jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :




শিরিক ও বিদ্বেষমুক্ত থাকা শবেবরাতের সেরা এবাদাত যেভাবে এরাত কাটাতে পারি 

শাহ মমশাদ আহমদ

 

শবেবরাত বা শাবানের মধ্যবর্তী রাত্রি একটি ফজিলতময় রজনী,যা বিভিন্ন সুত্রের হাদীস দ্ধারা সুপ্রমানিত, হাদিস শাস্ত্রে সামান্যতম জ্ঞান রাখা কোন ব্যক্তি এরাতের গুরুত্ব অস্বীকার করতে পারেনা, এব্যাপারে তুলনামূলক বিশুদ্ধ রেওয়াত হচ্ছে।

 

عن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه وسلم
قال : يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان، فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن.

হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‘অর্ধ শাবানের রাতে আল্লাহ সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। অতপর শিরককারী ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া তার সমগ্র সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন(মুসনাদে আহমাদ, সাহীহ ইবনে হাব্বান)
বর্তমান সময়ের আলোচিত হাদিস গবেষক নাসিরুদ্দিন আলবানী রহঃ ও হাদীসটিকে সাহীহ বলেছেন।

এহাদীসের আলোকে অনেক ওলামায়ে কেরামের মতামত হচ্ছে,শবেবরাতের রাতে কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি কোন ধরনের এবাদাত না করে,শুধু সে শিরিক ও বিদ্বেষমুক্ত থাকে আল্লাহ পাক তাকে ও ক্ষমা করে দিবেন।
প্রত্যেক মুসলমানদের উচিত, আজ রাত আগমনের পুর্বেই সকল প্রকার শিরিকের কাজ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করা।

আমাদের মধ্যে সাধারণভাবে বিরাজমান একটি শিরিক হচ্ছে, লোক দেখানো এবাদাত করা, যাকে রিয়া বলা হয়,এটা হচ্ছে সুক্ষ শিরিক,বর্তমান সময়ে এশিরকে আমরা সকলেই আক্রান্ত,সামান্যতম দ্বীনী কাজ বা জনসেবা মুলক কার্যক্রম আমরা আল্লাহর জন্য রাখতে পারিনা ফেইসবুকে ঢেলে দেই,
আসুন, এ প্রবনতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি।

 

দ্বিতীয়ত আমাদের হিংসা ও বিদ্বেষ পরিত্যাগ করা জরুরী। হিংসা এমন মানসিক অসুস্ততা আমাদের অন্তর যেমনি জ্বালিয়ে দেয়, নেক আমাল ও বিনষ্ট করে দেয়।
হিংসা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে, একপ্রকার ব্যক্তিগত হিংসা, যার সাথে হিংসা করা হয় তার কোন ভালো কাজও দেখলে মনে বিরুপ ভাব সৃষ্টি হয়, তার হাসি, চলাফেরা, উন্নতমানের জামা পরা দেখলে মনে জ্বালা অনুভব হয়।
আরেক প্রকার হিংসা মাসলাকি বা দলীয়,অন্য মাসলাক বা দলের সময়োপযোগী কর্মসূচির নিন্দা করা, নিজেদের শুধু সত্য মনে করা, অন্যের বড় জমায়েত দেখলে অন্তরে জ্বালা অনুভব করা হিংসার কারণে হয়ে থাকে।

 

আসুন, আমরা হিংসা পরিত্যাগ করে গীবতা করি, গীবতা হচ্ছে অন্যের মত কল্যাণ কামনা করা আর হিংসা হচ্ছে অন্যের কল্যাণকর বিষয়ের ধ্বংস কামনা করা।

 

এছাড়া আজকের পবিত্রতম রজনীকে এবাদাতময় করে তুলতে সারা রাতকে একটি রুটিনের আওতায় নিয়ে আসতে পারি,এরাতের কোন এবাদাতই সমন্বিতভাবে প্রমাণিত নয়, নির্জনে এবাদাত করতে হবে। আমরা পবিত্র রাত্রিটিকে এভাবে কাটাতে পারি।

 

&সন্ধ্যা কালীন মাসনুন দোয়া পাঠ।

& মাগরিব নামাজ সুন্নাত সহ আদায় করে ছয় রাকাত আওয়াবীন পড়া।

 

& সুরা ইখলাস ফালাক ও নাস তিনবার পাঠ করা।
& সুরা ওয়াকেয়া তেলাওয়াত।

 

& এশার নামাজ সুন্নাত সহ ইতমেনানের সাথে আদায় করা।বিতির তাহাজ্জুদ শেষে আদায় করা।

& সুরা মুলুক তেলাওয়াত করা।

& নিজ পিতামাতার খোজ খবর নেয়া, তাদের সংস্পর্শে কিছু সময় ব্যয় করা।

& আর্থিক বা সামাজিকভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল আত্নীয় স্বজন ও বন্ধুদের খবর নেয়া,তাদের মন খুশি হবে, তাও এবাদাত।

& অযথা আড্ডা ত্যাগকরা, নিজ পরিবারের দ্বীনি অবস্থার খবর নেয়া।

& পরিবারিকভাবে দ্বীনি কোন বিষয়ের তালিম নেয়া।

& কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে কুরআন তেলাওয়াত জিকির আযকারে মত্ব থাকা।

& একাকী তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া।

& কায়মনোবাক্যে মুনাজাত করা।

& ফজরের নামাজ আদায় করা।

& শবেবরাতের কোন রোজা সুপ্রমানিত নয়, প্রতি মাসের আইয়ামে বিজের রোজা রাখা সুন্নাত, এর সর্বশেষ দিন হিসেবে রোজা রাখা যেতে পারে।
আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন।

 

লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ