jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা আর কখনও মনোনয়ন পাবেন না «» ভাস্কর্য নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন আলেমরা «» বিশ্বনাথে কবর জিয়ারতে ডেকে নিয়ে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকার! যুবক গ্রেফতার «» জগন্নাথপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা আক্তারুজ্জামান আক্তার প্রচারণায় মাঠে «» বাংলাদেশ সফরে আসবেন এরদোয়ান «» ভাস্কর্যপ্রেমিদের জঘন্য কর্মকান্ড- আদি পৌত্তলিকদের অনুকরণ! «» বিশ্বনাথে আমনের বাম্পার ফলনের সুবাস পাচ্ছেন কৃষকরা «» ছাতকে পুলিশের অভিযানে আটক ৪ জুয়াড়ি জেল হাজতে «» জগন্নাথপুর পৌরসভাসহ ৬১ পৌরসভার ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ভোট গ্রহণ «» জগন্নাথপুরে হারুনুর রশীদ হিরণ মিয়ার ২০ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত




বিশ্বনাথে ‘সুখে-দুঃখে যাকে পাবো, তাকেই ভোট দেবো’

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: দীর্ঘ ১৭ বছর পর আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় ভোটার ও বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহের কমতি নেই। তবে অধিকাংশ ভোটার দল নয়, সুখ-দুঃখে যাঁরা এলাকার মানুষের পাশে থাকবেন তাঁদের ভোট দেবেন। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ইউনিয়নের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
দশঘর ইউনিয়নের পীরের বাজারস্থ একটি চায়ের দোকানে কথা হয় বরনী গ্রামের জমির মিয়ার সঙ্গে। কেমন প্রার্থী চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দল-টল বুঝি না। এবারের নির্বাচন দলীয়ভাবে হলেও ভোট দেবো প্রার্থী দেখে। যাঁরা সুখে-দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে থাকবেন, তাঁদেরই ভোট দেবো।’

 

এলাকার রিকশাচালক ফজলু মিয়া বলেন, ‘ভাই, ভোটের আগে সবাই সৎ, যোগ্য ও জনগণের কাছের মানুষ। আর ভোট গেলেই তাঁদের আসল চেহারা বের হয়ে আসে। তবু মন্দের ভালো মানুষকে ভোটটা দিতে হবে।’

 

মাছুখালি নোয়াগাঁও গ্রামের বক্কর মিয়া বলেন, ‘দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট একটা দেওয়া লাগে তাই দেই। কাকে ভোট দেবো ঠিক করিনি। তবে শেষমেশ চিন্তাভাবনা করে দেখব। যাঁর কাছ থেকে সহযোগিতা পাবো, তাঁকেই ভোট দেবো।’

 

কৃষক সমুজ আলী বলেন, ‘ভোট তো দেওয়াই লাগে। তবে এখনও সঠিক প্রার্থী পাইনি। দেখি, গরিবের জন্য যাঁর মায়া লাগে, তাঁকেই ভোট দেবো ভাবছি।’

 

জামাল মিয়া বলেন, ‘মার্কা দেখে নয়, এলাকার উন্নয়নে যিনি বেশি কাজ করতে পারবেন, তাঁকেই আমরা ভোট দেবো।’

 

মিয়ার বাজারের একটি চায়ের স্টলে বসে কথা হয় মনির মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভোট বাঙালির কাছে একটি বিরাট উৎসব। উৎসবে অনেক হইচই করে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ ভোট দেয়। একজন ভালো মানুষ নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন হতে পারে। কিন্তু ভালো মানুষও এসব পদে গিয়ে ভালো থাকতে পারেন না।’

 

এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী রয়েছেন ভোটের মাঠে। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জুবেদুর রহমান (নৌকা প্রতীক) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমাদ উদ্দিন খান (ধানের শীষ প্রতীক) জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নান (লাঙ্গল প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সামছু মিয়া লয়লুছ (ঘোড়া প্রতীক) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বিদ্রোহী আবুল হোসেন (আনারস প্রতীক)। নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

 

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ইউপি সদস্য পদে ৪৯ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১১ জন প্রার্থী রয়েছেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৪ হাজার ১১৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ২৯ জন ও নারী ভোটার ৬ হাজার ৯০৯ জন। মোট ১০টি ভোট কেন্দ্রে আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সালে দেশে জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ চলাকালীন সময়ে মীরপুর ইউনিয়নের লহড়ি গ্রামের একটি অংশ জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথ উপজেলার ভোটার হওয়া নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে আইনি জটিলতায় উচ্চ আদালতে নির্বাচনী কার্যক্রম আটকে যায়। সম্প্রতি আইনি জটিলতা নিরসন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন গত ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলার দশঘর ইউনিয়নে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ