jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ২৪শে রমযান, ১৪৪২ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :




ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী শ্যালিকা, স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বিয়ে!

ডেস্ক রিপোর্ট :: স্ত্রীকে তালাক দেয়ার চার দিনের মাথায় স্কুলছাত্রী শ্যালিকাকে (১৫) বিয়ে করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নবম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রী শ্যালিকা ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে মামলা থেকে রক্ষা পেতে বিয়ে করেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা তাকে সমাজচ্যুত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। অভিযুক্ত জুয়েল হাওলাদার বরিশালের মুলাদী উপজেলার মৃত খলিল হাওলাদারে ছেলে।

 

 

স্থানীয়রা জানান, আট মাস আগে জুয়েল হাওলাদার পার্শ্ববর্তী মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালোই চলছিল। এরমধ্যে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরী শ্যালিকার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময় শ্যালিকাকে নিয়ে বিভিন্নস্থানে ঘুরতে যান এবং আবাসিক হোটেলে রাত কাটান। স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেলে কয়েক মাস আগে জুয়েল শ্যালিকাকে নিয়ে ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যান। এরপর প্যাদারহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকা শুরু করেন। এক সঙ্গে থাকার ফলে শ্যালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শ্যালিকা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। বিয়ে না করলে জুয়েলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করার হুমকিও দেয় সে। মামলা থেকে রক্ষা পেতে কাজিরচর ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী নূর শরীফের কাছে জুয়েল হাওলাদার গত ২৫ এপ্রিল স্ত্রীকে খোলা তালাক দেন এবং ২৯ এপ্রিল শ্যালিকাকে বিয়ে করেন। জুয়েলের স্ত্রী জানান, বিয়ের মাসখানেক পর জানতে পারেন তার স্বামীর চরিত্র ভালো না। তাকে বিয়ের আগেও জুয়েলের সঙ্গে একাধিক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তিনি বিয়ের পর এগুলো জানতে পারেন। তবে সংসার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি জুয়েলকে কিছু বলেননি। তিনি বলেন, ‘জুয়েল একটা লম্পট। সে তার (শ্যালিকা) সঙ্গে বেশিদিন ঘর করবে না। তাকেও ছেড়ে দিয়ে অন্য কাউকে ধরবে। সে দেখতে আমার চেয়ে সুন্দর। তবে তার ভালোমন্দ বিবেচনার বয়স হয়নি। সে সহজ-সরল। আমার মতো তারও কপাল পুড়বে।’

 

 

অভিযুক্ত জুয়েল হাওলাদার মোবাইল ফোনে জানান, প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে তিনি আট মাসের মতো সংসার করেছেন। কিন্ত তার সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। এ কারণে কয়েকদিন আগে তাকে তালাক দিয়ে তার ছোট বোন বিয়ে করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিয়েতে তার (শ্যালিকা) সম্মতি ছিল। এ বিষয় নিয়ে কে কী বলল, তাতে তার কিছু যায় আসে না।’

 

কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী নূর শরীফ জানান, জুয়েল হাওলাদার গত ২৫ এপ্রিল স্ত্রীকে খোলা তালাক দেন। এরপর ২৯ এপ্রিল এক মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় পাত্রীর বয়স ১৮ বছর প্রমাণে কাগজপত্র দেখিয়েছেন। এরপর তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি করানো হয়েছে।
কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলহাজ মন্টু বিশ্বাস বলেন, ‘জুয়েল হাওলাদারের বিরুদ্ধে নারী উত্ত্যক্তের বেশ কয়েকটি অভিযোগের কথাও শুনেছি। সম্প্রতি জানতে পেরেছি জুয়েল স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তার ছোট বোনকে বিয়ে করেছেন। যতদূর জেনেছি জুয়েল হাওলাদার যাকে বিয়ে করেছেন সে নাবালিকা কিশোরী। আইন অনুযায়ী ওই কিশোরীর বিয়ের বয়স হয়নি। পাশাপাশি খোলা তালাক রেজিস্ট্রি করার চার দিনের মাথায় নাবালিকা কিশোরীর বিবাহ রেজিস্ট্রি করা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা আমার বোধগম্য নয়। বিষয়টি নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছ জানতে চাওয়া হবে।’
এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ