jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ২৪শে রমযান, ১৪৪২ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :




মৃত্যুমুখেও মজলুমরা যে কারণে হাসেন? : শাহ মমশাদ আহমদ

ইতিহাস খ্যাত জালেম শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। সামান্য সমালোচনা ও প্রতিবাদ তার সহ্য হতনা, এজন্য হাজ্জাযের শাসনামলে অসংখ্য আলেমদের তার রোষানলে পড়তে হয়েছে, অনেকেই জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে শাহাদাত বরন করেছেন।

 

প্রখ্যাত তাবেয়ী হযরত সাঈদ বিন জুবায়ের (রঃ) তার জুলুমের প্রতিবাদ করেন, রুখে দাড়ান। অনেক প্রচেষ্টার পর তাঁকে গ্রেফতার করে হাজ্জাজের সামনে আনা হয়।

 

হাজ্জাজ তাঁকে দেখে তার নাম নিয়ে ব্যঙ্গ করেন।
সাঈদ উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ করেন।

 

হাজ্জাজ, হে বন্দি তুমি তো বড্ড সাহস দেখাচ্ছ, এখনই
আমি তোমাকে হত্যা করব। আমি মৃত্যু ভয় করিনা।

 

হাজ্জাজ, বল তোমাকে কিভাবে হত্যা করব?
আপনার যা পছন্দ সেভাবেই করেন।

 

হাজ্জাজ, আমি যদি তোমাকে ক্ষমা করে দেই- কেমন হয়?
আমাকে ক্ষমা বা হত্যা করার ক্ষমতা আপনার হাতে নেই, আল্লাহর হাতে।

 

হত্যা করা হলে শহীদী মর্যাদা পাব, আর ছেড়ে দিলে গাজী হব,দুটিই আমার সৌভাগ্যের, হারাবার কিছু নেই।

 

হাজ্জাজ হযরত সাঈদ বিন জুবায়েরের সাহসী কথা শুনে অগ্নিশর্মা হয়ে জাল্লাদকে হত্যার নির্দেশ দিলেন কিন্তু অবাক ব্যাপার বন্দী মুচকি হাসছিলেন।

 

হে বন্দী তুমি হাসছ কেন? হাজ্জাজ হুংকার দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।

 

হযরত সাঈদ বিন জুবায়ের বললেন, আমি হাসলাম একজন মুসলমান হয়েও অন্য মুসলমানকে হত্যা করার তোমার দুঃসাহস এবং হিংসা দেখে। আর মহান আল্লাহর ধৈর্যশীলতা দেখে হাসলাম, যিনি তোমার মত জালেমের প্রতিশোধ নিতে বিলম্ব করছেন। একথা বলে হাসিমুখেই শাহাদাত বরন করলেন। হে আল্লাহ, তোমার রাহে শাহাদাত নাসীব কর। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ