jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ৪ঠা জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» জগন্নাথপুরে আক্তারুজ্জামান আক্তার মেয়র নির্বাচিত «» জগন্নাথপুর পৌর নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে প্রথম বারের মতো ভোট গ্রহণ চলছে «» জগন্নাথপুরে পৌর নির্বাচন আজ : লড়াই হবে নৌকা ও চামচ’র «» জগন্নাথপুরে কাল পৌর নির্বাচন : ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রস্তুত «» সিলেটে আবাসিক হোটেল থেকে যুবতীসহ আটক ১৪ «» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১, আহত ১০ «» জগন্নাথপুরে নির্বাচনী সভায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন- সাখাওয়াত হোসেন শফিক «» মেয়র আরিফকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেডাম «» ফেসবুকে প্রেম : সিলেটের রিসোর্টে প্রতারকের সঙ্গে মেডিকেল ছাত্রীর তিন রাত: অতঃপর.. «» ছাতকে মেয়র প্রার্থী রাশিদা আহমদ ন্যান্সি’র সমর্থনে নির্বাচনী সভা ও মিছিল




আহমদ শফী ‘হত্যা’ মামলার তদন্তে পিবিআই, জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ২৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ

ডেস্ক রিপোর্ট :: হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে দায়ের করা মামলার তদন্তে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার পিবিআইর ১২ সদস্যের তদন্ত দল হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা পরিদর্শনে যায়। সেখানে হেফাজতের বর্তমান আমির জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ১৫ জনের সাক্ষ্য নেন তারা। সেখান থেকে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে আরও ১২ জনের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত দলের সদস্যরা। জিজ্ঞাসাবাদে জুনায়েদ বাবুনগরীসহ সবাই ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে জুনায়েদ বাবুনগরীসহ কয়েকজন শিক্ষকের ইন্ধনে আহমদ শফীকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাধা দেওয়ার কথা তদন্ত দলকে জানিয়েছেন মাদ্রাসার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। এ কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। প্রায় দুই ঘণ্টা হাটহাজারী মাদ্রাসায় থেকে তদন্ত দল ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় যায়। সেখানে একটি গোপন বৈঠকের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন তারা। বাবুনগরীর ছেলের বিয়ে উপলক্ষে আন্দোলনের আগে এ বৈঠক হয়। এতে বিতর্কিত হেফাজত নেতা মামুনুল হকও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

তদন্ত দলে নেতৃত্ব দেওয়া পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, তার প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সাক্ষ্য নেওয়া এবং আলামত সংগ্রহ অব্যাহত আছে। মামলাটি তদন্তের স্বার্থে যা কিছু করা প্রয়োজন, আমরা সবকিছু করব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

আহমদ শফীর লাশ উত্তোলন-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যে আর্জি করা হয়েছে, সেখানে লাশ তোলার মতো কিছু নেই। অবহেলাজনিত মৃত্যু ৩০৪ ধারায় মামলা, সেখানে দেহে আঘাত থাকার মতো কিছু নেই।’

চট্টগ্রাম জেলা পিবিআইর পুলিশ সুপার নাজমুল হোসেন বলেন, ‘বাবুনগরীর সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে কথা বলেছি। তবে অফিসিয়ালি উনার কাছ থেকে এখনও আমরা স্টেটমেন্ট নিইনি। আরও ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের কাছ থেকে জবানবন্দি নিয়েছি।’

কী বিষয়ে কথা হয়েছে- হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। তদন্তকারী দল আমাদের কাছে যা জানতে চেয়েছে, আমরা তার উত্তর দিয়েছি। আমাদের বক্তব্য আমরা এর আগেই সংবাদ সম্মেলনে দিয়েছি। তদন্তের স্বার্থে আগামীতেও যদি তারা আসেন, আমরা মেহমানদারি করব।’

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত দল প্রথমে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে আহমদ শফীর ব্যবহূত কক্ষসহ চারপাশ ঘুরে দেখে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত দলের সদস্যরা জুনায়েদ বাবুনগরীর কক্ষে গিয়ে তার সাক্ষ্য নেন। এরপর একে একে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক দিদার কাসেমি, আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ সদস্য শেখ আহমদ ও মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা ওমরের সাক্ষ্য নেন। এ সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রনেতা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ ১৫ থেকে ২০ জন মাদ্রাসার ছাত্রও উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত দলকে জুনায়েদ বাবুনগরী ও আশরাফ আলী নিজামপুরী জানিয়েছেন, মামলার এজাহারে বর্ণিত আসামিদের পরিচয় তারা জানেন না। তারা হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক কিংবা কর্মচারী নন। আন্দোলনের সময় আহমদ শফীর ওপর কোনো নির্যাতন করা হয়নি দাবি করে তারা বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, দাওরায়ে হাদিস বিভাগের এক ছাত্র বলেছেন, আহমদ শফীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাধা তৈরি করেন জুনায়েদ বাবুনগরীর খাদেম ছাত্রনেতা এনাম। একই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেছেন, আমার চোখের সামনে মাদ্রাসার ছাত্ররা আহমদ শফীর কক্ষ ভাঙচুর করেছে। সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিরা বিষয়টি কেন অস্বীকার করছেন, আমার বোধগম্য নয়। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও ছাত্রদের অনেকে আহমদ শফীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তারা বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন। এ ‘দুষ্টচক্রে’র অনেকে ঢাকার বারিধারা, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সক্রিয় আছেন বলেও জানান তারা।

এদিকে, মঙ্গলবার তদন্ত দলের হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিদর্শনের সময়ও আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীর বিরুদ্ধে ছাত্রদের কাছে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ১ জানুয়ারি একই রকম লিফলেট বিতরণ করা হয়েছিল।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন শাহ আহমদ শফী। এরপর ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলু কুমার দে’র আদালতে মানসিক নির্যাতন করে আহমদ শফীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি করেন তার শ্যালক মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।

ওই মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ও হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির এবং দুই নম্বর আসামি করা হয় অপর যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মীর ইদ্রিস, হাবিব উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, নুরুজ্জামান নোমানী, আবদুল মতিন, মো. শহীদুল্লাহ, রিজওয়ান আরমান, নজরুল ইসলাম, হাসানুজ্জামান, এনামুল হাসান ফারুকী, মীর সাজেদ, জাফর আহমদ, মীর জিয়াউদ্দিন, আহমদ, মাহমুদ, আসাদউল্লাহ, জোবায়ের মাহমুদ, এইচ এম জুনায়েদ, আনোয়ার শাহ, আহমদ কামাল, নাছির উদ্দিন, কামরুল ইসলাম কাসেমী, মোহাম্মদ হাসান, ওবায়দুল্লাহ ওবাইদ, জুবায়ের, মোহাম্মদ, আমিনুল হক, রফিক সোহেল, মোবিনুল হক, নাঈম, হাফেজ সায়েম উল্লাহ ও হাসান জামিল।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ