jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৫ই রজব, ১৪৪২ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» সৈয়দপুর বাজার টু ভবের বাজার রাস্তার বেহাল দশা, জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি «» পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা «» ছাতকে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণ কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ «» বিশ্বনাথে আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত সফলের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন «» সিলেটি ভাষার আইরাম, যাইরাম, খাইরাম শব্দাবলীতে সমস্যা কোথায়? ফতোয়া দেয়ার পূর্বে একটু ভাবুন «» বিশ্বনাথে তাহেরী’কে প্রতিহত করতে সোস্যাল মিডিয়ার সমালোচনার ঝড়! «» কোম্পানীগঞ্জে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী খুন : গ্রেফতার-১ «» বালাগঞ্জে জুয়ার আসর থেকে ৮ জুয়াড়ি গ্রেফতার «» আসছে কালবৈশাখী ঝড় «» বিশ্বনাথে আসছেন গিয়াস উদ্দিন আত্ তাহেরী




নারায়ে তাকবির ঐতিহ্যবাহী শ্লোগান, বিভ্রান্তির অন্তরালে : শাহ মমশাদ আহমদ

ঈমানী চেতনা জাগ্রত করণে ভারত উপমহাদেশে একটি জনপ্রিয় শ্লোগান না’রায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার।
যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের মধ্যে এ শ্লোগান প্রচলিত, ইদানিং ঐতিহ্যবাহী এ শ্লোগানের বিপরীতে লিল্লাহি তাকবীর শ্লোগান দেয়া হচ্ছে, এতে কোন সমস্যা ছিলনা কিন্তু যখন লিল্লাহি তাকবীর বলাই সুন্নাহ সম্মত আর নারায়ে তাকবির বলা নাজায়েজ ফতোয়া দেয়া হয়, তখন চুপ থাকা দুস্কর হয়ে দাঁড়ায়। আমি মনে করি আমাদের সমাজে না’রায়ে তাকবির শ্লোগান দেয়াই শ্রেয়,যদিও লিল্লাহি তাকবীর বা আততাকবির শ্লোগান দেয়াও জায়েজ। না’রা মুলত ফারসি বা উর্দু শব্দ, শাব্দিক অর্থ উচ্চকণ্ঠে আওয়াজ দেয়া,তাকবির মানে আল্লাহু আকবার বলা, নারায়ে তাকবির এর অর্থ দাঁড়ায়, উচ্চকন্ঠে আল্লাহু আকবার বলুন, উত্তরে সমস্বরে শ্লোগান দাতা সহ সবাই বলেন, আল্লাহু আকবার, এতে সমস্যা কোথায়? লিল্লাহি তাকবীর এর অর্থ হল আল্লাহর জন্যই মহানতা বা বড়ত্ব,উদ্দেশ্য শ্রোতাদের আল্লাহু আকবার বলতে নির্দেশনা, উভয়টির উদ্দেশ্য এক, তাহলে লিল্লাহি তাকবীর বলা যাবে আর নারায়ে তাকবির বলা যাবেনা কেন? বরং লিল্লাহি তাকবীর না বলে না’রায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার, বলাই আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে উত্তম।

 

&না’রায়ে তাকবিরের বিপরীত লিল্লাহি তাকবিবের শ্লোগান দ্ধারা ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের মধ্যে বিরাজমান একটি ঐতিহ্যবাহী বৈধ শ্লোগানের বিপরীতে অপর শ্লোগান দিয়ে উম্মাহের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা ও ফিতনা সৃষ্টি করা হচ্ছে, সুতরাং ফিতনার সুযোগ এনে দেয়া লিল্লাহি তাকবির শ্লোগান বাদ দিয়ে না’রায়ে তাকবির বলাই উত্তম।

 

& নারায়ে তাকবির যেভাবে হাদীসে নেই,লিল্লাহি তাকবির ও কোন হাদিসে নাই,প্রিয় নবী সঃ ও সাহাবায়ে কেরাম শুধু আল্লাহু আকবার বলেছেন, প্রিয় নবী সঃ খায়বার যুদ্ধে বলেছেন

الله اكبر خربت خيبر

(بخارى)

 

(আল্লহু আকবার,খায়বার ধ্বংস হোক)
সুতরাং লিল্লাহি তাকবির শুধু সুন্নাহ সম্মত বলার সু্যোগ কোথায়?

 

& না’রা শব্দ যদি আরবী শব্দ বলা হয়,তা হলে ও অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে নারায়ে তাকবির বলাই ভালো।
প্রতিটি ভাষায় একটি শব্দ বিভিন্ন অর্থ প্রদান করে থাকে,স্থান কাল পাত্র ভেদে একই শব্দের ভিন্ন অর্থ উদ্দেশ্য হওয়া স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। আরবি ভাষায় মাওলা শব্দের যেভাবে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ হয়, অভিভাবক অর্থে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে যেভাবে মাওলা বলা হয়, সঙ্গী, বন্ধু, সাথী অর্থে প্রিয় নবী সঃ এর মাওলা বা বন্ধু হিসেবে মহান আল্লাহ নিজেকে, ফেরেশতা জিব্রাইল ও নেক মুমিনদের অভিহিত করেছেন, (সুরা তাহরিম)

 

আমাদের সমাজে আলেম উলামাদের ধর্মীয় নেতা,নির্দেশক অর্থে মাওলানা বলা হয়ে থাকে,এনিয়ে কিছু ভাই বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে ও আলহামদুলিল্লাহ এখন তারা নিরবতা অবলম্বন করছেন। আরবি না’রা শব্দের ও একাধিক অর্থ রয়েছে, আওয়াজ তোলা, ধ্বনি দেয়া, গর্জন করা (আলকামুল ওয়াজীয) কোন কোন অভিধানে নাকের স্বর ও গাধার আওয়াজ অর্থ ও বলা হয়েছে। আলকামুস নামক প্রসিদ্ধ অভিধানে না’রা শব্দের অর্থ যুদ্ধের ধ্বনি বা দামামা উল্লেখ করা হয়েছে। শব্দটির একাধিক চমৎকার অর্থ ব্যতিরেকে অরুচিকর অর্থ নিয়ে ফতোয়া দেয়া নিম্ন রুচির পরিচায়ক নয় কী? না’রা শব্দের মুল অর্থের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝা যায় শব্দটি আমাদের জিহাদী চেতানায় করাঘাত করছে,না’রা শব্দের একটি অর্থ যেহেতু যুদ্ধের ধ্বনি,শব্দটি ইঙ্গিত করছে শুধু মিছিলের আওয়াজের জন্য নয়, ইসলামদ্রোহীদের মুকাবেলায় জিহাদের মাঠে ও আল্লাহু আকবারের আওয়াজ দেয়াও অপরিহার্য। প্রয়োগিক জিহাদে যাদের অন্তর কাঁপে,ভীরুরাই না’রায়ে তাকবির শ্লোগানের বিপক্ষে কথা বলতে পারে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। লেখক: কলামিস্ট ও মুহাদ্দিস।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ