jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৫ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» গোয়াইনঘাটে প্রেমিকাকে আটকে রেখে টানা ৮ দিন ‘গণধর্ষণ’ «» ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তাই পেল না দক্ষিণ আফ্রিকা «» মৌলভীবাজারে খুতবায় ভাস্কর্যের বিরোধীতা: ইমামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা «» সমাজের কল্যাণে যারা অবদান রাখেন তাদেরকে স্মরণ করতে হবে: মেয়র আরিফ «» ছাতকে উত্যক্তকারীদের হামলায় নারী আহত, থানায় অভিযোগ «» ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২৬ ডিসেম্বর «» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে সাইবার বুলিং ও গুজব বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত «» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানকে বরণ করতে প্রস্তুতি সভা «» মসজিদের কক্ষে প্রেমিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধরা ইমাম «» ছাতকে সিংচাপইড় ইউনিয়নের প্রবাসী দিলা মিয়ার অর্থায়নে আল ফুরকান মাদ্রাসায় শীতবস্ত্র বিতরণ




১১ বছরের শিশুর সঙ্গে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের বিয়ে!

ডেস্ক রিপোর্ট :: সালিশি বৈঠকে লম্পট নাতির কুকর্মের দায় ৮৫ বছরের বৃদ্ধ দাদার ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় মাতবররা। এখন নাতির গোপন সম্পর্কে অন্তঃসত্ত্বা ও গর্ভপাত ঘটানোর ফল ভোগ করছেন ৭ সন্তানের জনক ওই বৃদ্ধ। শাস্তি হিসেবে ১১ বছরের শিশুছাত্রীর সঙ্গে ওই বৃদ্ধের বিয়ে দেন মাতবররা। ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল আমখাওয়া ইউনিয়নের বয়ড়াপাড়া গ্রামে।

 

 

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় মহিলা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর (১১) সঙ্গে সুরমান আলীর বখাটে ছেলে শাহিনের (১৮) শারীরিক সম্পর্ক হয়। এতে ওই শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে চালাকি করে কবিরাজি চিকিৎসায় গর্ভপাতও ঘটানো হয়। বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে ইউপি সদস্য ও স্থানীয় মাতবররা সালিশ বৈঠক করেন। সালিশে নাতির কুকর্মের দায় চাপিয়ে দেয়া হয় বৃদ্ধ দাদার ওপর। শেষে বৃদ্ধের সঙ্গেই ওই শিশুছাত্রীর বিয়ে দেয়া হয়। গত বুধবার দুপুরে সরেজমিন ৮৫ বছরের বৃদ্ধ মহির উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না, চোখেও ঝাপসা দেখেন। তিনি সাত সন্তানের পিতা। দুই স্ত্রী মারা গেছেন। তৃতীয় বিয়েটি করেছেন ২৭ বছর আগে। বৃদ্ধকে জিজ্ঞাসা করা হয় চতুর্থ বিয়ে কী কারণে করলেন?

 

বৃদ্ধ মহির উদ্দিন বলেন, ‘আমার একটা দোষ বর্তাইয়া বিয়া করাইছে গফুর মাস্টার, কদ্দুছ মাস্টার, নাদু মেম্বারসহ কয়েকজন। আসলে আমি নির্দোষ।’

 

এ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধের মেয়ে আবেদা খাতুন বলেন, ‘মেয়েটিকে বড়ি খাইয়ে গর্ভপাত করা হয়েছে।’

 

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক মাদ্রাসাশিক্ষক বলেন, ‘ছেলের ঘরের নাতি দোষ করেছে, এর দায়ভার জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা ওই বৃদ্ধের ওপর চাপিয়ে শিশুটিকে বিয়ে দেয়া হয়।’

 

চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সদস্য জয়নাল আবেদীন নাদু বলেন, ‘মুরব্বিদের নিয়ে সালিশ করা হয়। সালিশে অনৈতিক কাজ করায় বৃদ্ধকে ১০ দোররা এবং শাহিনকে ১০টি দোররা মেরে শরীয়ত মতে বিয়ে হয়। তবে তার ছেলে ঘরের নাতি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। এ ঘটনার জন্য বৃদ্ধই দায়ী।’

 

চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘এটা আশ্চর্য ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 

দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএম মইনুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই।’

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ