jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ২৪শে রমযান, ১৪৪২ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :




“দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার” মানে কী? : শাহ মমশাদ আহমদ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফিরের জন্য জান্নাত।
[মুসলিম, তিরমিযি, ইবনে মাজাহ)

 

প্রিয় নবী (সঃ) মুমিনের জীবনকে কারাগারের জীবনের সাথে উপমা দিয়েছেন, উভয় জীবনের মাঝে অনেক সাদৃশ্য ও সামঞ্জস্য রয়েছে।

 

যৎকিঞ্চিত তুলে ধরছি।

 

& কারাগারের জীবন সীমাবদ্ধ। মুমিন জীবনও তাওহীদ ভিত্তিক বিশ্বাসের আলোকে সীমাবদ্ধ।

 

& কারাগারে যেমনি জেলকোড মেনে চলতে হয়, মুমিন জীবনে ও কুরআন সুন্নাহর নীতিমালা মেনে চলতে হয়।

 

& কারাগারে যেমনি শেকলের ভিতরে থাকতে হয়, মুমিনের জীবনেও মনকে শিকলবন্দী রাখতে হয়, যাতে শয়তান কুমন্ত্রণা দিতে না পারে।

 

& কারাগারে অসৎ চরিত্র ও অপরাধীদের অধিক্য থাকে, এদের সাথে বসবাস করতে হয়, কৌশলে দীনের দাওয়াতও দিতে হয়। দুনিয়ার জীবনে অপরাধী ও দুশ্চরিত্র লোকদের সংখ্যা বেশি, একজন মুমিনকে তাদের সাথে হেকমাতের সাথে চলতে হয়, দীনের দাওয়াত দিতে হয়।

 

& কারাগারে থাকাকালীন একজন বন্দী যেভাবে মুক্তি লাভের ঘোষণার প্রতীক্ষায় থাকে একজন মুমিন প্রতিক্ষণ জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পেতে প্রতিক্ষায় থাকে।

 

& কারাগারে সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ক্ষণ হচ্ছে প্রিয় জনের সাথে সাক্ষাতের সময়। একজন মুমিনের প্রতিক্ষিত সময় হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়, যাতে সে তার প্রভুর সাথে কথা বলতে পারে।

 

& কারাগারের খাবার দাবার চলাফেরা পরিমিত।

মুমিন জীবনের প্রতিটি কর্ম হবে পরিমিত।

অপচয় ও ইসরাফের সুযোগ নেই।

 

& কারাগারের জীবন দম্ভ ও অহংকারে আঘাত হানে।
মুমিন জীবনে কোন ধরনের অহংকার ও দম্ভ
প্রকাশের সুযোগ নেই।

 

& কারাগারের বন্দী বেশিরভাগ সময় চিন্তিত থাকে,হাসে কম, কাঁদে বেশি। একজন মুমিন ও আখেরাতের চিন্তায় চিন্তিত থাকে।কম হাসে, কাঁদে বেশি।

 

& ইউসুফ আঃ এর বাণী মতে কারাগার জীবিতদের কবরস্থান। একজন মুমিন জীবিতাবস্থায় বারবার মৃত্যু ও কবরের কথা স্মরণ করে।

 

& কারাগার একটি পরীক্ষার স্থান।
মুমিন জীবনে ও বারবার পরীক্ষা আসে।

 

& কারাগার দীর্ঘদিন অবস্থান করলে বন্ধু বান্ধব ভুলে যায়।
একজন মুমিন কঠোরভাবে দীনের উপর চলতে থাকলে অনেক বন্ধু তাকে ভুলে যায়।

 

& কারাগারে বন্দির সুস্পষ্ট পরিচয়ের জন্য শারীরিক চিহ্ন বা দাগের কথা লেখা থাকে। মুমিনের জীবনে সাজদা- অজুর কারণে কপাল ও হাতের চিহ্ন আল্লাহর কাছে সৌভগ্যের নির্দশন হিসেবে তুলে ধরা হবে।

 

& কারাগার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনেক সময় রিমান্ডে নেয়া হয়, নির্যাতন করা হয়। মুমিন জীবনে ও বারবার জুলুম নির্যাতন আসে।

 

& কারাগারে কয়েকবার বন্দি গননা করা হয়।
মুমিন জীবনে নিজের কর্মের হিসাব নিতে হয়, আত্নসমালোচনা করতে হয়।

 

& কারাগার থাকাকালীন একজন বন্দী চাইলে নিরবে নিবৃত্তে একমনে আল্লাহর এবাদাত করতে পারে। একজন মুমিন ও শেষ রাতে একাকী তাহাজ্জুদ পড়ে একমনে আল্লাহর এবাদাত করতে পারে।

 

& কারাগারে বিশেষ উপলক্ষে বন্দীদের মুক্তি দেয়া হয়।
মুমিনের জীবনে ও রমজান, শবেকদর সহ ক্ষমা পাওয়ার বিশেষ উপলক্ষ আসে।

 

& কারাগারে একজন বন্দী সদাচরনের প্রতি সচেষ্ট থাকে, যাতে তার কোন মন্দ রিপোর্ট না যায়। একজন মুমিন ও সারা জীবন গুনাহ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা অব্যাহত রাখে, যাতে আল্লাহর কাছে মন্দ রিপোর্ট না যায়।

 

& কারাগারে মজলুম বন্দীদের মধ্যে একটি মজবুত ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মুমিন জীবনে ও যতবেশি জুলুম নির্যাতন আঘাত হানে, মুসলমানদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব আরও সুদৃঢ় হয়।

 

& কারাগারে দীর্ঘদিন থাকলে জীবনের প্রতি ভালোবাসা হ্রাস পায়। মুমিন জীবনেও শাহাদাতের তামান্নায় জীবনের প্রতি ভালবাসা থাকেনা। হে আল্লাহ! আমাদের দীনের উপর অটুট রাখুন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ