jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৭ই সফর, ১৪৪৩ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :




মহানবী (সা.) কোন ধরনের জামা পরতেন

পাঞ্জাবি, নাকি জুব্বা সুন্নতি পোশাক—এ বিষয়ে ‘ঠাণ্ডা যুদ্ধ’ চলমান। কেউ কেউ বলেন, গোল জামা বা জুব্বা হলো প্রিয় নবীর সুন্নত। আমরা মনে করি, মাদানি পাঞ্জাবি, কাটা জামা, কাবুলি স্যুট, শেরোয়ানি ইত্যাদি পরিধান করলেও সুন্নত আদায় হয়ে যাবে, যদি এগুলোর সঙ্গে ইসলামী পোশাকের অন্যান্য শর্ত পূরণ করা হয়। নির্দিষ্টভাবে গোল জামা বা জুব্বাকে সুন্নতি পোশাক বলা অনুচিত। কেননা হাদিস শরিফের বিশাল ভাণ্ডারে পর্যাপ্ত অনুসন্ধানের পরও গোল জামা বা জুব্বা সুন্নত হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো হাদিস পাওয়া যায় না। অন্যদিকে মহানবী (সা.) থেকে শেরোয়ানি জাতীয় কাটা পাঞ্জাবি পরিধান করার প্রমাণ সহিহ হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে।

মহানবী (সা.)-এর গোল জামা পরিধান : তবে হ্যাঁ, বিভিন্ন হাদিস থেকে এ ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম গোল জামা পরিধান করেছেন। এর প্রমাণ— প্রথমত, হাদিস শরিফে এসেছে, ‘রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক ছিল কমিস।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৭৬২)

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় সব মুহাদ্দিস এ কথা বলেছেন যে এই ‘কমিস’ প্রিয় পোশাক হওয়ার কারণ হলো এর মাধ্যমে বেশি পরিমাণে সতর ঢাকা যায়। আর প্রচলিত কাটা জামার মাধ্যমে সেটা পুরোপুরি সম্ভব নয়। এ জন্য এসব জামার সঙ্গে পায়জামা পরিধান করতে হয়। তাই এই হাদিসের মধ্যে এ ইশারা আছে, মহানবী (সা.)-এর বেশির ভাগ জামা ছিল গোল বা জুব্বা।

দ্বিতীয়ত, বিশুদ্ধ হাদিস থেকে জানা যায়, মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম এক কাপড়ে নামাজ আদায় করতেন। আর সে ক্ষেত্রে সেটা যে প্রচলিত কাটা পাঞ্জাবি দিয়ে সম্ভব নয়, সেটা বলাই বাহুল্য।

সহিহ বুখারি শরিফে বর্ণিত হাদিসে দেখা যায়, ওমর (রা.)-এর কাছে নামাজের পোশাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে তাঁরা কয়টি কাপড় দিয়ে নামাজ আদায় করতেন, তখন তিনি বলেছেন, ‘ফি তিবানিন ও কমিসিন, অর্থাৎ একটি অন্তর্বাস ও একটি জামা দিয়ে আমরা নামাজ আদায় করেছি।’ (সহিহ বুখারি : ১/৫৩)

এ কথা এ হাদিস থেকে স্পষ্ট যে শুধু অন্তর্বাস ও প্রচলিত কাটা পাঞ্জাবি দিয়ে নামাজা আদায় করা সম্ভব নয়।

গোল জামা আরব্য সংস্কৃতির অংশ : তৃতীয়ত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামগ্রিক জীবনযাপনে আরব্য সংস্কৃতির একটি প্রভাব দেখা যায়। পানাহার, পোশাক, বিবাহ-শাদি থেকে শুরু করে বহু বিষয়ে আরব্য কালচারের একটা ছাপ তাঁর জীবনে দেখা যায়। তবে হ্যাঁ, তিনি জাহেলিয়াতকে প্রশ্রয় দেননি। আবার অনেক ক্ষেত্রে সে সংস্কৃতির মধ্যে পরিবর্তন এনেছেন এবং সংস্কার করেছেন।

আর আরব্য সংস্কৃতিতে দেখা যায়, আরবরা গোল জামাই পরিধান করেন। এতে খুব সহজেই বোঝা যায় যে মহানবী (সা.) গোল জামা বা জুব্বা পরিধান করেছেন। কিন্তু এর সঙ্গে এ কথাও স্বীকার করতে হবে যে মহানবী (সা.) আরব্য রীতির মধ্যে পরিবর্তন এনে নিসফে ছাক বা হাঁটু ও পায়ের গোড়ালির মাঝখান পর্যন্ত পোশাক পরিধান করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে অসংখ্য হাদিস আছে যে প্রিয় নবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের পোশাক ছিল নিসফে ছাক পর্যন্ত। এসব হাদিসেও মহানবী (সা.)-এর পোশাক দীর্ঘ বা গোল জুব্বা হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত আছে।

কাটা জামাও পরেছেন : অন্যদিকে যে হাদিসে মহানবী (সা.) থেকে কাটা জামা পরিধান করার প্রমাণ পাওয়া যায়, হাদিসটি হলো—আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) একবার সুফিদের জামার মতো সেলাইযুক্ত একটি জুব্বা বের করেছেন। জুব্বাটি বের করে তিনি বলেছেন, এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুব্বা, যার বুকের প্লেটে ফিতার মতো রেশমি কাপড় দিয়ে সেলাই করা ছিল। আর এর দুই ফাটলে রেশমি কাপড় দিয়ে নকশা করা ছিল।

তিনি আরো বলেছেন, মহানবী (সা.)-এর এ জুব্বা আয়েশা (রা.)-এর কাছে ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর এটি আমার হাতে এসেছে…।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৩০২)

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় মোল্লা আলী কারি (রহ.) লিখেছেন : ওই জামার সামনে ও পেছনের অংশে কাটা ছিল, যা রেশমি কাপড় দিয়ে সেলাই করা ছিল। (মেরকাত : ৮/২০৩)

ওলামায়ে কেরাম এ হাদিসের আলোকে বলেছেন, জামা দুইভাবে কর্তিত হতে পারে। এক. শেরোয়ানির মতো সামনে ও পেছনে ঠিক মাঝখানে কাটা জামা। দুই. জামার দুই পাশে কাটা জামা। তাই কাটা পাঞ্জাবিকে সুন্নাহবিরোধী পোশাক বলার সুযোগ নেই।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ