি  নিজেকে সব সময়ই শিক্ষক মনে করতেন এবং শিক্ষা প্রসারের জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রান। তার সৃষ্টির পেছনে রয়েছে বহু অাত্মার ক্লান্তিহীন সাধনা। মাওলানা শাহ সৈয়দ আশিক হোসেন তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্টতম।
এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ