jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :
«» ছাতকের ১০টি ইউনিয়নে ৫০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল «» শান্তিগঞ্জে শালিস বৈঠকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০ «» বিশ্বনাথে পলাতক আসামি সেবুল মিয়া গ্রেফতার «» উদ্বোধনী দিনেই লড়বে বাংলাদেশ, টি-২০ বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ «» শান্তিগঞ্জে তরবিয়তি মজলিসে কোরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করতে হবে- মোহন «» সিলেটে ছাত্রলীগের মানববন্ধন «» নবীগঞ্জে সৌদি ফেরত তরুণী ধর্ষণকারী গ্রেফতার «» কৃষকদের ভর্তুকি দিতে নিষেধ করা হয়েছিল, কিন্তু আমরা শুনিনি: প্রধানমন্ত্রী «» সিলেট বিভাগের ৪৪ ইউনিয়নে বদলে গেল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ «» প্রেমিকার আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট, প্রেমিক গ্রেফতার




মুজাহিদে মিল্লাত প্রিন্সিপাল রহ. যেভাবে বক্তব্য দিতেন : শাহ মমশাদ আহমদ

সিলেটে জামেয়া মাদানিয়ার সাপ্তাহিক বক্তব্য অনুশীলন অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সভায় প্রতি বছর কিছু কথা বলি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বাদ জোহর ছাত্র ভাইদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বললাম। বলতে গেলে আমি ও ছাত্রদের মত এক বক্তা ছিলাম, যাতে ছাত্ররা অনুপ্রাণিত হয়। সভার সভাপতি ছিলেন ছাত্র সংসদের সহসভাপতি মাওলানা মুশফিকুর মামুন। সহ-সভাপতি ছিলেন ছাত্র সংসদের সাবেক জি,এস
মাওলানা ফাহাদ আমান। “বক্তব্য কিভাবে দিতে হয়” বিষয়ে আলোচনার সময় দু-তিন দশক পুর্বের মুজাহিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা হাবীবুর রহমান রহঃ এর তেজোদ্দীপ্ত, ঈমানী চেতনায় উজ্জীবিত বক্তব্যের কিছু চিত্র মানসনেত্রে ভেসে আসে। এরই আলোকে কিছু কথা বলি।

 

★ প্রিন্সিপাল রহ কাছ থেকে আমরা শিখেছি বক্তব্য যে বিষয়ে দেয়া হবে, এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কিভাবে দেয়া হবে।

 

★স্থান কাল পাত্র অনুধাবণ করে বক্তব্য প্রদানের অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন উস্তাদে মুহতারাম প্রিন্সিপাল রহ।

 

★বালাগাতের সানয়াতে বারায়াত ফুটে উঠত হুজুরের খুতবার মাধ্যমে। ওয়াজ মাহফিল আর আলোচনা সভায় খুতবা শুনেই বুঝে নিতাম হুজুর কোন বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন।

 

★ প্রতিবাদ আর বিক্ষোভ সমাবেশে সংক্ষিপ্ত খুতবা শ্রুতিমধুর উচ্চকণ্ঠের হলেও ওয়াজ মাহফিলে
নরম কন্ঠে খুতবা পড়তেন। প্রিয় নবী সঃ এর প্রতি
দরুদ পেশের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে যেতেন।

 

★প্রতিবাদ সভা, আলোচনা সভা আর ওয়াজ মাহফিলে সভাপতি ও অতিথিদের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার সাথে সম্বোধন করতেন। আমাদের অনেক বক্তা প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির নাম সম্বোধনও খুব তেজস্বীভাবে করে থাকেন,
যা অবশ্যই বেমানান। সভাপতির নাম সম্বোধন করে
মুলত সভার আমীরের প্রতি অনুগত্য, শ্রদ্ধার প্রকাশ
করা হয়, সব ধরনের সভায় তা মুলায়েম কন্ঠে হওয়া
উচিত।

 

★বক্তব্য দানকালে লক্ষ্য করতাম, হুজুর দু পায়ে ব্যবধান রেখে দাড়াতেন। আমাদের ও নির্দেশনা দিতেন। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বর্ননার সময় হুজুর ডান পা সামনে এবং বাম পা পিছনে রাখতেন।

 

★হুজুরের বাংলা শব্দ উচ্চারণ খুব চমৎকার ছিল। “শব্দ উচ্চারনে বক্তব্যের মাধুর্যতা নিহিত” হুজুরের
মুখ থেকে একথা বারবার শুনেছি।

 

★ পূর্ববর্তী বক্তাদের বক্তব্য পুর্নবার উল্লেখ করাকে খুব অপছন্দ করতেন, খুবই সংক্ষেপ হোক নতুন কোন
পয়েন্ট থাকলে বলার জন্য আমাদের উৎসাহিত করতেন।

 

★ মুখতাসার জামাতে পড়ি।এরশাদ সরকারের
বিরুদ্ধে দেশে তুমুল আন্দোলন চলছিল। এক সমাবেশে হুজুরের উপস্থিতে বক্তব্য রাখি। সন্ধা পর হুজুর ডেকে আনলেন। দুরুদুরু বুকে উপস্তিত হলাম। সালাম দেয়ার পর হাস্যমুখ চেহারা দেখে ভয় উদাও হয়ে গেল। আমার বক্তব্যের উচ্চসিত প্রসংশা করলেন। বিদায়ক্ষনে বললেন, গনতান্ত্রিক অধিকার না বলে জনগণের মৌলিক অধিকার বলিও।আমরা খেলাফত প্রতিষ্ঠা সংগ্রাম করছি, গণতন্ত্রের নয়।
স্মরণ হল, আমি বক্তব্যে বলে ছিলাম, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। মুলত এবিষয়ে সতর্ক করার জন্য আমাকে ডেকেছিলেন কিন্তু আমাকে লজ্বা না দিয়ে হেকমত অবলম্বন করলেন। অথচ আমি ছিলাম মুখতাসার জামাতের ষোল বছরের ছাত্র। প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান রহঃ ছিলেন এক অনন্য আদর্শ ব্যক্তিত্ব।তার জীবনের প্রতিটি পরতে রয়েছে আমাদের জন্য শিক্ষা।
আল্লাহ হুজুরের কবরকে জান্নাতের উচু মাকাম বানিয়ে দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ