jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ৩০শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» জগন্নাথপুরে ট্রাক্টর চাপায় নিহত ১ : সাবেক পৌর চেয়ারম্যান সহ আহত ৪ «» আত্বনিরাপত্বা ও সুন্দর দেহ গঠনে মার্শালাটের বিকল্প নাই «» বিশ্বনাথে প্রাথমিক স্টুডেন্ট কাউন্সিল সম্পন্ন «» বিশ্বনাথে আশুগঞ্জ স্কুল রহস্যজনক চুরি : নৈশ্য প্রহরী আটক «» ছাতক-দোয়ারার মুহিবুর রহমান মানিক একজন উন্নয়ন প্রেমি সাংসদ- পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান «» দোয়ারায় আগুন লাগানোর সাথে জড়িত কেউ ক্ষমা পাবে না- সার্কেল বিল্লাল «» বিশ্বনাথে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাহিদুজ্জামানের দাফন সম্পন্ন «» জগন্নাথপুরে ছাত্র মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ গোলাম আসগর রহঃ এর জীবন ও কর্ম আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত «» বিশ্বনাথে বন্ধুক যুদ্ধে নিহত ডাকাতের পরিচয় সনাক্ত «» জগন্নাথপুর পৌরসভার উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নিবেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী টি এফ শিমুল




সৈয়দপুরে সৈয়দ শাহ শামসুদ্দিন (র.) বালিকা মাদ্রাসার মজলিসে শুরা সম্পন্ন

ইয়াকুব মিয়া :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ শাহ শামসুদ্দিন (র.) জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া দারুল হাদিস বালিকা মাদ্রাসার ৩১তম বার্ষিক মজলিসে শুরা মাদ্রাসার হল রোমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

৩১তম বার্ষিক মজলিসে শুরায় মাদ্রাসার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মাদরাসার মুহতামিম হাফিজ মাওলানা মুহিবুর রহমান, শিক্ষা বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মাদরাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা লোকমান আহমদ খান, ৩১তম অডিট মন্তব্য পাঠ করেন অডিট কমিটির সম্মানিত সদস্য শায়খুল হাদিস ইমাম মাওলানা সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক শায়খে সৈয়দপুরী। মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুতাল্লি অসুস্থ থাকায় তাঁর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন কবি ও গবেষক সৈয়দ মবনু।

 

৩১তম বার্ষিক মজলিসে শুরা আব্দুল কাইয়ুম মেম্বারের সভাপতিত্বে ও শায়খুল হাদিস ইমাম মাওলানা সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক শায়খে সৈয়দপুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মজলিসে শুরার সদস্য হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন, গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বী সাবেক মেম্বার সৈয়দ লাল মিয়া, সৈয়দ কলা মিয়া প্রমূখ।

 

 

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুতাল্লি আলহাজ সৈয়দ আতাউর রহমানের পক্ষ থেকে মাদরাসার মুহতামীম ৩১তম বার্ষিক প্রতিবেদনে হামদ-নাত এবং দোয়া ইস্তেগফারের পর সবাইকে সালাম জানিয়ে বলেন, এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ইলমে ওহির খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে। বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক ও ৩ জন আলেমা শিক্ষিকাসহ মোট ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। মারহালা উলা থেকে তাকমিল ফিল হাদিস (মাস্টার্স) ও তাহফিজুল কুরআন বিভাগসহ ১২টি জামাতে ১৫১ জন ছাত্রী ও সাবাহি মক্তবে ১০৮ জনসহ মোট ২৫৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি তাদের আদব-আখলাকের তরবিয়তও দেয়া হয়ে থাকে। মাদরাসাটি মহিলা দ্বীনি শিক্ষাবোর্ড সুনামগঞ্জের অধীনে শিক্ষা কারিকুলাম পরিচালনা করছে। বোর্ডের পাঠ্যসূচী অনুযায়ী কুরআন শরিফ, হাদিস শরিফ, উসুলে হাদিস, উসুলে তাফসির, ফেকাহ, উসুলে ফেকাহ, আকাইদ, সরফ, নাহুসহ আরবি, বাংলা, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ও গণিত, সমাজ বিজ্ঞান এবং বাংলা সাহিত্য গুরুত্বসহকারে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গত ১৪৪০ হিজরি মোতাবেক ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে বোর্ডের ফাইনাল পরীক্ষায় ২৮জন ছাত্রী অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে ৫টি মুমতাজ (গোল্ডেন এ প্লাাস) সহ ২৭জন কৃতকার্য হয়। পাশের হার ৯৯ শতাংশ। আশা করি আপনারা আনন্দিত হবেন বিগত বছরের মত এবারও বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় হিফজ বিভাগে ১ম ও ৩য় স্থান, কিতাব বিভাগে ৫ম, ১২তম ও ১৫তম স্থান অর্জন করেছে। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে অত্র জামেয়া বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি আরও বলেন, বিগত বছরের মজলিসে শুরায় যে তাকমিল ফিল হাদিস (টাইটেল ক্লাস) চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিলো আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে চলতি বছর অত্র মাদরাসায় (মাস্টার্স) টাইটেল চালু করা হয়েছে এবং একজন শায়খুল হাদিস ও ২জন মুহাদ্দিস নিয়োগ করা হয়েছে। দাওরা চালু করায় প্রতিষ্ঠানের ব্যয় অনেক বেড়েছে। আপনাদের সুপরামর্শ, সার্বিক সহযোগিতা, আর্থিক সাহায্য আরও বেগবান হলে মাদরাসার উন্নতি-অগ্রগতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। এ বিষয়ে আপনাদের সার্বক্ষণিক দৃষ্টি কামনা করছি। মুহতামীমের প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয় যে, মাদরাসাটি পরিচালনার জন্য অর্থ বিভাগে দুইটি ফান্ড রয়েছে, যথা ১. জেনারেল ফান্ড। এই ফান্ডের টাকায় মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন-ভাতা প্রদান ও বিবিধ খরচ করা হয়। ২. গরিব ফান্ড। এই ফান্ডের টাকায় গরিব ছাত্রীদের কিতাব, খাতা, কলম, ঔষধ, জামা ইত্যাদির খরচ বহন করা হয়। মাদরাসার যাবতীয় কার্যাবলী ও উভয় ফান্ডের আয়-ব্যয়ের হিসাব খাতাপত্রে যথানিয়মে লেখা হয়। তিনি আরও বলেন, মজলিসে শুরা কর্তৃক মনোনিত অডিটরদের দিয়ে অডিট করানোর পর তা নির্ভুল বলে স্বীকৃত হয়েছে। অতঃপর উভয় ফান্ডের আয়-ব্যয় হিসাব পেশ করে বলা হয়, চলতি বছর মাদরাসাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জেনারেল ফান্ডে ১০ লাখ, গরিব ফান্ডে ২ লাখ, মোট ১২ লাখ টাকার প্রয়োজন।

 

এরপর বিগত বছরের অডিট মন্তব্য পাঠ করে শোনান অডিট কমিটির সদস্য শায়খুল হাদিস ইমাম মাওলানা সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক শায়খে সৈয়দপুরী। তিনি বলেন, এই মাদরাসার অর্থ বিভাগে জনগণের আমানত রক্ষার্থে ২টি ফান্ড রয়েছে। যথা ১) জেনারেল ফান্ড ২) গরীব ফান্ড। আমরা প্রতিটি ফান্ডের খাতাপত্র, রশিদ, ভাউচারাদী যাচাই-বাচাই করে যথা নিয়মে পেয়েছি, হিসাবাদি পরিষ্কার, সঠিক ও নির্ভুল। এতে প্রতিয়মান হয়, অত্র মাদরাসার মোতাওয়াল্লি জনাব আলহাজ্ব সৈয়দ আতাউর রহমান জনগণের আমানতের প্রতি অতি যতœবান রয়েছেন। তাই তাদেরকে মোবারকবাদ জ্ঞাপন করে মোতাওয়াল্লি সাহেবের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। সন ২০১৯ ইংরেজির ১লা জানুয়ারি হতে সন: ২০১৯ ইংরেজি ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের সংক্ষিপ্ত হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয় ফান্ডের সম্মিলিত ব্যয়ে বিয়োগ করলে সর্ব ফান্ডের মোট ৪,৫৪৯/= টাকা তহবিলে থাকে। পরিশেষে অত্র মাদরাসার টাইটেল জামায়াত খুলে মেয়েদেরকে আলিমা বনার সুযোগ ও সুবিধা করায় মুতাওয়াল্লি সাহেব ও তার উত্তরসূরী সৈয়দ মবনুকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিলাম। শায়খুল হাদিস ইমাম সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক শায়খে সৈয়দপুরী ছাড়াও অডিট কমিটিতে আরও সদস্য ছিলেন, মাওলানা সৈয়দ ছানাওর আলী, সৈয়দ হাজী ছয়েফ উদ্দিন, সাবেক মেম্বার মাওলানা সৈয়দ মুনসিফ আলী, শেখ হরুফ মিয়া, সৈয়দ হাজী খয়রুল ইসলাম।

 

অডিট রিপোটের পর শিক্ষা সচিব মাওলানা লোকমান আহমদ খান মাদরাসার শিক্ষার রিপোটে বলেন, ইসলামের বহুল প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে আপনাদের বিশেষ দোয়া ও আল্লাহর মেহেরবানিতে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে এই মাদরাসা যাত্রা শুরু করে ‘মহিলা দ্বীনি শিক্ষা বোর্ড সুনামগঞ্জ’-এর অন্তর্ভুক্ত হয়। বোর্ডের নির্ধারিত পাঠ্যানুযায়ী ১১ জন শিক্ষক ও ৩ জন শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে এখানে আরবি, বাংলা, ইংরেজি ভাষা শিক্ষাসহ কোরআন শরিফ, হাদিস শরিফ, উসুলে হাদিস, উসুলে তাফসির, উসুলে ফেকাহ, উসুলে আকাইদ, ছরফ, নাহু শাস্ত্রসহ গণিত, সমাজ, বিজ্ঞান এবং বাংলাসাহিত্য পড়ানোর পাশাপাশি আত্ম-উন্নয়ন ও আমলি জীবন গঠনের তালিম প্রদান করা হয়। মাদরাসার মারহালা উলা থেকে তাকমিল ফিল হাদিস (মাস্টার্স) ও তাহফিজুল কুরআন বিভাগসহ ১২টি জামাতে ১৫১জন ছাত্রী ও সাবাহি মক্তবে ১০৮জন সহ মোট ২৫৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গরিব ও এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ফ্রি কিতাবাদি ও লেখাপড়া সুব্যবস্থা।

 

মুহতামীম, শিক্ষা সচিব ও অডিটরদের রিপোট পেশের পর উপস্থিত শুরার সদস্যারা বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং সর্বস্মতিক্রমে রিপোটসমূহ পাশ করে আগামী ২৯ জানুয়ারী ২০২০-এ মাদরাসার ৩১তম বার্ষিক ওয়াজের তারিখ নির্ধারণ করেন। তারা সর্বস্থরের মুসলিম নারী ও পুরুষের কাছে বিশেষ অনুরোধ করেন মাদরাসার গরিব-মেধাবী ছাত্রীদের ইলমেদ্বীন অর্জনে সহযোগিতা হিসেবে নিয়মিত কিংবা এককালিন চাঁদা, যাকাত, ফিতরা, কুরবানির পশুর চামড়া ও কাফ্ফারা ইত্যাদি দান করে দুনিয়া ও আখেরাতের অশেষ সওয়াব হাসিল করার জন্য।

 

শায়খুল হাদিস ইমাম মাওলানা সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক শায়খে সৈয়দপুরীর মোনাজাতের মাধ্যমে শুরার অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ