jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ৪ঠা জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» জগন্নাথপুরে আক্তারুজ্জামান আক্তার মেয়র নির্বাচিত «» জগন্নাথপুর পৌর নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে প্রথম বারের মতো ভোট গ্রহণ চলছে «» জগন্নাথপুরে পৌর নির্বাচন আজ : লড়াই হবে নৌকা ও চামচ’র «» জগন্নাথপুরে কাল পৌর নির্বাচন : ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রস্তুত «» সিলেটে আবাসিক হোটেল থেকে যুবতীসহ আটক ১৪ «» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১, আহত ১০ «» জগন্নাথপুরে নির্বাচনী সভায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন- সাখাওয়াত হোসেন শফিক «» মেয়র আরিফকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেডাম «» ফেসবুকে প্রেম : সিলেটের রিসোর্টে প্রতারকের সঙ্গে মেডিকেল ছাত্রীর তিন রাত: অতঃপর.. «» ছাতকে মেয়র প্রার্থী রাশিদা আহমদ ন্যান্সি’র সমর্থনে নির্বাচনী সভা ও মিছিল




শীতের রাতে একান্ত একান্তে : দীনুল ইসলাম বাবুল

দুপুর রাত: শীতের আমার একান্ত একান্তে পথ চলা। পূর্নিমা গত সেই কবে। তবু চলা। মহিনের ঘোড়ার মত ঘাস মাড়াই। ধবল জোছনায় রাতে। আর বিক্ষিপ্ত ভাবনায় খেঁই হারাই আলপথে। চলমান সময় মাড়িয়ে পিছু ফিরে যাই। আমার অতীত। আমার যৌবন। আমার ছাত্ররাজনীতি। পাক হায়েনাদের হিংস্রতা। আমাদেরকে বাধ্য করেছিলো, বাঁচার মত বাঁচতে বলে, মৃত্যুর সাথে অঙ্গীকার করতে। গণমানুষের কবি দিলওয়ারের দ্রীপ্ত ঘোষনা আমাদেরকে উদ্বেলিত করলো : ‘জানালায় আর নয়, যাও মিছিলে দাঁড়াও।‘
আমি আমরা মিছিলে গেলাম। দুপুর রৌদ্রের চিকিতসায় স্বেচ্ছায় হৃদপিন্ড দিলাম। আমরা হারকিউলিসের মত গৃধী-শকুনী তাড়ালাম। প্রমিথিউসের ‘চির বসন্তে‘র স্বপ্নের বাস্তবায়নের জণ্যে। আমরা দধিচীর আত্মত্যাগে বৃত্রাসূর বধে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। আমাদের স্বপ্নে, আমাদের কল্পনায় ছিলো :  একটি দেশ। একটি স্বাধীন স্বদেশ। বিধোলার সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সেই স্বপ্নের স্বদেশ লাভ করলো।
যে দেশ কোন মানবের দাশ হতে চায় না।কোন দানবের গ্রাস হতে চায়না। যে দেশ হবে অসূর মুক্ত গণমানুষের।
যে দেশ মানুষকে থাকার-খাওয়ার-চিকিতসার-বাসস্থানের নিশ্চয়তা দেবে। যে দেশ মানুষকে মুক্ত স্বাধীন ভাবে বাঁচার নিশ্চয়তা দেবে। যে দেশ মানুষকে কথা বলার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেবে। যে দেশ মানুষকে রাজনৈতিক , প্রশাসনিক নায়্য পাওনার নিশ্চয়তা দেবে। যে দেশ মানুষের স্বাধীকার-অধিকার-ধর্মাচার সাহিত্য সাংস্কৃতিক চর্চার নিশ্চয়তা দেবে।
এমন একটি দেশ ও স্বাধীনতার স্বপ্ন আমি-আমরা-সবাই দেখেছিলাম। কোথায় আমার স্বপ্নের নেই দেশ ?
সেই স্বাধীনতা ? চলমান সময়ে এখন নিজের কাছে নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হই বারবার।

 

মধ্যরাত: আমার বাড়ী ফেরা। পথপার্শ্বে নয়াবন্দর স্কুল এন্ড কলেজ। কলেজের সামনে শহীদ মিনার। আমার অজান্তে আমাকে ডেকে নিল শহীদ মিনার। ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছি কতক্ষন জানিনা। শহীদের আত্মত্যাগের সোনালী কাবিন আমার হৃদয়ে লাল রক্তের লেখা। মুনীর চৌধুরীর ‘কবর ‘নাটকের চরিত্র গুলো আমার সামনে। আমি হতচকিত ! বিস্মিত ! তাঁদের রুষ্ট কন্ঠে একই জিঞ্জাসা : কি করছো তোমরা ? ভাষা সৈনিক। মুক্তিযোদ্ধের সূর্য্ সৈনিক। সবাই বললো : দেশটা কোন দানবের নয়। এই দেশ। গণজনতার। মানবের। যাও সবাইকে জানিয়ে দাও। দানব হঠাও। মানব বাঁচাও। মনে রাখবা, তোমরা যতি না পারো তাহলে আমরা জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুনে ‘দ্বিগুণ হয়ে আসবো।

 

শেষ রাত: ঘরের মানুষ ঘরে ফিরে এলাম। হ য র ল চিন্তায়, মননে তন্দ্রা-নিদ্রা পরবাসে । টেবিলের উপর ছড়ানো-ছিটানো বই।  তার মাঝে আর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : ‘চিরদিনস্বদেশ। ‘ক্ষোভে বিক্ষোভে স্বরচিত শেষ রাতের কবিতা আবৃত্তি করি : ‘একাত্তরে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম মুক্তির, স্বাধীনতার জন্যে একটি স্বপ্নের স্বদেশ অর্জনের জন্যে। থাকার-খাওয়ার-বাঁচার নিশ্চয়তা দেবে এমন একটি দেশ, একটি স্বাধীনতা। ধর্ম নিরপেক্ষতা আর গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা দেবে।

 

আমরা যুদ্ধ করি নাই জঙ্গিবাদের জন্য

আমরা যুদ্ধ করি নাই মৌলবাদের জন্য

আমরা যুদ্ধ করি নাই ধনের রাজা, বনের রাজা তৈরী করার জন্য।

ভূমিদস্যু-জলদস্যু-টেন্ডারবাজ-চাদাবাজ-সোনা পাচার-টাকা পাচার রিলিফ চোর-মদখোর-জোয়াখোর
শত শত এমপি মন্ত্রীকে, আমলা বণিক কে কোটিপতি, ধনকুবের করার জন্য।

 

লেখক: কবি ও গবেষক: জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ, মোবাঃ 01732-223122

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ